বাংলাদেশ ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন সন্ধ্যার মধ্যে উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম কুবি শিক্ষার্থীদের রাবিতে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের পুলিশ-বিজিবির ধাওয়া মেহেন্দিগঞ্জে অজ্ঞাতনামা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। মুন্সীগঞ্জে গায়েবানা জানাযা থেকে ঈমাম ও বিএনপি নেতাকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ কোটা আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিবৃতি চলমান পরিস্থিতিতে রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি আপাতত স্থগিত: উপাচার্য বিদেশের পাঠানো টাকা চাইতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী স্বামী রাজশাহীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত চট্রগ্রামের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ওয়াসিমের জানাজায় মানুষের ঢল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার রাস্তায় সমবায় সমিতি ভবনের ট্যাংকির ময়লা: জনদুর্ভোগ মুন্সীগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা, আহত ৫ হরিপুরে, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে কর্মী মিটিং ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গৌরীপুরে উদীচী কার্য়ালয়ে হামলা ও ভাংচুর স্ত্রীর যৌতুক মামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারাগারে

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে গাজীর গান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৫৬:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০২২
  • ১৭১৪ বার পড়া হয়েছে

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে গাজীর গান

স্বীকৃতি বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, আচার আচরণ, জীবন- যাপন প্রণালী, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস এবং শিল্প – বিনোদন ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা বিশ্বাস যা দীর্ঘদিন ধরে মানুষ লালন পালন ও চর্চা করেন তাকে বলে লোক সংস্কৃতি। লোকসংস্কৃতির মূল নির্যাস নিহিত আছে ‘লোক’ কথাটির মধ্যে। লোক সংস্কৃতির জন্ম ও বেড়ে ওঠা মানুষের কর্ম ও চিন্তায় যা  সাধারণ মানুষের মুখে মুখে যুগ যুগ ধরে প্রবাহমান। লোক সংস্কৃতিগুলো বস্তু ও অবস্তুর উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
সৃষ্টির শুরুতে মানুষ খাদ্য, বস্ত্র,বাসাস্থান, রোগব্যাধি,ঝড়,বৃষ্টি, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও বন্য প্রাণীর আক্রমণসহ নানাবিধ প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে বেড়ে ওঠে। খাদ্য সমস্যা প্রকট হওয়ায় মানুষ কৃষিকে পেশা হিসাবে গ্রহন করে।
আর তাই লোক সংস্কৃতি কৃষিকে ঘিরে গড়ে উঠে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি বিরাজমান করছে। আর এই কৃষিকাজে চাষাবাদের জন্য প্রাচীনকাল থেকে যেমন গরু ব্যবহার হয়ে আসছে তেমনি গরুর দুধ ও মাংস প্রিয় খাদ্য হিসাবে সর্বোজন বিদিত ছিল।
আর তাই সন্তান লাভ, রোগব্যাধির উপশম, অধিক ফসল উৎপাদন, গো-জাতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতিসহ যেকোন ধরনের  মনস্কামনা পূরণের জন্য  জাতি ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে“গাজীর গান”-এর পালা দেওয়া হতো এবং কিছু লৌকিক কার্যক্রমসহ গান পরিবেশন করা হয় যা দ্বাবিংশ শতাব্দীতেও প্রচলিত আছে।
বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চলে পট বা চিত্র দেখিয়ে গাজীর গান গেয়ে বেড়াত বেদে সম্প্রদায়ের একটি অংশ। তার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফরিদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট  নরসিংদী,সমূদ্র তীরবর্তী যশোর,ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা,খুলনা,বাগেরহাট,সাতক্ষীরা অঞ্চলেই এমন বেদেদের বিচরণ ছিল বেশি। এ সম্প্রদায়ের মানুষ গ্রামে গ্রামে গিয়ে গাজীর গান গেয়ে ধান অথবা টাকা নিতো, যা দিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। এভাবে করে একসময় গাজীর গান বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে যায়। যা পরবর্তী সময়ে মূলস্রোতধারার হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকেরা গাজীর গানের দল গঠন করে বিভিন্ন এলাকায় গান গেয়ে বেড়ায়।
মূল গানে প্রথমে গাজীর প্রশংসা করা হয়। পূবেতে বন্দনা করি পূবের ভানুশ্বর। এদিকে উদয় রে ভানু চৌদিকে পশর …তারপরে বন্দনা করি গাজী দয়াবান। উদ্দেশে জানায় ছালাম হেন্দু মোছলমান’ বন্দনা তথা প্রশংসার পরে গাজীর জীবন বৃত্তান্ত, দৈত্য-রাক্ষসের সঙ্গে যুদ্ধ, রোগ-মহামারী, বালা-মুসিবত, খারাপ আত্মার সাথে যুদ্ধ, অকুল সমুদ্রে ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে পুণ্যবান ভক্ত সওদাগরের নৌকা রক্ষার কাহিনী এসবে গানে বর্ণনা করা হয়।
এছাড়া গানের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ, বিচার ও সমস্যা-সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। কিছু কিছু গানে দধি ব্যবসায়ী গোয়ালার ঘরে দুগ্ধ থাকা সত্ত্বেও গাজীকে না দেওয়ার শাস্তি বর্ণনা করা হয়।
একটি গানে ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, গাজী পীর জমিদারের অত্যাচার থেকে প্রজা সাধারণকে রক্ষা করেতেন। এমনকি কোনো কোনো ভক্ত মামলা জয়ী হওয়ার আশ্বাসও ছিলো একটি গানে: গানটির ছন্দ ছিলো এরকম- গাজী বলে মোকদ্দমা ফতে হয়ে যাবে। তামাম বান্দারা মোর শান্তিতে থাকিবে এরূপ গানে ধর্মীয় ও বৈষয়িক ভাবনা একাকার ছিলো।
গাজীর গানের আসরে কারবালার ময়দান, কাশ্মীর, মক্কার কাবাগৃহ, হিন্দুদের মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানগুলো বিশেষ চিহ্নে আঁকা হয়। অনেক সময় এসব চিহ্ন মাটির সরা বা পাতিলেও আঁকা হয়। পট হচ্ছে মূলতঃ মারকিন কাপড়ে আঁকা একটি চিত্রকর্ম, যা প্রস্থে চার ফুট, দৈর্ঘ্যে সাত-আট ফুটের মতো। মাঝখানের বড় ছবিটি পীর গাজীর। তার দুই পাশে ভাই কালু ও মানিক। গাজী বসে আছে বাঘের ওপর। এই ছবিটি কেন্দ্র করে আরও আছে কিছু নীতি বিষয়ক ছবি। মনোরম ক্যানভাসের এ পটটির বিভিন্ন অংশের ছবি লাঠি দিয়ে চিহ্নিত করে গীত গাওয়া হয়। গানের দলে ঢোলক ও বাঁশিবাদক এবং চার-পাঁচজন দোহার থাকে। এদের দলনেতা গায়ে আলখাল্লা ও মাথায় পাগড়ি পরিধান করে একটি আসা দন্ড হেলিয়ে-দুলিয়ে এবং লম্বা পা ফেলে আসরের চারদিকে ঘুরে ঘুরে গান গায়। আর দোহাররা বাদ্যের তালে তালে এ গান পুনরাবৃত্তি করে।
সমাজে বসবাসরত হিন্দু- মুসলিম – বৌদ্ধ – খ্রীস্টান নারী-পুরুষ, শিশু কিশোর সকলে মিলেমিশে একই মঞ্চে গাজীর গান শোনে ও গাজী- কালুর কাছে মানত করে। সেখানে থাকে না কোন ধর্মবর্ণের বিবেধ, থাকে না কোন সাম্প্রদায়িক হানাহানি। এটাই সোনার বাংলার চিরায়ত ছবি। তবে সামাজিক সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টিকারী লোক সংস্কৃতি গাজীর গানে কালের পরিক্রমায় অনেক কিছুতেই পরিবর্তন এসেছে।
আপলোডকারীর তথ্য

Banglar Alo News

hello
জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে গাজীর গান

আপডেট সময় ০২:৫৬:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০২২
স্বীকৃতি বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, আচার আচরণ, জীবন- যাপন প্রণালী, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস এবং শিল্প – বিনোদন ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা বিশ্বাস যা দীর্ঘদিন ধরে মানুষ লালন পালন ও চর্চা করেন তাকে বলে লোক সংস্কৃতি। লোকসংস্কৃতির মূল নির্যাস নিহিত আছে ‘লোক’ কথাটির মধ্যে। লোক সংস্কৃতির জন্ম ও বেড়ে ওঠা মানুষের কর্ম ও চিন্তায় যা  সাধারণ মানুষের মুখে মুখে যুগ যুগ ধরে প্রবাহমান। লোক সংস্কৃতিগুলো বস্তু ও অবস্তুর উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
সৃষ্টির শুরুতে মানুষ খাদ্য, বস্ত্র,বাসাস্থান, রোগব্যাধি,ঝড়,বৃষ্টি, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও বন্য প্রাণীর আক্রমণসহ নানাবিধ প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে বেড়ে ওঠে। খাদ্য সমস্যা প্রকট হওয়ায় মানুষ কৃষিকে পেশা হিসাবে গ্রহন করে।
আর তাই লোক সংস্কৃতি কৃষিকে ঘিরে গড়ে উঠে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি বিরাজমান করছে। আর এই কৃষিকাজে চাষাবাদের জন্য প্রাচীনকাল থেকে যেমন গরু ব্যবহার হয়ে আসছে তেমনি গরুর দুধ ও মাংস প্রিয় খাদ্য হিসাবে সর্বোজন বিদিত ছিল।
আর তাই সন্তান লাভ, রোগব্যাধির উপশম, অধিক ফসল উৎপাদন, গো-জাতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতিসহ যেকোন ধরনের  মনস্কামনা পূরণের জন্য  জাতি ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে“গাজীর গান”-এর পালা দেওয়া হতো এবং কিছু লৌকিক কার্যক্রমসহ গান পরিবেশন করা হয় যা দ্বাবিংশ শতাব্দীতেও প্রচলিত আছে।
বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চলে পট বা চিত্র দেখিয়ে গাজীর গান গেয়ে বেড়াত বেদে সম্প্রদায়ের একটি অংশ। তার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফরিদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট  নরসিংদী,সমূদ্র তীরবর্তী যশোর,ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা,খুলনা,বাগেরহাট,সাতক্ষীরা অঞ্চলেই এমন বেদেদের বিচরণ ছিল বেশি। এ সম্প্রদায়ের মানুষ গ্রামে গ্রামে গিয়ে গাজীর গান গেয়ে ধান অথবা টাকা নিতো, যা দিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। এভাবে করে একসময় গাজীর গান বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে যায়। যা পরবর্তী সময়ে মূলস্রোতধারার হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকেরা গাজীর গানের দল গঠন করে বিভিন্ন এলাকায় গান গেয়ে বেড়ায়।
মূল গানে প্রথমে গাজীর প্রশংসা করা হয়। পূবেতে বন্দনা করি পূবের ভানুশ্বর। এদিকে উদয় রে ভানু চৌদিকে পশর …তারপরে বন্দনা করি গাজী দয়াবান। উদ্দেশে জানায় ছালাম হেন্দু মোছলমান’ বন্দনা তথা প্রশংসার পরে গাজীর জীবন বৃত্তান্ত, দৈত্য-রাক্ষসের সঙ্গে যুদ্ধ, রোগ-মহামারী, বালা-মুসিবত, খারাপ আত্মার সাথে যুদ্ধ, অকুল সমুদ্রে ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে পুণ্যবান ভক্ত সওদাগরের নৌকা রক্ষার কাহিনী এসবে গানে বর্ণনা করা হয়।
এছাড়া গানের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ, বিচার ও সমস্যা-সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। কিছু কিছু গানে দধি ব্যবসায়ী গোয়ালার ঘরে দুগ্ধ থাকা সত্ত্বেও গাজীকে না দেওয়ার শাস্তি বর্ণনা করা হয়।
একটি গানে ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, গাজী পীর জমিদারের অত্যাচার থেকে প্রজা সাধারণকে রক্ষা করেতেন। এমনকি কোনো কোনো ভক্ত মামলা জয়ী হওয়ার আশ্বাসও ছিলো একটি গানে: গানটির ছন্দ ছিলো এরকম- গাজী বলে মোকদ্দমা ফতে হয়ে যাবে। তামাম বান্দারা মোর শান্তিতে থাকিবে এরূপ গানে ধর্মীয় ও বৈষয়িক ভাবনা একাকার ছিলো।
গাজীর গানের আসরে কারবালার ময়দান, কাশ্মীর, মক্কার কাবাগৃহ, হিন্দুদের মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানগুলো বিশেষ চিহ্নে আঁকা হয়। অনেক সময় এসব চিহ্ন মাটির সরা বা পাতিলেও আঁকা হয়। পট হচ্ছে মূলতঃ মারকিন কাপড়ে আঁকা একটি চিত্রকর্ম, যা প্রস্থে চার ফুট, দৈর্ঘ্যে সাত-আট ফুটের মতো। মাঝখানের বড় ছবিটি পীর গাজীর। তার দুই পাশে ভাই কালু ও মানিক। গাজী বসে আছে বাঘের ওপর। এই ছবিটি কেন্দ্র করে আরও আছে কিছু নীতি বিষয়ক ছবি। মনোরম ক্যানভাসের এ পটটির বিভিন্ন অংশের ছবি লাঠি দিয়ে চিহ্নিত করে গীত গাওয়া হয়। গানের দলে ঢোলক ও বাঁশিবাদক এবং চার-পাঁচজন দোহার থাকে। এদের দলনেতা গায়ে আলখাল্লা ও মাথায় পাগড়ি পরিধান করে একটি আসা দন্ড হেলিয়ে-দুলিয়ে এবং লম্বা পা ফেলে আসরের চারদিকে ঘুরে ঘুরে গান গায়। আর দোহাররা বাদ্যের তালে তালে এ গান পুনরাবৃত্তি করে।
সমাজে বসবাসরত হিন্দু- মুসলিম – বৌদ্ধ – খ্রীস্টান নারী-পুরুষ, শিশু কিশোর সকলে মিলেমিশে একই মঞ্চে গাজীর গান শোনে ও গাজী- কালুর কাছে মানত করে। সেখানে থাকে না কোন ধর্মবর্ণের বিবেধ, থাকে না কোন সাম্প্রদায়িক হানাহানি। এটাই সোনার বাংলার চিরায়ত ছবি। তবে সামাজিক সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টিকারী লোক সংস্কৃতি গাজীর গানে কালের পরিক্রমায় অনেক কিছুতেই পরিবর্তন এসেছে।