বাংলাদেশ ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন সন্ধ্যার মধ্যে উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম কুবি শিক্ষার্থীদের রাবিতে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের পুলিশ-বিজিবির ধাওয়া মেহেন্দিগঞ্জে অজ্ঞাতনামা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। মুন্সীগঞ্জে গায়েবানা জানাযা থেকে ঈমাম ও বিএনপি নেতাকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ কোটা আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিবৃতি চলমান পরিস্থিতিতে রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি আপাতত স্থগিত: উপাচার্য বিদেশের পাঠানো টাকা চাইতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী স্বামী রাজশাহীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত চট্রগ্রামের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ওয়াসিমের জানাজায় মানুষের ঢল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার রাস্তায় সমবায় সমিতি ভবনের ট্যাংকির ময়লা: জনদুর্ভোগ মুন্সীগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা, আহত ৫ হরিপুরে, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে কর্মী মিটিং ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গৌরীপুরে উদীচী কার্য়ালয়ে হামলা ও ভাংচুর স্ত্রীর যৌতুক মামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারাগারে

চিরিরবন্দরে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়ীতে প্রেমিকার অনশন, “প্রেমিক উধাও”

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:১২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২
  • ১৭৫৭ বার পড়া হয়েছে

চিরিরবন্দরে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়ীতে প্রেমিকার অনশন, “প্রেমিক উধাও”

 

 

 

মোঃ গোলাম মোস্তফা, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ-

 

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক সাখাওয়াত হোসেন (২৩)। এর বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক প্রেমিকা (১৯)। ১০ই এপ্রিল রবিবার সকাল থেকে উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের মর্ত্তমন্ডল গ্রামের শাহাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। সাখাওয়াত হোসেন মর্ত্তমন্ডল গ্রামের মোজাম্মেল হোসেন এর পুত্র।

জানা গেছে অনশনে বসা প্রেমিকা চিরিরবন্দর বিএম কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে সাখাওয়াত হোসেনের এর সাথে আমার প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। ছেলে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের মেকানিক্যাল বিষয়ের উপর লেখাপড়া করার সময় তার সাথে আমার নিয়মিত দেখাশুনা হত। সম্পর্ক শুরুর তিন বছরে একাধিকবার বিয়ের কথা বললেও সে রাজি কখনোই রাজী হয়নি। কালক্ষেপন করে আমার কথা উড়িয়ে দেয়, এভাবে চলে যায় ৪ বছর। তবে এভাবে আমার কথা উড়িয়ে দিলেও এক পর্যায়ে ২০২১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর আমার বাড়িতে এসে ফাঁকা একটি এভিডেভিড স্টাম্প নিয়ে এসে বিয়ের কাগজ বলে আমার কাছে স্বাক্ষর নেয়। কিন্তু স্বাক্ষরিত সেই স্টাম্প চাইলে সে বলে কোর্টে নাকি আরও কাজ আছে ওই কাগজের। এরপর আর কখনোই সেই কাগজটা আমাকে দেখায়নি এবং পরবর্তীতে আমি জানিতে পারি সেই কাগজটি ছিলো মিথ্যে ও বানোয়াট। এর কয়েকদিন পর আমি তার কাছে বিয়ের সেই কাগজ চাইলে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সময় কালক্ষেপণ করেছে। টানা কয়েকদিন কাগজের জন্য তার প্রতি চাপ প্রয়োগ করলে চলতি বছরের জানুয়ারী মাস হইতে পুরোপুরি আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি আমার পরিবারের মাধ্যমে অনেক বার তার বাড়িতে বিয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠাই কিন্তু তার ভাই ও মা রাজি না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

ওই শিক্ষার্থী আরো জানায় ও আমাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তার বিয়ের ব্যবস্থা তার পরিবার অন্য জায়গায় করতেছে। আমার দাবি, সাখাওয়াত হোসেন সহ তার পরিবারের লোকজন বিয়ের বিষয়টির সুরাহা দিতে হবে। তা না করা পর্যন্ত আমার অনশন চলবে।

এদিকে অনশন চলাকালীন সময়ে গত ২৪ ঘন্টায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে একাধিকবার কথা হয় সেই শিক্ষার্থীর। এসময় সকলের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের জানান গতকাল দুপুর থেকেই বিয়ের দাবীতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছি। গত রাতে ঝড়বৃষ্টিতেও অনশন ছেড়ে যাইনি। রোজা রেখে এই অনশনে ইতি মধ্যেই ক্লান্ত হয়ে গেছি। ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে আমার শরীর। এখন পর্যন্ত বিয়ের দাবী নিয়েই প্রেমিকের বাড়ির দরজায় আছি ঘন্টার পর ঘন্টা। সাংবাদিকদের সাথে কথোপকথনের এক সময় আক্ষেপ করে বলেন গতকাল থেকে অনশন করছি,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান একটি বারের জন্যেও খোঁজ পর্যন্ত নিতে আসেনি আমার। আমি একা একটা মেয়ে রাতের অন্ধকারে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রেমিকের দরজায় প্রহর গুনছি, কিন্তু আমার নিরাপত্তার জন্য কোন প্রকার সহযোগিতা করেনি কেউই। শেষ পর্যায়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠেন প্রেমিক সাখাওয়াত হোসেন তাকে বিয়ে না করলে অনশন অবস্থায় আত্মহত্যাও করবেন তিনি। ভালোবাসারর মানুষটিকে নিজের করতে ব্যর্থ হলে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন এমনিটাই বলছিলেন অনশনকারী প্রেমিকা।

এ নিয়ে গতকাল রবিবার সকাল হইতে এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রেমিক সাখাওয়াত হোসেনের বাড়িতে ভীড় জমান এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে উভয় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসার করে দেয়া হয়।

 

 

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন

চিরিরবন্দরে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়ীতে প্রেমিকার অনশন, “প্রেমিক উধাও”

আপডেট সময় ০২:১২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২

 

 

 

মোঃ গোলাম মোস্তফা, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ-

 

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক সাখাওয়াত হোসেন (২৩)। এর বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক প্রেমিকা (১৯)। ১০ই এপ্রিল রবিবার সকাল থেকে উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের মর্ত্তমন্ডল গ্রামের শাহাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। সাখাওয়াত হোসেন মর্ত্তমন্ডল গ্রামের মোজাম্মেল হোসেন এর পুত্র।

জানা গেছে অনশনে বসা প্রেমিকা চিরিরবন্দর বিএম কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে সাখাওয়াত হোসেনের এর সাথে আমার প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। ছেলে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের মেকানিক্যাল বিষয়ের উপর লেখাপড়া করার সময় তার সাথে আমার নিয়মিত দেখাশুনা হত। সম্পর্ক শুরুর তিন বছরে একাধিকবার বিয়ের কথা বললেও সে রাজি কখনোই রাজী হয়নি। কালক্ষেপন করে আমার কথা উড়িয়ে দেয়, এভাবে চলে যায় ৪ বছর। তবে এভাবে আমার কথা উড়িয়ে দিলেও এক পর্যায়ে ২০২১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর আমার বাড়িতে এসে ফাঁকা একটি এভিডেভিড স্টাম্প নিয়ে এসে বিয়ের কাগজ বলে আমার কাছে স্বাক্ষর নেয়। কিন্তু স্বাক্ষরিত সেই স্টাম্প চাইলে সে বলে কোর্টে নাকি আরও কাজ আছে ওই কাগজের। এরপর আর কখনোই সেই কাগজটা আমাকে দেখায়নি এবং পরবর্তীতে আমি জানিতে পারি সেই কাগজটি ছিলো মিথ্যে ও বানোয়াট। এর কয়েকদিন পর আমি তার কাছে বিয়ের সেই কাগজ চাইলে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সময় কালক্ষেপণ করেছে। টানা কয়েকদিন কাগজের জন্য তার প্রতি চাপ প্রয়োগ করলে চলতি বছরের জানুয়ারী মাস হইতে পুরোপুরি আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি আমার পরিবারের মাধ্যমে অনেক বার তার বাড়িতে বিয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠাই কিন্তু তার ভাই ও মা রাজি না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

ওই শিক্ষার্থী আরো জানায় ও আমাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তার বিয়ের ব্যবস্থা তার পরিবার অন্য জায়গায় করতেছে। আমার দাবি, সাখাওয়াত হোসেন সহ তার পরিবারের লোকজন বিয়ের বিষয়টির সুরাহা দিতে হবে। তা না করা পর্যন্ত আমার অনশন চলবে।

এদিকে অনশন চলাকালীন সময়ে গত ২৪ ঘন্টায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে একাধিকবার কথা হয় সেই শিক্ষার্থীর। এসময় সকলের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের জানান গতকাল দুপুর থেকেই বিয়ের দাবীতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছি। গত রাতে ঝড়বৃষ্টিতেও অনশন ছেড়ে যাইনি। রোজা রেখে এই অনশনে ইতি মধ্যেই ক্লান্ত হয়ে গেছি। ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে আমার শরীর। এখন পর্যন্ত বিয়ের দাবী নিয়েই প্রেমিকের বাড়ির দরজায় আছি ঘন্টার পর ঘন্টা। সাংবাদিকদের সাথে কথোপকথনের এক সময় আক্ষেপ করে বলেন গতকাল থেকে অনশন করছি,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান একটি বারের জন্যেও খোঁজ পর্যন্ত নিতে আসেনি আমার। আমি একা একটা মেয়ে রাতের অন্ধকারে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রেমিকের দরজায় প্রহর গুনছি, কিন্তু আমার নিরাপত্তার জন্য কোন প্রকার সহযোগিতা করেনি কেউই। শেষ পর্যায়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠেন প্রেমিক সাখাওয়াত হোসেন তাকে বিয়ে না করলে অনশন অবস্থায় আত্মহত্যাও করবেন তিনি। ভালোবাসারর মানুষটিকে নিজের করতে ব্যর্থ হলে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন এমনিটাই বলছিলেন অনশনকারী প্রেমিকা।

এ নিয়ে গতকাল রবিবার সকাল হইতে এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রেমিক সাখাওয়াত হোসেনের বাড়িতে ভীড় জমান এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে উভয় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসার করে দেয়া হয়।