বাংলাদেশ ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন সন্ধ্যার মধ্যে উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম কুবি শিক্ষার্থীদের রাবিতে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের পুলিশ-বিজিবির ধাওয়া মেহেন্দিগঞ্জে অজ্ঞাতনামা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। মুন্সীগঞ্জে গায়েবানা জানাযা থেকে ঈমাম ও বিএনপি নেতাকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ কোটা আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিবৃতি চলমান পরিস্থিতিতে রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি আপাতত স্থগিত: উপাচার্য বিদেশের পাঠানো টাকা চাইতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী স্বামী রাজশাহীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত চট্রগ্রামের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ওয়াসিমের জানাজায় মানুষের ঢল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার রাস্তায় সমবায় সমিতি ভবনের ট্যাংকির ময়লা: জনদুর্ভোগ মুন্সীগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা, আহত ৫ হরিপুরে, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে কর্মী মিটিং ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গৌরীপুরে উদীচী কার্য়ালয়ে হামলা ও ভাংচুর স্ত্রীর যৌতুক মামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারাগারে

পত্নীতলায় ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্যাতিত ব্যক্তির ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:১৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ এপ্রিল ২০২২
  • ১৭৩৬ বার পড়া হয়েছে

পত্নীতলায় ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্যাতিত ব্যক্তির ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

মাহমুদুল হাসান, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর পত্নীতলায় দিবর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাহাদ জামান কর্তৃক এক নির্যাতিত ব্যক্তির ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক লাঞ্ছিত ওই সাংবাদিক  সাপাহার প্রেসক্লাব সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম (মানিক) বাদী হয়ে ৬ এপ্রিল বুধবার রাতে পত্নীতলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দিবর ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি চেয়ারম্যান রাহাদ জামান ৬ এপ্রিল বুধবার বেলা ১২ টার দিকে মল্লিকপুর মোড়ে একটি জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের আকবর আলী নামে এক ব্যক্তি কে ধরে এনে পরিষদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সাপাহার প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম মানিক ও প্রেস ক্লাব সদস্য সহকর্মী মমিন কে সাথে নিয়ে ঘটনার তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দিবর ইউনিয়ন পরিষদে যায়। সেখানে গিয়ে সাংবাদিকদের চোখে পড়ে ইউপি চেয়ারম্যান রাহাদ জামান ক্ষমতার অপব্যবহার করে আকবর আলীকে ধরে এনে পরিষদের সামনে পরিত্যক্ত একটি ঘরে তালাবন্ধ অবস্থায় নির্যাতন চালায়।
এসময় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম মানিক তালাবদ্ধ অবস্থায় নির্যাতিত ওই ব্যক্তির ছবি নিজের মুঠোফোন ধারণ করায় ইউপি চেয়ারম্যান রাহাদ জামান সাংবাদিকদের পরিষদের ভিতরে ডেকে নিয়ে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে অসৌজন্য মূলক আচরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান রাহাত জামান। যাতে করে স্থানীয় প্রায় দুই শতাধিক মানুষের সামনে সাংবাদিকদের চরম লাঞ্ছিত করেন ওই চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা বাড়িতে ফিরে এলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ‘দিবর ইউনিয়ন পরিষদ’ নামে পেইজ থেকে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম মানিকের নামে মানহানিকর পোস্ট দেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান। ফেসবুক ওই পোস্টে লেখেন “সাংবাদিক মানিক তার দলবল নিয়ে টাকার বিনিময় এক পক্ষের পক্ষপাতিত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা উল্লেখ সহ বাদী পক্ষের উপর অতর্কিত হামলা চালায়” যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তার সন্ত্রাসী মুলক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন পোস্ট দিয়েছে ওই চেয়ারম্যান বলে জানা যায়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। স্থানীয়রা আরও জানায়, শুধু এই ঘটনায় নয়, ইউপি চেয়ারম্যান রাহাদ জামান শপথ গ্রহণের পর থেকেই ইউনিয়ন এলাকায় সন্ত্রাসী কায়দায় নিজের আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব খাটিয়ে একের পরে এক অনৈতিক ঘটনা ঘটাচ্ছেন। ইউপি চেয়ারম্যানের এমন ব্যবহারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন আমরা তার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম মানিক বলেন, ঘটনার দিন আলমগীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাকে মুঠোফোনে জানাই ইউপি চেয়ারম্যান রাহাত জামান তার বড় ভাই আকবর আলী কে মারপিট করে ইউনিয়ন পরিষদে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখেছে। তার কথায় আমি ও সহকর্মী মুমিন কে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাই। এবং তালাবদ্ধ অবস্থায় আমার মুঠোফোনে আকবর আলী’র ছবি তুলি। এসময় চেয়ারম্যান রাহাত জামান আমাকে ডেকে নিয়ে তার অফিস কার্যালয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রায় দুই শতাধিক মানুষের সামনে লাঞ্ছিত করেন। পরবর্তীতে দিবর ইউনিয়ন পরিষদ নামে ফেসবুক আইডি থেকে আমার বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট করেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান। আমি এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান রাহাদ জামানকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে দিবর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাহাদ জামান এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ফেসবুকে সাংবাদিক কে কেন্দ্র করে স্ট্যাটাসের বিষয়টি আমার কাছে সঠিক মনে হয়েছে তাই প্রকাশ করেছি এবং পরিষদের ভিতরে লাঞ্ছিত আমি করিনি এলাকার লোকজন করেছে।
পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শামসুল আলম শাহ  অভিযোগের বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন

পত্নীতলায় ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্যাতিত ব্যক্তির ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

আপডেট সময় ০১:১৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ এপ্রিল ২০২২
মাহমুদুল হাসান, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর পত্নীতলায় দিবর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাহাদ জামান কর্তৃক এক নির্যাতিত ব্যক্তির ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক লাঞ্ছিত ওই সাংবাদিক  সাপাহার প্রেসক্লাব সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম (মানিক) বাদী হয়ে ৬ এপ্রিল বুধবার রাতে পত্নীতলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দিবর ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি চেয়ারম্যান রাহাদ জামান ৬ এপ্রিল বুধবার বেলা ১২ টার দিকে মল্লিকপুর মোড়ে একটি জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের আকবর আলী নামে এক ব্যক্তি কে ধরে এনে পরিষদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সাপাহার প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম মানিক ও প্রেস ক্লাব সদস্য সহকর্মী মমিন কে সাথে নিয়ে ঘটনার তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দিবর ইউনিয়ন পরিষদে যায়। সেখানে গিয়ে সাংবাদিকদের চোখে পড়ে ইউপি চেয়ারম্যান রাহাদ জামান ক্ষমতার অপব্যবহার করে আকবর আলীকে ধরে এনে পরিষদের সামনে পরিত্যক্ত একটি ঘরে তালাবন্ধ অবস্থায় নির্যাতন চালায়।
এসময় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম মানিক তালাবদ্ধ অবস্থায় নির্যাতিত ওই ব্যক্তির ছবি নিজের মুঠোফোন ধারণ করায় ইউপি চেয়ারম্যান রাহাদ জামান সাংবাদিকদের পরিষদের ভিতরে ডেকে নিয়ে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে অসৌজন্য মূলক আচরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান রাহাত জামান। যাতে করে স্থানীয় প্রায় দুই শতাধিক মানুষের সামনে সাংবাদিকদের চরম লাঞ্ছিত করেন ওই চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা বাড়িতে ফিরে এলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ‘দিবর ইউনিয়ন পরিষদ’ নামে পেইজ থেকে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম মানিকের নামে মানহানিকর পোস্ট দেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান। ফেসবুক ওই পোস্টে লেখেন “সাংবাদিক মানিক তার দলবল নিয়ে টাকার বিনিময় এক পক্ষের পক্ষপাতিত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা উল্লেখ সহ বাদী পক্ষের উপর অতর্কিত হামলা চালায়” যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তার সন্ত্রাসী মুলক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন পোস্ট দিয়েছে ওই চেয়ারম্যান বলে জানা যায়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। স্থানীয়রা আরও জানায়, শুধু এই ঘটনায় নয়, ইউপি চেয়ারম্যান রাহাদ জামান শপথ গ্রহণের পর থেকেই ইউনিয়ন এলাকায় সন্ত্রাসী কায়দায় নিজের আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব খাটিয়ে একের পরে এক অনৈতিক ঘটনা ঘটাচ্ছেন। ইউপি চেয়ারম্যানের এমন ব্যবহারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন আমরা তার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম মানিক বলেন, ঘটনার দিন আলমগীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাকে মুঠোফোনে জানাই ইউপি চেয়ারম্যান রাহাত জামান তার বড় ভাই আকবর আলী কে মারপিট করে ইউনিয়ন পরিষদে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখেছে। তার কথায় আমি ও সহকর্মী মুমিন কে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাই। এবং তালাবদ্ধ অবস্থায় আমার মুঠোফোনে আকবর আলী’র ছবি তুলি। এসময় চেয়ারম্যান রাহাত জামান আমাকে ডেকে নিয়ে তার অফিস কার্যালয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রায় দুই শতাধিক মানুষের সামনে লাঞ্ছিত করেন। পরবর্তীতে দিবর ইউনিয়ন পরিষদ নামে ফেসবুক আইডি থেকে আমার বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট করেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান। আমি এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান রাহাদ জামানকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে দিবর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাহাদ জামান এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ফেসবুকে সাংবাদিক কে কেন্দ্র করে স্ট্যাটাসের বিষয়টি আমার কাছে সঠিক মনে হয়েছে তাই প্রকাশ করেছি এবং পরিষদের ভিতরে লাঞ্ছিত আমি করিনি এলাকার লোকজন করেছে।
পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শামসুল আলম শাহ  অভিযোগের বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।