বাংলাদেশ ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন সন্ধ্যার মধ্যে উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম কুবি শিক্ষার্থীদের রাবিতে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের পুলিশ-বিজিবির ধাওয়া মেহেন্দিগঞ্জে অজ্ঞাতনামা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। মুন্সীগঞ্জে গায়েবানা জানাযা থেকে ঈমাম ও বিএনপি নেতাকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ কোটা আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিবৃতি চলমান পরিস্থিতিতে রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি আপাতত স্থগিত: উপাচার্য বিদেশের পাঠানো টাকা চাইতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী স্বামী রাজশাহীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত চট্রগ্রামের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ওয়াসিমের জানাজায় মানুষের ঢল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার রাস্তায় সমবায় সমিতি ভবনের ট্যাংকির ময়লা: জনদুর্ভোগ মুন্সীগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা, আহত ৫ হরিপুরে, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে কর্মী মিটিং ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গৌরীপুরে উদীচী কার্য়ালয়ে হামলা ও ভাংচুর স্ত্রীর যৌতুক মামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারাগারে

বরকতময় মাহে রমজান” আজকের বিষয়:-তাকওয়া অর্জনে মাহে রমজান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:১২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ এপ্রিল ২০২২
  • ১৭০৪ বার পড়া হয়েছে

বরকতময় মাহে রমজান" আজকের বিষয়:-উম্মুল মূমেনীন মা খাদিজাতুল ক্বোবরা (রা)'র ওফাত দিবস

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির।।
রমজান মাস হলো তাকওয়া অর্জনের সেরা মৌসুম। রোজা পালনের মাধ্যমে মোমিনের আত্মার পরিশুদ্ধি, কুপ্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ, সর্বোপরি তাকওয়া অর্জনের শক্তি অর্জিত হয়। আল্লাহ তায়ালা রোজার বিধানের আয়াতটি শুরু করেছেন ঈমানের কথা দিয়ে, আর শেষ করেছেন তাকওয়া দিয়ে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদাররা তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল এবং এজন্য তোমাদের মধ্যে যেন আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়।’ (সুরা বাকারা-১৮৩)।
তাকওয়া আরবি শব্দ। এর মূল অক্ষর হলো ‘ওয়াকউন’ আর ক্রিয়ামূল হলো ‘বিকায়াহ’। ‘বিকায়াহ’-এর আভিধানিক অর্থ হলো ভয় করা, বিরত থাকা, রক্ষা করা, বেঁচে থাকা, সাবধান হওয়া ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে আত্মরক্ষা, খোদাভীতি, পরহেজগারি, আত্মশুদ্ধি, ধার্মিকতা ইত্যাদি। ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহর ভয়ে সব অন্যায়, অবিচার, পাপকাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করে আল্লাহ ও রাসুল তথা কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশ মতো জীবনযাপন করাকে তাকওয়া বলে। আল্লামা ইবনে জারীর তাবারি (রহ.) বলেন- আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য ও নাফরমানিমূলক কাজগুলো পরিহার করে তারই আদেশাবলী পালন পূর্বক আল্লাহর ভয় অন্তরে সদা জাগ্রত থাকাকেই তাকওয়া বলে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, তাকওয়া হলো নিজেকে অন্য যে কারও তুলনায় উত্তম মনে না করা। ইমাম রাগেব ইস্পাহানী বলেন, তাকওয়া হলো ভয়ংকর কোনো বিষয় হতে নিজেকে রক্ষা করা।
একদা হযরত ওমর (রা.) প্রিয়নবীর সাহাবি হযরত উবাই ইবনে কাব (রা.) কে তাকওয়ার তাৎপর্য সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আপনি কি কোনো সময় কাঁটাবনের উপর দিয়ে চলাফেরা করেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, কাঁটাবনের উপর দিয়ে কীভাবে হেঁটেছেন? হযরত ওমর (রা.) বললেন, কাপড় গুটিয়ে পায়ের পাতাকে সোজা করে বা অত্যন্ত সন্তর্পণে চলেছি। হযরত উবাই (রা.) বলেন, এটাই তাকওয়া। অর্থাৎ গোনাহ থেকে আত্মরক্ষা করার সাধনা করে সংযম প্রদর্শন করে চলার নামই হলো তাকওয়া।
তাকওয়া বান্দার উপর আল্লাহর অনেক বড় নেয়ামত। তাকওয়াবান লোকেরা দুনিয়া এবং আখিরাতে আল্লাহর সাহায্য লাভ করবে। তাকওয়াবানদের জন্য পরকালীন পুরস্কার অনন্ত। আল্লাহ বলেন, হে মোমিনরা! যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর তবে আল্লাহ তোমাদের ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করার শক্তি দেবেন। তোমাদের পাপ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অতিশয় মঙ্গলময়। (সুরা আনফাল-২৯)।
তাকওয়াবান ব্যক্তি সর্বদা আল্লাহর সাহায্য লাভ করেন। আল্লাহই তাদের বিপদাপদ হতে রক্ষা করেন। মুত্তাকিরাই আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণ, সম্মান ও মর্যাদা লাভ করে থাকেন। হযরত আবু সাইদ খুদুরী (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে উপদেশ দিন। তখন রাসুলে পাক (সা.) বললেন, আল্লাহকে ভয় করে চল, কারণ এটি সর্বপ্রকার কল্যাণের মূলসূত্র। আল্লাহর পথে জিহাদ কর, এটিই হবে সন্যাসব্রত। আল্লাহর জিকির কর ও আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত কর। এটি জমিনে তোমার জ্যোতি বৃদ্ধি এবং আসমানে তোমার প্রশংসা বাড়াবে। সাবধান! কল্যাণের ক্ষেত্র ব্যতিরেকে অন্যত্র মুখ খুলবে না। মুখের নিয়ন্ত্রণ দ্বারা তুমি শয়তানের উপর বিজয়ী হবে। (তাবরানি-৪২২৩)।
মানুষ যখন অতিমাত্রার দুনিয়ামুখী হয়ে যায়, তখন তার অন্তর স্বাভাবিকভাবে লোভ-লালসা, সম্পদ লাভ, নেতৃত্ব অর্জন, প্রতিযোগিতার মানসিকতা ইত্যাদির মোহে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। তার অন্তর অতিমাত্রায় দুনিয়ামুখী হওয়ার কারণে সে মিথ্যা প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই কুপ্রবৃত্তি খারাপ কাজ করার জন্য নির্দেশ দেয়। সুতরাং এরকম চরম পরিস্থিতি থেকে একমাত্র তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়ই তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। তার অন্তরকে পুতঃপবিত্র করে পুণ্যবান মানুষের অন্তরে পরিণত করতে পারে। প্রকৃত পক্ষে মানুষের অন্তরই হলো তাকওয়ার স্থান। মানব দেহের তাকওয়ার স্থান কোথায় তা দেখাতে গিয়ে রাসুল (সা.) তার বক্ষ মোবারকের দিকে তিনবার ইশারা করে বলেন, তাকওয়া এখানে। (মুসলিম-২৫৬৪)।
রোজাদার ব্যক্তি সুবিহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পানাহার ও জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকে। পুরো রমজান মাসজুড়ে রোজাদার ব্যক্তি এই অনুশীলনের মাধ্যমে পরবর্তী সময় জীবনজুড়ে হারাম ও পাপকাজকে ত্যাগ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। রমজান মাসে প্রতিনিয়ত আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা আসতে থাকে ‘হে কল্যাণ অন্বেষী! অগ্রসর হও, হে অকল্যাণের পথিক! থেমে যাও এই আহ্বানটি মানুষের মধ্যে ভালো কাজের আগ্রহ তৈরি করে। মানুষের মনে আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়। মানুষের দায়িত্ব হলো এই শিক্ষাকে সারা জীবন মনে ধারণ করা ও লালন করা। যাবতীয় ইবাদত কবুলের জন্য তাকওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকওয়াবিহীন ইবাদত আল্লাহ কবুল করেন না। তাই আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারের জন্য তাকওয়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ পাথেয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর। আর শ্রেষ্ঠ পাথেয় হলো তাকওয়া (সুরা বাকারা-১৯৭)।
তাকওয়া অবলম্বনের মাধ্যমে মানুষ দ্বীনের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করতে পারে তেমনি মানুষের জাগতিক সাম্য, সম্প্রীতি, সামাজিক মূল্যবোধ ইত্যাদি সৃষ্টি হয়। তাকওয়া মানব চরিত্রের সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করে। যাবতীয় অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। মুত্তাকী ব্যক্তি সর্বত্র আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করে থাকেন বলে সহজেই কোনো পাপের দিকে মনোনিবেশ করতে পারেন না।
তাকওয়া অর্জনের পথে অন্যতম বাঁধা হলো রিয়া বা লোক দেখানো আমল। ইবাদতে রিয়াকে ছোট শিরকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই এবং তার নৈকট্য লাভ করতে চাই, তাহলে তার উচিত হলো রিয়ামুক্ত ইবাদত করা।
জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন

বরকতময় মাহে রমজান” আজকের বিষয়:-তাকওয়া অর্জনে মাহে রমজান

আপডেট সময় ০৭:১২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ এপ্রিল ২০২২
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির।।
রমজান মাস হলো তাকওয়া অর্জনের সেরা মৌসুম। রোজা পালনের মাধ্যমে মোমিনের আত্মার পরিশুদ্ধি, কুপ্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ, সর্বোপরি তাকওয়া অর্জনের শক্তি অর্জিত হয়। আল্লাহ তায়ালা রোজার বিধানের আয়াতটি শুরু করেছেন ঈমানের কথা দিয়ে, আর শেষ করেছেন তাকওয়া দিয়ে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদাররা তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল এবং এজন্য তোমাদের মধ্যে যেন আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়।’ (সুরা বাকারা-১৮৩)।
তাকওয়া আরবি শব্দ। এর মূল অক্ষর হলো ‘ওয়াকউন’ আর ক্রিয়ামূল হলো ‘বিকায়াহ’। ‘বিকায়াহ’-এর আভিধানিক অর্থ হলো ভয় করা, বিরত থাকা, রক্ষা করা, বেঁচে থাকা, সাবধান হওয়া ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে আত্মরক্ষা, খোদাভীতি, পরহেজগারি, আত্মশুদ্ধি, ধার্মিকতা ইত্যাদি। ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহর ভয়ে সব অন্যায়, অবিচার, পাপকাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করে আল্লাহ ও রাসুল তথা কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশ মতো জীবনযাপন করাকে তাকওয়া বলে। আল্লামা ইবনে জারীর তাবারি (রহ.) বলেন- আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য ও নাফরমানিমূলক কাজগুলো পরিহার করে তারই আদেশাবলী পালন পূর্বক আল্লাহর ভয় অন্তরে সদা জাগ্রত থাকাকেই তাকওয়া বলে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, তাকওয়া হলো নিজেকে অন্য যে কারও তুলনায় উত্তম মনে না করা। ইমাম রাগেব ইস্পাহানী বলেন, তাকওয়া হলো ভয়ংকর কোনো বিষয় হতে নিজেকে রক্ষা করা।
একদা হযরত ওমর (রা.) প্রিয়নবীর সাহাবি হযরত উবাই ইবনে কাব (রা.) কে তাকওয়ার তাৎপর্য সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আপনি কি কোনো সময় কাঁটাবনের উপর দিয়ে চলাফেরা করেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, কাঁটাবনের উপর দিয়ে কীভাবে হেঁটেছেন? হযরত ওমর (রা.) বললেন, কাপড় গুটিয়ে পায়ের পাতাকে সোজা করে বা অত্যন্ত সন্তর্পণে চলেছি। হযরত উবাই (রা.) বলেন, এটাই তাকওয়া। অর্থাৎ গোনাহ থেকে আত্মরক্ষা করার সাধনা করে সংযম প্রদর্শন করে চলার নামই হলো তাকওয়া।
তাকওয়া বান্দার উপর আল্লাহর অনেক বড় নেয়ামত। তাকওয়াবান লোকেরা দুনিয়া এবং আখিরাতে আল্লাহর সাহায্য লাভ করবে। তাকওয়াবানদের জন্য পরকালীন পুরস্কার অনন্ত। আল্লাহ বলেন, হে মোমিনরা! যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর তবে আল্লাহ তোমাদের ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করার শক্তি দেবেন। তোমাদের পাপ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অতিশয় মঙ্গলময়। (সুরা আনফাল-২৯)।
তাকওয়াবান ব্যক্তি সর্বদা আল্লাহর সাহায্য লাভ করেন। আল্লাহই তাদের বিপদাপদ হতে রক্ষা করেন। মুত্তাকিরাই আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণ, সম্মান ও মর্যাদা লাভ করে থাকেন। হযরত আবু সাইদ খুদুরী (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে উপদেশ দিন। তখন রাসুলে পাক (সা.) বললেন, আল্লাহকে ভয় করে চল, কারণ এটি সর্বপ্রকার কল্যাণের মূলসূত্র। আল্লাহর পথে জিহাদ কর, এটিই হবে সন্যাসব্রত। আল্লাহর জিকির কর ও আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত কর। এটি জমিনে তোমার জ্যোতি বৃদ্ধি এবং আসমানে তোমার প্রশংসা বাড়াবে। সাবধান! কল্যাণের ক্ষেত্র ব্যতিরেকে অন্যত্র মুখ খুলবে না। মুখের নিয়ন্ত্রণ দ্বারা তুমি শয়তানের উপর বিজয়ী হবে। (তাবরানি-৪২২৩)।
মানুষ যখন অতিমাত্রার দুনিয়ামুখী হয়ে যায়, তখন তার অন্তর স্বাভাবিকভাবে লোভ-লালসা, সম্পদ লাভ, নেতৃত্ব অর্জন, প্রতিযোগিতার মানসিকতা ইত্যাদির মোহে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। তার অন্তর অতিমাত্রায় দুনিয়ামুখী হওয়ার কারণে সে মিথ্যা প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই কুপ্রবৃত্তি খারাপ কাজ করার জন্য নির্দেশ দেয়। সুতরাং এরকম চরম পরিস্থিতি থেকে একমাত্র তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়ই তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। তার অন্তরকে পুতঃপবিত্র করে পুণ্যবান মানুষের অন্তরে পরিণত করতে পারে। প্রকৃত পক্ষে মানুষের অন্তরই হলো তাকওয়ার স্থান। মানব দেহের তাকওয়ার স্থান কোথায় তা দেখাতে গিয়ে রাসুল (সা.) তার বক্ষ মোবারকের দিকে তিনবার ইশারা করে বলেন, তাকওয়া এখানে। (মুসলিম-২৫৬৪)।
রোজাদার ব্যক্তি সুবিহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পানাহার ও জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকে। পুরো রমজান মাসজুড়ে রোজাদার ব্যক্তি এই অনুশীলনের মাধ্যমে পরবর্তী সময় জীবনজুড়ে হারাম ও পাপকাজকে ত্যাগ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। রমজান মাসে প্রতিনিয়ত আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা আসতে থাকে ‘হে কল্যাণ অন্বেষী! অগ্রসর হও, হে অকল্যাণের পথিক! থেমে যাও এই আহ্বানটি মানুষের মধ্যে ভালো কাজের আগ্রহ তৈরি করে। মানুষের মনে আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়। মানুষের দায়িত্ব হলো এই শিক্ষাকে সারা জীবন মনে ধারণ করা ও লালন করা। যাবতীয় ইবাদত কবুলের জন্য তাকওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকওয়াবিহীন ইবাদত আল্লাহ কবুল করেন না। তাই আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারের জন্য তাকওয়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ পাথেয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর। আর শ্রেষ্ঠ পাথেয় হলো তাকওয়া (সুরা বাকারা-১৯৭)।
তাকওয়া অবলম্বনের মাধ্যমে মানুষ দ্বীনের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করতে পারে তেমনি মানুষের জাগতিক সাম্য, সম্প্রীতি, সামাজিক মূল্যবোধ ইত্যাদি সৃষ্টি হয়। তাকওয়া মানব চরিত্রের সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করে। যাবতীয় অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। মুত্তাকী ব্যক্তি সর্বত্র আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করে থাকেন বলে সহজেই কোনো পাপের দিকে মনোনিবেশ করতে পারেন না।
তাকওয়া অর্জনের পথে অন্যতম বাঁধা হলো রিয়া বা লোক দেখানো আমল। ইবাদতে রিয়াকে ছোট শিরকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই এবং তার নৈকট্য লাভ করতে চাই, তাহলে তার উচিত হলো রিয়ামুক্ত ইবাদত করা।