বাংলাদেশ ০১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন সন্ধ্যার মধ্যে উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম কুবি শিক্ষার্থীদের রাবিতে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের পুলিশ-বিজিবির ধাওয়া মেহেন্দিগঞ্জে অজ্ঞাতনামা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। মুন্সীগঞ্জে গায়েবানা জানাযা থেকে ঈমাম ও বিএনপি নেতাকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ কোটা আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিবৃতি চলমান পরিস্থিতিতে রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি আপাতত স্থগিত: উপাচার্য বিদেশের পাঠানো টাকা চাইতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী স্বামী রাজশাহীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত চট্রগ্রামের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ওয়াসিমের জানাজায় মানুষের ঢল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার রাস্তায় সমবায় সমিতি ভবনের ট্যাংকির ময়লা: জনদুর্ভোগ মুন্সীগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা, আহত ৫ হরিপুরে, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে কর্মী মিটিং ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গৌরীপুরে উদীচী কার্য়ালয়ে হামলা ও ভাংচুর স্ত্রীর যৌতুক মামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারাগারে

বরকতময় মাহে রমজান” আজকের বিষয়:- আল্লাহকে ডাকবো, কেন ডাকব?

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:২২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২২
  • ১৭০৬ বার পড়া হয়েছে

বরকতময় মাহে রমজান" আজকের বিষয়:- আল্লাহকে ডাকবো, কেন ডাকব?

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির।।
সন্তান অসুস্থ হলেই কেবল আপনি আল্লাহর কাছে দু’হাত তোলে প্রার্থনা করবেন। কোনো দুর্ঘটনায় পড়তে যাচ্ছেন, আপনি তখনই কেবল আল্লাহকে বলেন, ও আল্লাহ! আমাকে রক্ষা করুন। কেবল পরীক্ষা আসলে আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, হে আল্লাহ! আমাকে পরীক্ষায় পাস করার তাওফিক দিন। এভাবে শুধু প্রয়োজনে আল্লাহর দ্বারস্থ হওয়া কোন নবী-রাসুলের সুন্নাহ নয়। বরঞ্চ আপনি সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ রাখবেন, নিয়মিত তাঁর ইবাদত করতে থাকবেন, দিনে রাতে তাঁর কাছে দু’হাত পেতে দোয়া করবেন। তাঁর প্রতি আশা ও ভয়ের অনুভূতি নিয়ে তাঁকে ডাকবেন।
যারা এমন করে, আল্লাহ নিজে তাদের প্রশংসা করেছেন “তারা সৎকাজে আপ্রাণ চেষ্টা করত এবং ভয় ও আশা নিয়ে আমাকে ডাকত।” (সুরা আম্বিয়া: ৯০)     এজন্য তারা আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করে , তার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।আর যে কম দোয়া করে , তার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও কম।এ বিষয়টি বুঝাতে একটি দুনিয়াবি দৃষ্টান্ত পেশ করছি:-আপনার একজন বন্ধু আছে, যে কিনা সর্বদা আপনার সঙ্গে লেগে থাকে। আপনাকে কল দেয়, খোঁজ-খবর রাখে। আপনার সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করে। একবার সে বিপদে পড়ে আপনাকে বলল, ‘বন্ধু! আমার একটু সাহায্য প্রয়োজন। তুমি কি আমাকে সাহায্য করবে? আপনার আরেকজন বন্ধু ছিল, যার সঙ্গে আপনার নিয়মিত যোগাযোগ নেই, ওঠাবসা নেই, কথাবার্তা নেই। যে দশ বছর পর এসে বলছে, ‘আমি তোমার সেই বন্ধু, যার সঙ্গে তোমার দশ বছর আগে দেখা হয়েছিল। আমি খুব বিপদে পড়েছি, সাহায্য দরকার খুব,
এই দুই বন্ধুর মধ্যে আপনি কাকে সাহায্য করবেন? অবশ্যই আপনি তাকে সাহায্য করবেন, যে নিয়মিত আপনার খোঁজ রাখত, আপনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। আপনার পাশে থাকত। তাই না?
অবশ্যই আমি এখানে এই দৃষ্টান্ত সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত করছি না। কারণ আল্লাহর জন্য সবচেয়ে উচ্চতম দৃষ্টান্তই শোভনীয়। আমি এখানে বুঝাতে চাচ্ছি, যা আমাদের নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে কামনা করে যে আল্লাহ কঠিন সময়ে তার দোয়া কবুল করুক, সে যেন সুখের সময়ে দোয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।’ (তিরমিজি)
আপনি দরজায় ক্রমাগত কড়াঘাত করে যাচ্ছেন, আপনার জন্য দরজা খোলা হবে, এটাই স্বাভাবিক। আপনি ধারাবাহিকভাবে নিজের ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে জানাচ্ছেন,আমি আপনার মুখলিস বান্দা। সবসময়, ভালো সময় কিংবা মন্দ সময়, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কিংবা কঠিন সময়— উভয় অবস্থায়ই আপনার জিকির অন্তরে ধারণ করি। এমন হলে আশা করা যায়, আল্লাহ কঠিন সময়ে তাঁর রহমের দরজা আপনার জন্য খুলে দিবেন। আপনার কাজ হলো, আল্লাহর সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখা। এতে করে আপনার দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যাবে।
নবী আদম (আ.) ও ইবলিসের গল্প থেকে আমরা  জানি, যদিও আদম (আ.) সঙ্গে সঙ্গেই দোয়া করেছেন আর ইবলিস নিজের প্রয়োজনের সময়— আল্লাহ উভয়ের দোয়াই কবুল করেছেন। আদম (আ.) কি ক্ষমা পেয়েছিলেন? হ্যাঁ, আল্লাহ তাকে ক্ষমা ও রহম প্রদর্শন করেছিলেন। আর ইবলিস কি কিয়ামত পর্যন্ত হায়াত লাভ করেনি? আল্লাহ তার দোয়াও কবুল করেছেন। তাকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দান করেছেন। দুনিয়ায় অমুসলিমদের সুখময় জীবন, তবে কি আল্লাহ তাদের প্রতি রাজি খুশি?
আদম ও ইবলিস ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন আদর্শ ধারণ করে দোয়া করলেও আল্লাহ উভয়ের দোয়া কবুল করেছেন। এ বিষয়টি আল্লাহর পরিপূর্ণতা তুলে ধরে। আমাদের কাছে অনেকে প্রশ্ন করেন, আল্লাহ কেন অমুসলিমদের চাওয়া পূরণ করেন? আল্লাহ কি তবে শিরক ও কুফরের সঙ্গে রাজি খুশি? অনেক মানুষ আল্লাহকে ব্যতিরেকে অন্যদের ইবাদত করে, আল্লাহর সঙ্গে কুফর করে। আর বিপদে পড়লে ডেকে ওঠে— ‘হে ইশ্বর! আমাকে সাহায্য কর! আমাকে বাঁচাও!’ তারা মুশরিক ও কাফির হওয়া সত্ত্বেও দেখবেন, আল্লাহ তাদের দোয়া মঞ্জুর করেন। তাদেরকে ওই বিপদ থেকে রক্ষা করেন। এটা দেখে আমরা মুসলিমরা অবাক হই, কেন? তাহলে কি আল্লাহ এই লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট? উত্তর হলো, কাফির-মুশরিকদের দোয়া কবুল হওয়ার অর্থ এই নয় যে আল্লাহ তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি সন্তুষ্ট। বরঞ্চ এটি আল্লাহর পরিপূর্ণতার নিদর্শনবাহী।
‘হে প্রভু! আমাকে সাহায্য কর! আমাকে রক্ষা কর!’ —এভাবে কাফির-মুশরিক, গুনাহগার নির্বিশেষে আল্লাহকে যে-ই ডাকে, আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন। আল্লাহ যদি ইবলিসের ডাকে সাড়া দিতে পারেন তবে অন্য কাফির-মুশরিক ও পাপীদের দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অন্তত ইবলিসের চেয়ে বেশি নয়কি? কারণ, ইবলিসের মতো নিকৃষ্ট, অবাধ্য, অভিশপ্ত ও বিতাড়িত আর কেউ নেই, এই শয়তানের দোয়াও তো আল্লাহ কবুল করেছেন। তবে তাদের দোয়া কবুল হওয়ার অর্থ এটা নয় যে, আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট ও রাজি খুশি। বরঞ্চ এদের দোয়া কবুল হওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায় যে, আল্লাহ সবার ও সবকিছুর রব।
তিনি সীমাহীনভাবে পরিপূর্ণ পবিত্র এক সত্ত্বা। তিনি রব হিসেবে এতই পরিপূর্ণ যে, সবচেয়ে অভিশপ্ত ও অবাধ্য সৃষ্টিও তাকে ডাকলে আল্লাহ তার ডাকে মাঝে মাঝে সাড়া দেন। যদিও দোয়া কবুলের সাধারণ নীতি হলো, অধিক তাকওয়াবান ব্যক্তির দোয়া কবুলের সম্ভাবনা কম তাকওয়াবান লোকের চেয়ে বেশি। তবে, কেউ যদি খুব বেশি তাকওয়াবান না হয়, এমনকি অমুসলিম কাফির-মুশরিক হয়, তবুও দোয়া কবুলের কমবেশি সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, আল্লাহ হলো রাব্বুন-নাস বা সমগ্র মানবজাতির রব। তিনি কেবল মুসলিমদের রব নন, বরঞ্চ সবার ও সবকিছুর রব।
পিয় পাঠক; দেখতে দেখতে রহমতের দশ দিন পেরিয়ে মাগফিরাতের তৃতীয় দিন অতিবাহিত করছি আমরা। অর্থাৎ আজ আমরা ১৩ তম রমজানের রোজা অতিক্রম করছি। বাকী দিবস বা দিন গুলো আরো মনযোগ বাড়িয়ে ইবাদত-বন্দেগী করা উচিত বলে মনে করছি এবং মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে কামনাও করি।
জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন

বরকতময় মাহে রমজান” আজকের বিষয়:- আল্লাহকে ডাকবো, কেন ডাকব?

আপডেট সময় ০৮:২২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২২
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির।।
সন্তান অসুস্থ হলেই কেবল আপনি আল্লাহর কাছে দু’হাত তোলে প্রার্থনা করবেন। কোনো দুর্ঘটনায় পড়তে যাচ্ছেন, আপনি তখনই কেবল আল্লাহকে বলেন, ও আল্লাহ! আমাকে রক্ষা করুন। কেবল পরীক্ষা আসলে আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, হে আল্লাহ! আমাকে পরীক্ষায় পাস করার তাওফিক দিন। এভাবে শুধু প্রয়োজনে আল্লাহর দ্বারস্থ হওয়া কোন নবী-রাসুলের সুন্নাহ নয়। বরঞ্চ আপনি সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ রাখবেন, নিয়মিত তাঁর ইবাদত করতে থাকবেন, দিনে রাতে তাঁর কাছে দু’হাত পেতে দোয়া করবেন। তাঁর প্রতি আশা ও ভয়ের অনুভূতি নিয়ে তাঁকে ডাকবেন।
যারা এমন করে, আল্লাহ নিজে তাদের প্রশংসা করেছেন “তারা সৎকাজে আপ্রাণ চেষ্টা করত এবং ভয় ও আশা নিয়ে আমাকে ডাকত।” (সুরা আম্বিয়া: ৯০)     এজন্য তারা আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করে , তার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।আর যে কম দোয়া করে , তার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও কম।এ বিষয়টি বুঝাতে একটি দুনিয়াবি দৃষ্টান্ত পেশ করছি:-আপনার একজন বন্ধু আছে, যে কিনা সর্বদা আপনার সঙ্গে লেগে থাকে। আপনাকে কল দেয়, খোঁজ-খবর রাখে। আপনার সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করে। একবার সে বিপদে পড়ে আপনাকে বলল, ‘বন্ধু! আমার একটু সাহায্য প্রয়োজন। তুমি কি আমাকে সাহায্য করবে? আপনার আরেকজন বন্ধু ছিল, যার সঙ্গে আপনার নিয়মিত যোগাযোগ নেই, ওঠাবসা নেই, কথাবার্তা নেই। যে দশ বছর পর এসে বলছে, ‘আমি তোমার সেই বন্ধু, যার সঙ্গে তোমার দশ বছর আগে দেখা হয়েছিল। আমি খুব বিপদে পড়েছি, সাহায্য দরকার খুব,
এই দুই বন্ধুর মধ্যে আপনি কাকে সাহায্য করবেন? অবশ্যই আপনি তাকে সাহায্য করবেন, যে নিয়মিত আপনার খোঁজ রাখত, আপনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। আপনার পাশে থাকত। তাই না?
অবশ্যই আমি এখানে এই দৃষ্টান্ত সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত করছি না। কারণ আল্লাহর জন্য সবচেয়ে উচ্চতম দৃষ্টান্তই শোভনীয়। আমি এখানে বুঝাতে চাচ্ছি, যা আমাদের নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে কামনা করে যে আল্লাহ কঠিন সময়ে তার দোয়া কবুল করুক, সে যেন সুখের সময়ে দোয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।’ (তিরমিজি)
আপনি দরজায় ক্রমাগত কড়াঘাত করে যাচ্ছেন, আপনার জন্য দরজা খোলা হবে, এটাই স্বাভাবিক। আপনি ধারাবাহিকভাবে নিজের ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে জানাচ্ছেন,আমি আপনার মুখলিস বান্দা। সবসময়, ভালো সময় কিংবা মন্দ সময়, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কিংবা কঠিন সময়— উভয় অবস্থায়ই আপনার জিকির অন্তরে ধারণ করি। এমন হলে আশা করা যায়, আল্লাহ কঠিন সময়ে তাঁর রহমের দরজা আপনার জন্য খুলে দিবেন। আপনার কাজ হলো, আল্লাহর সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখা। এতে করে আপনার দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যাবে।
নবী আদম (আ.) ও ইবলিসের গল্প থেকে আমরা  জানি, যদিও আদম (আ.) সঙ্গে সঙ্গেই দোয়া করেছেন আর ইবলিস নিজের প্রয়োজনের সময়— আল্লাহ উভয়ের দোয়াই কবুল করেছেন। আদম (আ.) কি ক্ষমা পেয়েছিলেন? হ্যাঁ, আল্লাহ তাকে ক্ষমা ও রহম প্রদর্শন করেছিলেন। আর ইবলিস কি কিয়ামত পর্যন্ত হায়াত লাভ করেনি? আল্লাহ তার দোয়াও কবুল করেছেন। তাকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দান করেছেন। দুনিয়ায় অমুসলিমদের সুখময় জীবন, তবে কি আল্লাহ তাদের প্রতি রাজি খুশি?
আদম ও ইবলিস ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন আদর্শ ধারণ করে দোয়া করলেও আল্লাহ উভয়ের দোয়া কবুল করেছেন। এ বিষয়টি আল্লাহর পরিপূর্ণতা তুলে ধরে। আমাদের কাছে অনেকে প্রশ্ন করেন, আল্লাহ কেন অমুসলিমদের চাওয়া পূরণ করেন? আল্লাহ কি তবে শিরক ও কুফরের সঙ্গে রাজি খুশি? অনেক মানুষ আল্লাহকে ব্যতিরেকে অন্যদের ইবাদত করে, আল্লাহর সঙ্গে কুফর করে। আর বিপদে পড়লে ডেকে ওঠে— ‘হে ইশ্বর! আমাকে সাহায্য কর! আমাকে বাঁচাও!’ তারা মুশরিক ও কাফির হওয়া সত্ত্বেও দেখবেন, আল্লাহ তাদের দোয়া মঞ্জুর করেন। তাদেরকে ওই বিপদ থেকে রক্ষা করেন। এটা দেখে আমরা মুসলিমরা অবাক হই, কেন? তাহলে কি আল্লাহ এই লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট? উত্তর হলো, কাফির-মুশরিকদের দোয়া কবুল হওয়ার অর্থ এই নয় যে আল্লাহ তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি সন্তুষ্ট। বরঞ্চ এটি আল্লাহর পরিপূর্ণতার নিদর্শনবাহী।
‘হে প্রভু! আমাকে সাহায্য কর! আমাকে রক্ষা কর!’ —এভাবে কাফির-মুশরিক, গুনাহগার নির্বিশেষে আল্লাহকে যে-ই ডাকে, আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন। আল্লাহ যদি ইবলিসের ডাকে সাড়া দিতে পারেন তবে অন্য কাফির-মুশরিক ও পাপীদের দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অন্তত ইবলিসের চেয়ে বেশি নয়কি? কারণ, ইবলিসের মতো নিকৃষ্ট, অবাধ্য, অভিশপ্ত ও বিতাড়িত আর কেউ নেই, এই শয়তানের দোয়াও তো আল্লাহ কবুল করেছেন। তবে তাদের দোয়া কবুল হওয়ার অর্থ এটা নয় যে, আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট ও রাজি খুশি। বরঞ্চ এদের দোয়া কবুল হওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায় যে, আল্লাহ সবার ও সবকিছুর রব।
তিনি সীমাহীনভাবে পরিপূর্ণ পবিত্র এক সত্ত্বা। তিনি রব হিসেবে এতই পরিপূর্ণ যে, সবচেয়ে অভিশপ্ত ও অবাধ্য সৃষ্টিও তাকে ডাকলে আল্লাহ তার ডাকে মাঝে মাঝে সাড়া দেন। যদিও দোয়া কবুলের সাধারণ নীতি হলো, অধিক তাকওয়াবান ব্যক্তির দোয়া কবুলের সম্ভাবনা কম তাকওয়াবান লোকের চেয়ে বেশি। তবে, কেউ যদি খুব বেশি তাকওয়াবান না হয়, এমনকি অমুসলিম কাফির-মুশরিক হয়, তবুও দোয়া কবুলের কমবেশি সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, আল্লাহ হলো রাব্বুন-নাস বা সমগ্র মানবজাতির রব। তিনি কেবল মুসলিমদের রব নন, বরঞ্চ সবার ও সবকিছুর রব।
পিয় পাঠক; দেখতে দেখতে রহমতের দশ দিন পেরিয়ে মাগফিরাতের তৃতীয় দিন অতিবাহিত করছি আমরা। অর্থাৎ আজ আমরা ১৩ তম রমজানের রোজা অতিক্রম করছি। বাকী দিবস বা দিন গুলো আরো মনযোগ বাড়িয়ে ইবাদত-বন্দেগী করা উচিত বলে মনে করছি এবং মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে কামনাও করি।