বাংলাদেশ ০১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন সন্ধ্যার মধ্যে উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম কুবি শিক্ষার্থীদের রাবিতে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের পুলিশ-বিজিবির ধাওয়া মেহেন্দিগঞ্জে অজ্ঞাতনামা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। মুন্সীগঞ্জে গায়েবানা জানাযা থেকে ঈমাম ও বিএনপি নেতাকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ কোটা আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিবৃতি চলমান পরিস্থিতিতে রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি আপাতত স্থগিত: উপাচার্য বিদেশের পাঠানো টাকা চাইতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী স্বামী রাজশাহীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত চট্রগ্রামের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ওয়াসিমের জানাজায় মানুষের ঢল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার রাস্তায় সমবায় সমিতি ভবনের ট্যাংকির ময়লা: জনদুর্ভোগ মুন্সীগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা, আহত ৫ হরিপুরে, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে কর্মী মিটিং ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গৌরীপুরে উদীচী কার্য়ালয়ে হামলা ও ভাংচুর স্ত্রীর যৌতুক মামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারাগারে

ভোলায় তরমুজের ভালো ফলনে কৃষকরা লাখপতি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:১২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২২
  • ১৬৮৭ বার পড়া হয়েছে

ভোলায় তরমুজের ভালো ফলনে কৃষকরা লাখপতি

 

 

 

 

কামরুজ্জামান শাহীন, ভোলা॥

 

ভোলায় এবার তরমুজের ভালো ফলন ও দাম ভালো পাচ্ছেন চাষিরা। এতে বেজায় খুশি ভোলার তরমুজ চাষিরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার খেতে খেতে এখন চলছে তরমুজ বেচা কেনার ধুম। বেপারিরা মাঠ থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ভোলার তরমুজ চলে যাচ্ছে বরিশাল, চাঁদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। জেলায় এবছর তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জেলার ৭ উপজেলায় তরমুজের অধিক ফলন হয়েছে। গত বছর দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তরমুজ চাষে লোকসান হলেও চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনে সে লোকসান কাটিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা করছেন চাষীদের। তাছাড়া রমজানে তরমুজ বিক্রি করে ভালো মুনাফারও স্বপ্ন দেখছেন তারা। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তরমুজ বিক্রিতে আশানুরূপ দাম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

 

 

ভোলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলার ৭ উপজেলায় তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৬১৮ হেক্টর, বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৮ মেট্রিক টন। গত মৌসুমে জেলার ৭ উপজেলায় তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার হেক্টর। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছিল ৫ হাজার ৬১৮ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। জেলার তরমুজের মধ্যে ৯০ ভাগই চরফ্যাশন উপজেলা উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি বছরের মতো চলতি মৌসুমেও চরফ্যাশন উপজেলায় তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর ধরা হলেও চাষাবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে।

 

সেখানকার ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে নুরাবাদ, নীলকমল, মুজিবনগর, চরকলমী, আহম্মদপুর, আবুবক্করপুর, এওয়াজপুর ও রসুলপুরসহ নয়টি ইউনিয়নে বেশি তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। প্রতিটি খেতেই তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। রমজানে বাজারে দাম বেশি থাকলেও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না প্রান্তিক কৃষকরা। তারা বলছেন, গত বছর তরমুজ চাষে অধিক ফলন পেলেও বাজারে দাম কম থাকায় তাদের অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে। এ বছর তরমুজের ভালো ফলন হলেও জ্বালানি তেলের দামের কারণে পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন চাষীরা। চফ্যাশনশ উপজেলার শশীভুষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নের তরমুজ চাষী আমজাদ হোসেন মাঝী বলেন, ৫১ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এতে আমার ৪৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক(১) কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। আরো ২০ লাখ টাকার তরমুজ খেতে রয়েছে।

 

এতে খরচ বাদ দিয়ে মোটের ওপর ৭২ লাখ টাকা লাভ করতে পেরেছি। পরিবহন খরচ কিছুটা কম হলে আরো বেশি মুনাফা করা যেত। চফ্যাশনশ উপজেলার দুলার হাট থানার নুরাবাদ ইউনিয়নের তরমুজ চাষি সায়েদ মাঝী জানান, ৪০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তার এতে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এখন পযর্ন্ত তার ৭০ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করা হয়েছে। খেতে এখনো ১০ লক্ষ টাকার তরমুজ রয়েছে। খচর বাদ দিয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার মত লাভ করেছি। একই ইউনিযনের তরমুজচাষী নয়ন বলেন, গত বছর তরমুজ আবাদ করে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ঝড়বৃষ্টির কারণে তেমন একটা লাভবান হইনি। কিন্তু এ বছর আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় তরমুজের বাম্পার ফলন পেয়েছি। ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকার মত। এক পাইকারের কাছে খেত ২৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করে দিয়েছি।

 

এতে খরচ বাদ দিয়ে মোটের ওপর ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পেরেছি। রমজান মাস চলমান থাকায় দাম একটু বেশিই পেয়েছি। গত বছরের মতো ডিজেলের দাম কম থাকলে লাভের পরিমাণ আরো বেশি হতো। চাঁদপুরের তরমুজ ক্রয় করতে আসা গাজী আলম নামের এক পাইকার জানান, তারা চাষীদের কাছ থেকে খেতজুড়ে তরমুজ ক্রয় করে তা ট্রলার বা ট্রকযোগে বিভিন্ন জেলায় আড়তে নিয়ে বিক্রি করেন। এতে করে ১০-১২ কেজি ওজনের একটি তরমুজের মূল্য নির্ধারিত হয় ২৫০-৩০০ টাকা। মোকামে নেয়ার পর তার দাম বেড়ে ৪০০-৪৫০ টাকা হয়ে যায়। কেননা, চরফ্যাশন থেকে ২৫ শত তরমুজ চাঁদপুর নিতে গত বছর যে ট্রাক ভাড়া করেছি ২৫-৩০ হাজার টাকায়। বর্তমানে সেই ট্রাক ভাড়া করতে হচ্ছে ৪৫-৫০ হাজার টাকায়। একদিকে যেমন ডিজেলের দাম বেড়েছে, তেমনি ভোলা থেকে অন্য জেলায় ফেরিযোগে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা-যাওয়ার পথেও ৭-৮ হাজার টাকা চাঁদা গুনতে হয়। এতে মাঠ পর্যায়ের সবচেয়ে বড় আকৃতির তরমুজটি ৩০০ টাকায় ক্রয় করে মোকামে বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা।

 

তাছাড়া রমজান উপলক্ষে বাজারে দাম অনেক বেড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন: ভোলার তরমুজ মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বিভিন্ন জেলায় এ তরমুজের চাহিদা রয়েছে প্রচুর। বেপারিরা মাঠ থেকে তরমুজ কিনে নৌকায় তুলে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। কেউবা সড়ক পথে নিয়ে যাচ্ছে অন্যান্য জেলায়। চরের মধ্যে আকাবাকা ছোট ছোট খাল খুলেতে এখন তরমুজ ভরা সারি সারি নৌকা ট্রলার। কেউ নৌকায় তরমুজ তুলছে আবার কেউ নৌকা বেয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক অপরুপ দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ভিড় করেছে বাঙ্গির নৌকাগুলোও। এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাসান ওয়ারিসুল কবীর বলেন, বিগত বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে তরমুজ চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে অনেকে ফেলেছিল।

 

 

এবছর ফলনও হয়েছে প্রচুর বাজার দামও পাচ্ছে ভালো। এবছর জেলায় প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ফলন হয়েছে ৫২ টন। এক কথায় বলা যায়, অনেকটা বাম্পার ফলন। ভোলার তরমুজ সারা দেশে জনপ্রিয়। এখান থেকে ট্রাক, টলি, লঞ্চ ও ট্রলারে করে তরমুজ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। ভোলা থেকে দেশের অন্য জেলায় সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলে পরিবহন খরচ আরো কমে হত। এতে তরমুজ চাষীরা আরো বেশি লাভের মুখ দেখতেন। আগামী বছরগুলোতে চাষীরা আরও বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করবে বলে তিনি আশাবাদী।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন

ভোলায় তরমুজের ভালো ফলনে কৃষকরা লাখপতি

আপডেট সময় ০২:১২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২২

 

 

 

 

কামরুজ্জামান শাহীন, ভোলা॥

 

ভোলায় এবার তরমুজের ভালো ফলন ও দাম ভালো পাচ্ছেন চাষিরা। এতে বেজায় খুশি ভোলার তরমুজ চাষিরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার খেতে খেতে এখন চলছে তরমুজ বেচা কেনার ধুম। বেপারিরা মাঠ থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ভোলার তরমুজ চলে যাচ্ছে বরিশাল, চাঁদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। জেলায় এবছর তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জেলার ৭ উপজেলায় তরমুজের অধিক ফলন হয়েছে। গত বছর দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তরমুজ চাষে লোকসান হলেও চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনে সে লোকসান কাটিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা করছেন চাষীদের। তাছাড়া রমজানে তরমুজ বিক্রি করে ভালো মুনাফারও স্বপ্ন দেখছেন তারা। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তরমুজ বিক্রিতে আশানুরূপ দাম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

 

 

ভোলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলার ৭ উপজেলায় তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৬১৮ হেক্টর, বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৮ মেট্রিক টন। গত মৌসুমে জেলার ৭ উপজেলায় তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার হেক্টর। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছিল ৫ হাজার ৬১৮ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। জেলার তরমুজের মধ্যে ৯০ ভাগই চরফ্যাশন উপজেলা উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি বছরের মতো চলতি মৌসুমেও চরফ্যাশন উপজেলায় তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর ধরা হলেও চাষাবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে।

 

সেখানকার ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে নুরাবাদ, নীলকমল, মুজিবনগর, চরকলমী, আহম্মদপুর, আবুবক্করপুর, এওয়াজপুর ও রসুলপুরসহ নয়টি ইউনিয়নে বেশি তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। প্রতিটি খেতেই তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। রমজানে বাজারে দাম বেশি থাকলেও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না প্রান্তিক কৃষকরা। তারা বলছেন, গত বছর তরমুজ চাষে অধিক ফলন পেলেও বাজারে দাম কম থাকায় তাদের অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে। এ বছর তরমুজের ভালো ফলন হলেও জ্বালানি তেলের দামের কারণে পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন চাষীরা। চফ্যাশনশ উপজেলার শশীভুষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নের তরমুজ চাষী আমজাদ হোসেন মাঝী বলেন, ৫১ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এতে আমার ৪৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক(১) কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। আরো ২০ লাখ টাকার তরমুজ খেতে রয়েছে।

 

এতে খরচ বাদ দিয়ে মোটের ওপর ৭২ লাখ টাকা লাভ করতে পেরেছি। পরিবহন খরচ কিছুটা কম হলে আরো বেশি মুনাফা করা যেত। চফ্যাশনশ উপজেলার দুলার হাট থানার নুরাবাদ ইউনিয়নের তরমুজ চাষি সায়েদ মাঝী জানান, ৪০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তার এতে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এখন পযর্ন্ত তার ৭০ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করা হয়েছে। খেতে এখনো ১০ লক্ষ টাকার তরমুজ রয়েছে। খচর বাদ দিয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার মত লাভ করেছি। একই ইউনিযনের তরমুজচাষী নয়ন বলেন, গত বছর তরমুজ আবাদ করে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ঝড়বৃষ্টির কারণে তেমন একটা লাভবান হইনি। কিন্তু এ বছর আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় তরমুজের বাম্পার ফলন পেয়েছি। ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকার মত। এক পাইকারের কাছে খেত ২৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করে দিয়েছি।

 

এতে খরচ বাদ দিয়ে মোটের ওপর ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পেরেছি। রমজান মাস চলমান থাকায় দাম একটু বেশিই পেয়েছি। গত বছরের মতো ডিজেলের দাম কম থাকলে লাভের পরিমাণ আরো বেশি হতো। চাঁদপুরের তরমুজ ক্রয় করতে আসা গাজী আলম নামের এক পাইকার জানান, তারা চাষীদের কাছ থেকে খেতজুড়ে তরমুজ ক্রয় করে তা ট্রলার বা ট্রকযোগে বিভিন্ন জেলায় আড়তে নিয়ে বিক্রি করেন। এতে করে ১০-১২ কেজি ওজনের একটি তরমুজের মূল্য নির্ধারিত হয় ২৫০-৩০০ টাকা। মোকামে নেয়ার পর তার দাম বেড়ে ৪০০-৪৫০ টাকা হয়ে যায়। কেননা, চরফ্যাশন থেকে ২৫ শত তরমুজ চাঁদপুর নিতে গত বছর যে ট্রাক ভাড়া করেছি ২৫-৩০ হাজার টাকায়। বর্তমানে সেই ট্রাক ভাড়া করতে হচ্ছে ৪৫-৫০ হাজার টাকায়। একদিকে যেমন ডিজেলের দাম বেড়েছে, তেমনি ভোলা থেকে অন্য জেলায় ফেরিযোগে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা-যাওয়ার পথেও ৭-৮ হাজার টাকা চাঁদা গুনতে হয়। এতে মাঠ পর্যায়ের সবচেয়ে বড় আকৃতির তরমুজটি ৩০০ টাকায় ক্রয় করে মোকামে বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা।

 

তাছাড়া রমজান উপলক্ষে বাজারে দাম অনেক বেড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন: ভোলার তরমুজ মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বিভিন্ন জেলায় এ তরমুজের চাহিদা রয়েছে প্রচুর। বেপারিরা মাঠ থেকে তরমুজ কিনে নৌকায় তুলে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। কেউবা সড়ক পথে নিয়ে যাচ্ছে অন্যান্য জেলায়। চরের মধ্যে আকাবাকা ছোট ছোট খাল খুলেতে এখন তরমুজ ভরা সারি সারি নৌকা ট্রলার। কেউ নৌকায় তরমুজ তুলছে আবার কেউ নৌকা বেয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক অপরুপ দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ভিড় করেছে বাঙ্গির নৌকাগুলোও। এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাসান ওয়ারিসুল কবীর বলেন, বিগত বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে তরমুজ চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে অনেকে ফেলেছিল।

 

 

এবছর ফলনও হয়েছে প্রচুর বাজার দামও পাচ্ছে ভালো। এবছর জেলায় প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ফলন হয়েছে ৫২ টন। এক কথায় বলা যায়, অনেকটা বাম্পার ফলন। ভোলার তরমুজ সারা দেশে জনপ্রিয়। এখান থেকে ট্রাক, টলি, লঞ্চ ও ট্রলারে করে তরমুজ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। ভোলা থেকে দেশের অন্য জেলায় সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলে পরিবহন খরচ আরো কমে হত। এতে তরমুজ চাষীরা আরো বেশি লাভের মুখ দেখতেন। আগামী বছরগুলোতে চাষীরা আরও বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করবে বলে তিনি আশাবাদী।