বাংলাদেশ ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন সন্ধ্যার মধ্যে উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম কুবি শিক্ষার্থীদের রাবিতে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের পুলিশ-বিজিবির ধাওয়া মেহেন্দিগঞ্জে অজ্ঞাতনামা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। মুন্সীগঞ্জে গায়েবানা জানাযা থেকে ঈমাম ও বিএনপি নেতাকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ কোটা আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিবৃতি চলমান পরিস্থিতিতে রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি আপাতত স্থগিত: উপাচার্য বিদেশের পাঠানো টাকা চাইতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী স্বামী রাজশাহীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত চট্রগ্রামের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ওয়াসিমের জানাজায় মানুষের ঢল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার রাস্তায় সমবায় সমিতি ভবনের ট্যাংকির ময়লা: জনদুর্ভোগ মুন্সীগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা, আহত ৫ হরিপুরে, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে কর্মী মিটিং ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গৌরীপুরে উদীচী কার্য়ালয়ে হামলা ও ভাংচুর স্ত্রীর যৌতুক মামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারাগারে

পূর্বধলায় অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না শিশু স্বাধীনকে 

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৩
  • ১৬৮৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্বধলায় অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না শিশু স্বাধীনকে 

আব্দুল আল মামুন, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনা পূর্বধলায় স্বাধীন (৮) নামের এক শিশুর শিকলবন্দী জীবন অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না পরিবারটি। যতদিন যাচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীন এই ছোট শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তার বৃদ্ধা নানি জমেলা খাতুন।
মানসিক ভারসাম্যহীন শিশুটি নেত্রকোনা জেলা পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের আন্দা গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর নাতি।
খোঁজ নিয়ে যানা গেছে, স্বাধীন নামের ওই শিশুটির জন্মের আঠারো মাস বয়সে তার মা শিরিনা খাতুন মৃত্যুবরণ করেন, এবং মৃত্যুর কিছুদিন পর থেকে বাবা উধাও, এই শিশুটির ভবিষ্যতে কথা চিন্তা করে বৃদ্ধা নানী জমেলা খাতুন সেই আঠারো মাস বয়স থেকেই লালনপালন করে আসছেন, দিন যত যাচ্ছে এই শিশুটির মানসিক সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন বৃদ্ধ নানি।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, জমেলা খাতুনের স্বামী ২৫ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন তাদের দুই মেয়ে বড় মেয়ের বিয়ে পর স্বামী সন্তান নিয়ে সংসার করছেন। ছোট মেয়ে এক ছেলে জন্ম দেওয়ার আঠারো মাস পর মৃত্যুবরণ করেন। সেই থেকেই অসহায় নানী অন্যের বাড়িতে কাজ করে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছেন, নিজে খাচ্ছেন নাতিকেও খাওয়াচ্ছেন।
জমেলা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চাপড়া ঘর কোন রকম কাপড়ের বেড়া দিয়ে রাত্রি যাপন করছেন, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্য সম্মত শৌচাগার ব্যবস্থা নেই। ঘরের বিছানায় অসুস্থ অবস্থায় স্বাধীনকে দেখা গিয়েছে। প্রায় সময় উলঙ্গ অবস্থায় ঘুরাফেরা করে শিশুটি কোন রকম ঘর থেকে ছাড়া পেলেই বিভিন্ন দিকে ছোটাছুটি করে, পথচারী পেলে পাঁচ টাকা দাবী করে, অনেক সময় এলাকাবাসী সহ পথচারীরা বিরক্তিবোধ করে এজন্যই ঘরে আটকে রেখেই তার খাওয়া-দাওয়া, ও ঘুমানো ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন এভাবে থেকে অনেকটাই উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়েছেন শিশুটি।
স্বাধীনের বয়োবৃদ্ধা নানি জমেলা খাতুন জানান, যখন থেকে নাতির বয়স ২ বছর তখন জ্বর হয়েছিলো সে থেকেই মানসিক সমস্যা লক্ষ্য করছি। গ্রাম্য কবিরাজি চিকিৎসাসহ ধোবাউড়া নামের একটি এলাকায় নিয়ে সেখানে ১৫দিন থেকে কবিরাজের চিকিৎসা দেওয়ার পরও উন্নতি না হওয়াই এরপর পূর্বধলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে একজন ডাক্তার দেখানো হয়েছে কিন্তু ভালো হয়নি। সংসারের অভাব অনটনের কারণে উন্নত চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। নানির উন্নত চিকিৎসার জন্য এলাকার অনেক লোকের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।
সরকারের দেয়া বিধবা ভাতার টাকা পান তিনি। বর্তমানে সেই টাকা দিয়ে চলতে দেখা দেয় নানা ধরণের সমস্যা, এলাকার মানুষের সহযোগিতায় এবং আমার একটি গরু ছিলো তা বিক্রি করে ২ শতাংশ জায়গা কিনেছি। সরকারে দেয়া ঘর পেলে হয়তো মানসিক ভারসাম্যহীন নাতিকে নিয়ে মাথা গুজার ঠাই হতো।
তিনি আরও বলেন, আমার বাড়িতে টিউবওয়েল নেই অন্যের বাড়ি থেকে পানি এনে খাই সামনে শীতকাল আসছে ভাঙা ঘরে এই ছোট ভারসাম্যহীন নাতিকে নিয়ে কিভাবে থাকবো? সমাজে অনেক দানশীল ব্যক্তি আছে তারা যদি মা হারা এই নাতিটাকে চিকিৎসা করে আমাদের থাকার একটি ব্যবস্থা করে দিতেন তা হলে সারাজীবন তার জন্য দোয়া করতাম।
আপলোডকারীর তথ্য

Banglar Alo News

hello
জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন

পূর্বধলায় অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না শিশু স্বাধীনকে 

আপডেট সময় ০৪:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৩
আব্দুল আল মামুন, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনা পূর্বধলায় স্বাধীন (৮) নামের এক শিশুর শিকলবন্দী জীবন অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না পরিবারটি। যতদিন যাচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীন এই ছোট শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তার বৃদ্ধা নানি জমেলা খাতুন।
মানসিক ভারসাম্যহীন শিশুটি নেত্রকোনা জেলা পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের আন্দা গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর নাতি।
খোঁজ নিয়ে যানা গেছে, স্বাধীন নামের ওই শিশুটির জন্মের আঠারো মাস বয়সে তার মা শিরিনা খাতুন মৃত্যুবরণ করেন, এবং মৃত্যুর কিছুদিন পর থেকে বাবা উধাও, এই শিশুটির ভবিষ্যতে কথা চিন্তা করে বৃদ্ধা নানী জমেলা খাতুন সেই আঠারো মাস বয়স থেকেই লালনপালন করে আসছেন, দিন যত যাচ্ছে এই শিশুটির মানসিক সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন বৃদ্ধ নানি।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, জমেলা খাতুনের স্বামী ২৫ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন তাদের দুই মেয়ে বড় মেয়ের বিয়ে পর স্বামী সন্তান নিয়ে সংসার করছেন। ছোট মেয়ে এক ছেলে জন্ম দেওয়ার আঠারো মাস পর মৃত্যুবরণ করেন। সেই থেকেই অসহায় নানী অন্যের বাড়িতে কাজ করে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছেন, নিজে খাচ্ছেন নাতিকেও খাওয়াচ্ছেন।
জমেলা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চাপড়া ঘর কোন রকম কাপড়ের বেড়া দিয়ে রাত্রি যাপন করছেন, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্য সম্মত শৌচাগার ব্যবস্থা নেই। ঘরের বিছানায় অসুস্থ অবস্থায় স্বাধীনকে দেখা গিয়েছে। প্রায় সময় উলঙ্গ অবস্থায় ঘুরাফেরা করে শিশুটি কোন রকম ঘর থেকে ছাড়া পেলেই বিভিন্ন দিকে ছোটাছুটি করে, পথচারী পেলে পাঁচ টাকা দাবী করে, অনেক সময় এলাকাবাসী সহ পথচারীরা বিরক্তিবোধ করে এজন্যই ঘরে আটকে রেখেই তার খাওয়া-দাওয়া, ও ঘুমানো ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন এভাবে থেকে অনেকটাই উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়েছেন শিশুটি।
স্বাধীনের বয়োবৃদ্ধা নানি জমেলা খাতুন জানান, যখন থেকে নাতির বয়স ২ বছর তখন জ্বর হয়েছিলো সে থেকেই মানসিক সমস্যা লক্ষ্য করছি। গ্রাম্য কবিরাজি চিকিৎসাসহ ধোবাউড়া নামের একটি এলাকায় নিয়ে সেখানে ১৫দিন থেকে কবিরাজের চিকিৎসা দেওয়ার পরও উন্নতি না হওয়াই এরপর পূর্বধলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে একজন ডাক্তার দেখানো হয়েছে কিন্তু ভালো হয়নি। সংসারের অভাব অনটনের কারণে উন্নত চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। নানির উন্নত চিকিৎসার জন্য এলাকার অনেক লোকের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।
সরকারের দেয়া বিধবা ভাতার টাকা পান তিনি। বর্তমানে সেই টাকা দিয়ে চলতে দেখা দেয় নানা ধরণের সমস্যা, এলাকার মানুষের সহযোগিতায় এবং আমার একটি গরু ছিলো তা বিক্রি করে ২ শতাংশ জায়গা কিনেছি। সরকারে দেয়া ঘর পেলে হয়তো মানসিক ভারসাম্যহীন নাতিকে নিয়ে মাথা গুজার ঠাই হতো।
তিনি আরও বলেন, আমার বাড়িতে টিউবওয়েল নেই অন্যের বাড়ি থেকে পানি এনে খাই সামনে শীতকাল আসছে ভাঙা ঘরে এই ছোট ভারসাম্যহীন নাতিকে নিয়ে কিভাবে থাকবো? সমাজে অনেক দানশীল ব্যক্তি আছে তারা যদি মা হারা এই নাতিটাকে চিকিৎসা করে আমাদের থাকার একটি ব্যবস্থা করে দিতেন তা হলে সারাজীবন তার জন্য দোয়া করতাম।