বাংলাদেশ ০৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন সন্ধ্যার মধ্যে উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম কুবি শিক্ষার্থীদের রাবিতে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের পুলিশ-বিজিবির ধাওয়া মেহেন্দিগঞ্জে অজ্ঞাতনামা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। মুন্সীগঞ্জে গায়েবানা জানাযা থেকে ঈমাম ও বিএনপি নেতাকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ কোটা আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিবৃতি চলমান পরিস্থিতিতে রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি আপাতত স্থগিত: উপাচার্য বিদেশের পাঠানো টাকা চাইতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী স্বামী রাজশাহীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত চট্রগ্রামের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ওয়াসিমের জানাজায় মানুষের ঢল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার রাস্তায় সমবায় সমিতি ভবনের ট্যাংকির ময়লা: জনদুর্ভোগ মুন্সীগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা, আহত ৫ হরিপুরে, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে কর্মী মিটিং ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গৌরীপুরে উদীচী কার্য়ালয়ে হামলা ও ভাংচুর স্ত্রীর যৌতুক মামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারাগারে

চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষ উপলক্ষে যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত 

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২২
  • ১৬৮৭ বার পড়া হয়েছে

চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষ উপলক্ষে যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত 

স্বীকৃতি বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতিধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে পালন করেন। বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে বাংলা সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ যাত্রা শিল্পকে পূর্নোজ্জ্বিত করার মানসে গতকাল (১৫ এপ্রিল) যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের হেলারঘাট মহাশ্মশান  অনুষ্ঠিত হলো যাত্রা পালা।দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত এ যাত্রাপালায় কয়েক হাজার দর্শক সমাগম ঘটে এবং অভিনয় শিল্পীদের নিপুণ অভিনয় দর্শকদের গভীর রাত পর্যন্ত বিমোহিত করে রাখে। যাত্রা গান শুনতে আসা প্রবীণ ব্যক্তি জগন্নাথ রায় বলেন, যাত্রা গানের যে ঐতিহ্য তা ধরে রাখতে পারলে আগামী প্রজন্মকে সুস্থ সংস্কৃতি সম্পর্কে অবহিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হতো।
  উল্লেখ্য সংস্কৃতি মানব জীবনের  একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।আর এই সংস্কৃতির চর্চা একটি চলমান প্রক্রিয়া যা অবহেলা করার অবকাশ নেই। মানুষের  জীবনের পরিপূর্ণতা আনতে গেলে সংস্কৃতি চর্চার মধ্যে দিয়ে আনতে হবে। দেশ-কাল পাত্রভেদে মানুষ  যেখানে বসবাস করে সেই স্থানের ভাষা, আচরণ ও ভৌগোলিক পরিবেশেই গড়ে ওঠে তার সংস্কৃতি। যাত্রাশিল্প সংস্কৃতির একটি অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। যাত্রা গানের উৎপত্তির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় অষ্টম ও নবম শতকেও ভারতবর্ষে পালাগান ও পালার অভিনয় প্রচলিত ছিল। শ্রী চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের আগেও রাঢ়, বঙ্গ, সমতট, গৌড়, পুণ্ড্র, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, শ্রীহট্টসহ সমগ্র ভূখণ্ডে পালাগান ও কাহিনী কাব্যের অভিনয় প্রচলিত ছিল।ধর্মীয় বা কোনো উৎসবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার যে রীতি সেখান থেকেই যাত্রা শব্দটি এসেছে। এদেশে শিবের গাজন, রামযাত্রা,কেষ্টযাত্রা, সীতার বারোমাসী, রাধার বারোমাসী প্রচলিত ছিল। সেসময় বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি অভিনয় করে দেখানো হতো। আর সেখান থেকেই যাত্রার উৎপত্তি।
 বাঙালির হাজার বছরের নাট্য চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই যাত্রা শিল্পের মাধ্যমে। বাঙালি জীবনে দীর্ঘ দিনের সংস্কৃতি চর্চায় যাত্রা ছিল অন্যতম  সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা ও বিনোদন মাধ্যম। কালের বিবর্তনে সেই যাত্রা শিল্পই এখন চরম সংকটের মুখোমুখি বলে বহুল প্রচলিত হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। আসলে যাত্রা শিল্পের কোনো সংকট নেই। সংকট কালের বিবর্তনে ঘটে যাওয়া আমাদের সামাজিক পরিবর্তন। যাত্রা শিল্প  তার নিজস্ব রূপেই আছে কিন্তু আমরা যারা একাবিংশ শতাব্দীর  মানুষ তারা যাত্রাকে নিজের মতো করে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। শিল্প,সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক  সব সময় সময়ের দাবি যুগের সাথে  তাল মিলিয়েই চলে। সেই তাল মেলাতে ব্যর্থ  হওয়ার ফলে যাত্রা শিল্পের ছন্দপতন ঘটেছে। গ্রাম বাংলার বিলুপ্ত শিল্প সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ যাত্রাপালাকে পুনঃউদ্ধারে সরকারী- বেসরকারিসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা বিশেষ প্রয়োজন।
আপলোডকারীর তথ্য

Banglar Alo News

hello
জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন

চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষ উপলক্ষে যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত 

আপডেট সময় ০১:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২২
স্বীকৃতি বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতিধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে পালন করেন। বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে বাংলা সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ যাত্রা শিল্পকে পূর্নোজ্জ্বিত করার মানসে গতকাল (১৫ এপ্রিল) যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের হেলারঘাট মহাশ্মশান  অনুষ্ঠিত হলো যাত্রা পালা।দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত এ যাত্রাপালায় কয়েক হাজার দর্শক সমাগম ঘটে এবং অভিনয় শিল্পীদের নিপুণ অভিনয় দর্শকদের গভীর রাত পর্যন্ত বিমোহিত করে রাখে। যাত্রা গান শুনতে আসা প্রবীণ ব্যক্তি জগন্নাথ রায় বলেন, যাত্রা গানের যে ঐতিহ্য তা ধরে রাখতে পারলে আগামী প্রজন্মকে সুস্থ সংস্কৃতি সম্পর্কে অবহিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হতো।
  উল্লেখ্য সংস্কৃতি মানব জীবনের  একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।আর এই সংস্কৃতির চর্চা একটি চলমান প্রক্রিয়া যা অবহেলা করার অবকাশ নেই। মানুষের  জীবনের পরিপূর্ণতা আনতে গেলে সংস্কৃতি চর্চার মধ্যে দিয়ে আনতে হবে। দেশ-কাল পাত্রভেদে মানুষ  যেখানে বসবাস করে সেই স্থানের ভাষা, আচরণ ও ভৌগোলিক পরিবেশেই গড়ে ওঠে তার সংস্কৃতি। যাত্রাশিল্প সংস্কৃতির একটি অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। যাত্রা গানের উৎপত্তির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় অষ্টম ও নবম শতকেও ভারতবর্ষে পালাগান ও পালার অভিনয় প্রচলিত ছিল। শ্রী চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের আগেও রাঢ়, বঙ্গ, সমতট, গৌড়, পুণ্ড্র, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, শ্রীহট্টসহ সমগ্র ভূখণ্ডে পালাগান ও কাহিনী কাব্যের অভিনয় প্রচলিত ছিল।ধর্মীয় বা কোনো উৎসবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার যে রীতি সেখান থেকেই যাত্রা শব্দটি এসেছে। এদেশে শিবের গাজন, রামযাত্রা,কেষ্টযাত্রা, সীতার বারোমাসী, রাধার বারোমাসী প্রচলিত ছিল। সেসময় বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি অভিনয় করে দেখানো হতো। আর সেখান থেকেই যাত্রার উৎপত্তি।
 বাঙালির হাজার বছরের নাট্য চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই যাত্রা শিল্পের মাধ্যমে। বাঙালি জীবনে দীর্ঘ দিনের সংস্কৃতি চর্চায় যাত্রা ছিল অন্যতম  সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা ও বিনোদন মাধ্যম। কালের বিবর্তনে সেই যাত্রা শিল্পই এখন চরম সংকটের মুখোমুখি বলে বহুল প্রচলিত হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। আসলে যাত্রা শিল্পের কোনো সংকট নেই। সংকট কালের বিবর্তনে ঘটে যাওয়া আমাদের সামাজিক পরিবর্তন। যাত্রা শিল্প  তার নিজস্ব রূপেই আছে কিন্তু আমরা যারা একাবিংশ শতাব্দীর  মানুষ তারা যাত্রাকে নিজের মতো করে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। শিল্প,সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক  সব সময় সময়ের দাবি যুগের সাথে  তাল মিলিয়েই চলে। সেই তাল মেলাতে ব্যর্থ  হওয়ার ফলে যাত্রা শিল্পের ছন্দপতন ঘটেছে। গ্রাম বাংলার বিলুপ্ত শিল্প সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ যাত্রাপালাকে পুনঃউদ্ধারে সরকারী- বেসরকারিসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা বিশেষ প্রয়োজন।