বাংলাদেশ ০১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
ফাল্গুনেও বসন্ত আসেনি আম বাগানগুলোতে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মেয়াদ উর্ত্তীন রেজিস্ট্রেশন, ডাক্তারের এর নামের শেষে প্রতারণামূলক পদবী ব্যবহার সহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ০৫ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ০১ টি চিকিৎসালয়কে জরিমানা। সরকার মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে : এড. এমরান চৌধুরী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র সরবরাহ করতে গিয়ে পেকুয়ার জয়নাল র‍্যাবে হাতে আটক ভান্ডারিয়ায় মাদ্রাসার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ১২নং চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গরীরের চেয়ারম্যান মানিক চৌধুরী জনপ্রিয়তার শীর্ষে ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬। বিদেশী মদসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-০২। শ্লীলতাহানির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের ভয় দেখিয়ে যুবতীকে ধর্ষণ এর সাথে জড়িত প্রধান আসামীকে গ্রেফতার। মহিপুর মৎস্য আড়ৎ পট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড; ভস্মিভূত একাধিক আড়ৎ- দোকান পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের নব নির্বাচিত সভাপতি মনিরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা রাসেল সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক বাহিনীতে পরিণত করা হবে প্রধানমন্ত্রী রায়গঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রফিকুল সম্পাদক ইয়ামিন কাল রুয়েটে প্রকৌশল গুচ্ছ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সাড়ে সাত হাজার ভর্তিচ্ছু

টিপু’কে অনুসরণকারীসহ ০৪ জনকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ এপ্রিল ২০২২
  • ১৬৫৮ বার পড়া হয়েছে

টিপু’কে অনুসরণকারীসহ ০৪ জনকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

 

 

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বহুল আলোচিত এবং চাঞ্চল্যকর রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় জাহিদুল ইসলাম টিপু এবং সামিয়া আফরান প্রীতি হত্যাকান্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড এবং টিপু’কে অনুসরণকারীসহ ০৪ জনকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

 

গত ২৪ মার্চ ২০২২ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে দশটায় দুস্কৃতিকারীর গুলিতে জাহিদুল ইসলাম টিপু নিহত হয়। এছাড়া ঘটনা স্থলে একজন নিরীহ কলেজ ছাত্রী নিহত হয়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ডলি শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা রুজু করেন। যার মামলা নং-১৮, তারিখ ২৫/০৩/২০২২, ধারা ৩০২/৩৪/৩২৬/৩০৭।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা এবং বিশেষ করে একজন কলেজ ছাত্রীর নিহত হওয়ায় দেশ ব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং মিডিয়াতে গুরুত্বের সাথে সংবাদ প্রচারিত হয়। ফলশ্রæতিতে র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৩ এর অভিযানে গত রাতে রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর ও মিরপুর এলাকা হতে ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী (১) ওমর ফারুক (৫২) পিতাঃ মোঃ আব্দুর রহিম, সুধারাম, নোয়াখালীসহ পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত, (২) আবু সালেহ শিকদার @ শুটার সালেহ (৩৮) পিতাঃ মৃত আবু সাইদ, পটিয়া, চট্টগ্রাম, (৩) মোঃ নাছির উদ্দিন @ কিলার নাছির (৩৮), পিতাঃ মৃত মোঃ ইসমাইল, নড়িয়া, শরীয়তপুর এবং (৪) মোঃ মোরশেদুল আলম @ কাইল্লা পলাশ (৫১), পিতাঃ মৃত মোঃ মকছুদুল হক, গংগাচড়া, রংপুর’দেরকে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত অভিযানে উদ্ধার করা হয় নজরদারীর কাজে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল এবং হত্যার কাজে প্রদান যোগ্য ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইলসহ অন্যান্য সামগ্রী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বর্ণিত হত্যাকান্ডের পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।

গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকান্ডের মোটিভ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানায় যে, দীর্ঘদিন যাবৎ ভিকটিম ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান ছিল। মতিঝিল এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজের ভর্তি বাণিজ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্ব›দ্ব-সংঘাত চলমান রয়েছে। দ্ব›দ্ব-সংঘাতের পরম্পরায় গত ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই তারিখে গুলশান শপার্স ওয়ার্ল্ড এর সামনে মিল্কী হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়। মিল্কী হত্যাকান্ডের ০৩ বছরের ভিতর একই এলাকার বাসিন্দা রিজভি হাসান@ বোচা বাবু হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়।

গ্রেফতারকৃতরা জানায় যে, মিল্কী হত্যাকান্ডের সাথে টিপুর সম্পৃক্ততা রয়েছে মর্মে গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক, পলাশসহ একটি পক্ষ মানববদ্ধন, আলোচনা সভা, পোস্টার লাগানো ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া বাদীর মাধ্যমে চার্জশিটের নারাজী প্রদানের মাধ্যমে চেষ্টা চালায়। তথাপি জাহিদুল ইসলাম টিপু মামলা হতে অব্যাহতি পায়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক ও অন্যান্য সহযোগীরা স্বার্থগত দ্বন্দের কারণে টিপুর অন্যতম সহযোগী রিজভী হাসানকে ২০১৬ সালে হত্যা করে। বর্তমানে রিজভী হাসান হত্যাকান্ডটি দ্রæত বিচার ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বিচার কার্য শুরু হয়। গ্রেফতারকৃতরা জানায় তাদের ধারণা প্রতিপক্ষ টিপুর কারণেই রিজভী হাসান হত্যাকান্ডটি দ্রæত বিচার ট্রাইবুনালে স্থানান্তরিত হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার বাদী রিজভী হাসান বাবুর পিতা আবুল কালামের সাথে গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক ও তার সহযোগীরা ৫০ লক্ষ টাকায় দফারফা করার চেষ্টা করে।

 

 

তথাপিও জাহিদুল ইসলাম টিপুর কারণে কালাম মিমাংসায় আসেনি বলে গ্রেফতারকৃতরা জানায়। অধিকন্তু জাহিদুল ইসলাম টিপু কালামকে নিয়ে সার্বক্ষণিক চলাচল করতে থাকে। তারা এক পর্যায়ে কালামকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে, কিন্তু জাহিদুল ইসলাম টিপুর সাথে চলাচল করার কারণে তা সম্ভব হয়নি। অতঃপর তারা যখন দেখল কালামের সাক্ষ্য গ্রহন শেষ হয়ে যায় তখন তারা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করে যাতে মামলা পরিচালনা ধীরগতি করা যায়। তাদের ধারণা বাদী কালাম একা মামলাটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবেনা। এরই প্রেক্ষিতে প্রায় ৩ মাস আগে সাক্ষ্য শেষে আদালত চত্ত¡র এলাকায় হত্যাকান্ডের সংগঠনের প্রাথমিক আলোচনা করে।

 

গ্রেফতারকৃতরা আরো জানায় যে, রিজভী হাসান @ বোচা বাবু হত্যাকান্ডের অন্যতম সাক্ষী গ্রেফতারকৃত মোঃ মোরশেদুল আলম @ কাইল্লা পলাশকে তারা অর্থের বিনিময়ে সাক্ষ্য প্রদানে বিরত থাকতে বলে। গ্রেফতারকৃত মোরশেদুল আলম রাজী থাকা সত্বেও জাহিদুল ইসলাম টিপুর চাপে সে সাক্ষ্য দেয়। মোরশেদুল আলম পরবর্তীতে রিজভী হাসান হত্যাকান্ডের গ্রেফতারকৃত আসামীদের সাথে যুক্ত হয়ে জাহিদুল ইসলাম টিপুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশ নেয়। গ্রেফতারকৃত মোরশেদুল আলম হত্যাকান্ড বাস্তবায়নের জন্য ফারুক ও মুসাকে ফোনে কয়েকজন আন্ডার ওয়ার্ল্ড এর সন্ত্রাসীদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। হত্যাকান্ডটি বাস্তবায়নের চ‚ড়ান্ত সমন্বয়ের জন্য মুসা গত ১২ মার্চ ২০২২ তারিখ দুবাই গমন করে। সেখানেই হত্যাকান্ড সংঘঠনের চুড়ান্ত সমন্বয় করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা আরো জানায় যে, হত্যাকান্ডটি দেশে সংঘঠিত হলেও নিয়ন্ত্রণ করা হয় দুবাই হতে। দেশ হতে নাছির উদ্দিন @ কিলার নাছির, মোরশেদুল আলম @ কাইল্লা পলাশসহ আরোও কয়েকজন জাহিদুল ইসলাম টিপুর অবস্থান সম্পর্কে বেশ কয়েকদিন যাবত মুসার কাছে তথ্য প্রেরণ করত। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর গ্রেফতারকৃত মোঃ নাছির উদ্দিন @ কিলার নাছির আনুমানিক চারবার জাহিদুল ইসলাম টিপুর অবস্থান সম্পর্কে মুসাকে অবহিত করে। পরবর্তীতে জাহিদুল ইসলাম টিপুর গ্রান্ড সুলতান রেস্টুরেন্ট হতে বের হওয়ার সময় মোঃ মোরশেদুল আলম @ কাইল্লা পলাশ তাকে নজরদারিতে রাখে এবং তার অবস্থান সম্পর্কে সে ফ্রিডম মানিককে অবহিত করে। বর্ণিত অবস্থান সম্পর্কে জানানোর প্রেক্ষিতে আনুমানিক রাত ২২৩০ ঘটিকায় আন্ডার ওয়ার্ল্ড এর তত্ত¡াবধানে কিলার কর্তৃক হত্যাকান্ডটি সংগঠিত হয় বলে গ্রেফতারকৃতরা জানায়।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুকের সাথে বর্ণিত হত্যাকান্ডের জন্য ১৫ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়। উক্ত ১৫ লক্ষ টাকা রিজভী হাসান হত্যাকান্ডের আসামীদের মধ্যে ওমর ফারুক ৯ লক্ষ; অবশিষ্ট অর্থ মোঃ নাছির উদ্দিন @ কিলার নাছির, আবু সালেহ শিকদার @ শুটার সালেহ এবং মুসা প্রদান করে। দুবাইয়ে গমনের সময় মুসা ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় এবং হুন্ডির মাধ্যমে মুসাকে আরও ০৪ লক্ষ টাকা প্রেরণ করা হয়। অবশিষ্ট ৬ লক্ষ টাকা দেশে হস্তান্তর করার চুক্তি হয়। উল্লেখ্য যে, মুসা ২০১৬ সালে রিজভী হাসান হত্যাকান্ডের চার্জশীটভূক্ত ৩নং আসামী।

গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক বর্ণিত টিপু হত্যাকান্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী। হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা, আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও হত্যাকান্ড সংগঠনের জন্য তত্ত¡াবধান ও অর্থ লেনদেন করে। গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক ২০১৬ সালে রিজভী হাসান হত্যাকান্ডের চার্জশীটভূক্ত ৪নং আসামী এবং উক্ত মামলায় সে ইতোপূর্বে কারাভোগ করে।

গ্রেফতারকৃত নাছির উদ্দিন @ কিলার নাছির বর্ণিত হত্যাকান্ড সংঘঠনের সময় জাহিদুল ইসলাম টিপুকে নজরদারী ও হত্যাকান্ডের জন্য অর্থ প্রদান করেছে। ঘটনাস্থলের সন্নিকটে তাকে সাদাশার্ট, জিন্সপ্যান্ট ও কেডস্/জুতা পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনা পরবর্তীতে সে তার মোবাইল ফ্লাশ করে বিক্রি করে দেয় ও সীমকার্ড ভেঙ্গে ফেলে। র‌্যাব পরবর্তীতে উক্ত মোবাইলফোন ও সীমকার্ড উদ্ধার করে। এছাড়া ঘটনার আগেরদিন সে সীমান্তবর্তী চৌদ্দগ্রাম এলাকায় একদিন অবস্থান করেছিল। সে রিজভী হাসান বাবু হত্যাকান্ডের ১ নং চার্জশীটভ‚ক্ত আসামী। তার নামে অস্ত্র আইনে পল্লবী থানায় আরও ০১ টি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত মোরশেদুল আলম @ কাইল্লা পলাশ ঘটনার দিন জাহিদুল ইসলাম টিপুকে নজরদারী ও আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সাথে সমন্বয় করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে হত্যাকান্ডটি বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে। ইতোপূর্বে সে মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনের একটি মামলায় কারাভোগ করেছে।

গ্রেফতারকৃত আবু সালেহ শিকদার @ শুটার সালেহ ঘটনার পরিকল্পনা ও অর্থ প্রদানের সাথে জড়িত। সে রিজভী হাসান বাবু হত্যাকান্ডের ২ নং চার্জশীটভুক্ত আসামী। তার নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধে ১২টি মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মোঃ খায়রুল কবীর সহকারী পুলিশ সুপার সহকারী পরিচালক (অপস্ ও ইন্ট শাখা) পক্ষে পরিচালক

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাল্গুনেও বসন্ত আসেনি আম বাগানগুলোতে

টিপু’কে অনুসরণকারীসহ ০৪ জনকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

আপডেট সময় ০৫:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ এপ্রিল ২০২২

 

 

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বহুল আলোচিত এবং চাঞ্চল্যকর রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় জাহিদুল ইসলাম টিপু এবং সামিয়া আফরান প্রীতি হত্যাকান্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড এবং টিপু’কে অনুসরণকারীসহ ০৪ জনকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

 

গত ২৪ মার্চ ২০২২ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে দশটায় দুস্কৃতিকারীর গুলিতে জাহিদুল ইসলাম টিপু নিহত হয়। এছাড়া ঘটনা স্থলে একজন নিরীহ কলেজ ছাত্রী নিহত হয়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ডলি শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা রুজু করেন। যার মামলা নং-১৮, তারিখ ২৫/০৩/২০২২, ধারা ৩০২/৩৪/৩২৬/৩০৭।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা এবং বিশেষ করে একজন কলেজ ছাত্রীর নিহত হওয়ায় দেশ ব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং মিডিয়াতে গুরুত্বের সাথে সংবাদ প্রচারিত হয়। ফলশ্রæতিতে র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৩ এর অভিযানে গত রাতে রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর ও মিরপুর এলাকা হতে ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী (১) ওমর ফারুক (৫২) পিতাঃ মোঃ আব্দুর রহিম, সুধারাম, নোয়াখালীসহ পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত, (২) আবু সালেহ শিকদার @ শুটার সালেহ (৩৮) পিতাঃ মৃত আবু সাইদ, পটিয়া, চট্টগ্রাম, (৩) মোঃ নাছির উদ্দিন @ কিলার নাছির (৩৮), পিতাঃ মৃত মোঃ ইসমাইল, নড়িয়া, শরীয়তপুর এবং (৪) মোঃ মোরশেদুল আলম @ কাইল্লা পলাশ (৫১), পিতাঃ মৃত মোঃ মকছুদুল হক, গংগাচড়া, রংপুর’দেরকে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত অভিযানে উদ্ধার করা হয় নজরদারীর কাজে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল এবং হত্যার কাজে প্রদান যোগ্য ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইলসহ অন্যান্য সামগ্রী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বর্ণিত হত্যাকান্ডের পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।

গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকান্ডের মোটিভ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানায় যে, দীর্ঘদিন যাবৎ ভিকটিম ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান ছিল। মতিঝিল এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজের ভর্তি বাণিজ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্ব›দ্ব-সংঘাত চলমান রয়েছে। দ্ব›দ্ব-সংঘাতের পরম্পরায় গত ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই তারিখে গুলশান শপার্স ওয়ার্ল্ড এর সামনে মিল্কী হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়। মিল্কী হত্যাকান্ডের ০৩ বছরের ভিতর একই এলাকার বাসিন্দা রিজভি হাসান@ বোচা বাবু হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়।

গ্রেফতারকৃতরা জানায় যে, মিল্কী হত্যাকান্ডের সাথে টিপুর সম্পৃক্ততা রয়েছে মর্মে গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক, পলাশসহ একটি পক্ষ মানববদ্ধন, আলোচনা সভা, পোস্টার লাগানো ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া বাদীর মাধ্যমে চার্জশিটের নারাজী প্রদানের মাধ্যমে চেষ্টা চালায়। তথাপি জাহিদুল ইসলাম টিপু মামলা হতে অব্যাহতি পায়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক ও অন্যান্য সহযোগীরা স্বার্থগত দ্বন্দের কারণে টিপুর অন্যতম সহযোগী রিজভী হাসানকে ২০১৬ সালে হত্যা করে। বর্তমানে রিজভী হাসান হত্যাকান্ডটি দ্রæত বিচার ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বিচার কার্য শুরু হয়। গ্রেফতারকৃতরা জানায় তাদের ধারণা প্রতিপক্ষ টিপুর কারণেই রিজভী হাসান হত্যাকান্ডটি দ্রæত বিচার ট্রাইবুনালে স্থানান্তরিত হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার বাদী রিজভী হাসান বাবুর পিতা আবুল কালামের সাথে গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক ও তার সহযোগীরা ৫০ লক্ষ টাকায় দফারফা করার চেষ্টা করে।

 

 

তথাপিও জাহিদুল ইসলাম টিপুর কারণে কালাম মিমাংসায় আসেনি বলে গ্রেফতারকৃতরা জানায়। অধিকন্তু জাহিদুল ইসলাম টিপু কালামকে নিয়ে সার্বক্ষণিক চলাচল করতে থাকে। তারা এক পর্যায়ে কালামকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে, কিন্তু জাহিদুল ইসলাম টিপুর সাথে চলাচল করার কারণে তা সম্ভব হয়নি। অতঃপর তারা যখন দেখল কালামের সাক্ষ্য গ্রহন শেষ হয়ে যায় তখন তারা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করে যাতে মামলা পরিচালনা ধীরগতি করা যায়। তাদের ধারণা বাদী কালাম একা মামলাটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবেনা। এরই প্রেক্ষিতে প্রায় ৩ মাস আগে সাক্ষ্য শেষে আদালত চত্ত¡র এলাকায় হত্যাকান্ডের সংগঠনের প্রাথমিক আলোচনা করে।

 

গ্রেফতারকৃতরা আরো জানায় যে, রিজভী হাসান @ বোচা বাবু হত্যাকান্ডের অন্যতম সাক্ষী গ্রেফতারকৃত মোঃ মোরশেদুল আলম @ কাইল্লা পলাশকে তারা অর্থের বিনিময়ে সাক্ষ্য প্রদানে বিরত থাকতে বলে। গ্রেফতারকৃত মোরশেদুল আলম রাজী থাকা সত্বেও জাহিদুল ইসলাম টিপুর চাপে সে সাক্ষ্য দেয়। মোরশেদুল আলম পরবর্তীতে রিজভী হাসান হত্যাকান্ডের গ্রেফতারকৃত আসামীদের সাথে যুক্ত হয়ে জাহিদুল ইসলাম টিপুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশ নেয়। গ্রেফতারকৃত মোরশেদুল আলম হত্যাকান্ড বাস্তবায়নের জন্য ফারুক ও মুসাকে ফোনে কয়েকজন আন্ডার ওয়ার্ল্ড এর সন্ত্রাসীদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। হত্যাকান্ডটি বাস্তবায়নের চ‚ড়ান্ত সমন্বয়ের জন্য মুসা গত ১২ মার্চ ২০২২ তারিখ দুবাই গমন করে। সেখানেই হত্যাকান্ড সংঘঠনের চুড়ান্ত সমন্বয় করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা আরো জানায় যে, হত্যাকান্ডটি দেশে সংঘঠিত হলেও নিয়ন্ত্রণ করা হয় দুবাই হতে। দেশ হতে নাছির উদ্দিন @ কিলার নাছির, মোরশেদুল আলম @ কাইল্লা পলাশসহ আরোও কয়েকজন জাহিদুল ইসলাম টিপুর অবস্থান সম্পর্কে বেশ কয়েকদিন যাবত মুসার কাছে তথ্য প্রেরণ করত। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর গ্রেফতারকৃত মোঃ নাছির উদ্দিন @ কিলার নাছির আনুমানিক চারবার জাহিদুল ইসলাম টিপুর অবস্থান সম্পর্কে মুসাকে অবহিত করে। পরবর্তীতে জাহিদুল ইসলাম টিপুর গ্রান্ড সুলতান রেস্টুরেন্ট হতে বের হওয়ার সময় মোঃ মোরশেদুল আলম @ কাইল্লা পলাশ তাকে নজরদারিতে রাখে এবং তার অবস্থান সম্পর্কে সে ফ্রিডম মানিককে অবহিত করে। বর্ণিত অবস্থান সম্পর্কে জানানোর প্রেক্ষিতে আনুমানিক রাত ২২৩০ ঘটিকায় আন্ডার ওয়ার্ল্ড এর তত্ত¡াবধানে কিলার কর্তৃক হত্যাকান্ডটি সংগঠিত হয় বলে গ্রেফতারকৃতরা জানায়।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুকের সাথে বর্ণিত হত্যাকান্ডের জন্য ১৫ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়। উক্ত ১৫ লক্ষ টাকা রিজভী হাসান হত্যাকান্ডের আসামীদের মধ্যে ওমর ফারুক ৯ লক্ষ; অবশিষ্ট অর্থ মোঃ নাছির উদ্দিন @ কিলার নাছির, আবু সালেহ শিকদার @ শুটার সালেহ এবং মুসা প্রদান করে। দুবাইয়ে গমনের সময় মুসা ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় এবং হুন্ডির মাধ্যমে মুসাকে আরও ০৪ লক্ষ টাকা প্রেরণ করা হয়। অবশিষ্ট ৬ লক্ষ টাকা দেশে হস্তান্তর করার চুক্তি হয়। উল্লেখ্য যে, মুসা ২০১৬ সালে রিজভী হাসান হত্যাকান্ডের চার্জশীটভূক্ত ৩নং আসামী।

গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক বর্ণিত টিপু হত্যাকান্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী। হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা, আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও হত্যাকান্ড সংগঠনের জন্য তত্ত¡াবধান ও অর্থ লেনদেন করে। গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক ২০১৬ সালে রিজভী হাসান হত্যাকান্ডের চার্জশীটভূক্ত ৪নং আসামী এবং উক্ত মামলায় সে ইতোপূর্বে কারাভোগ করে।

গ্রেফতারকৃত নাছির উদ্দিন @ কিলার নাছির বর্ণিত হত্যাকান্ড সংঘঠনের সময় জাহিদুল ইসলাম টিপুকে নজরদারী ও হত্যাকান্ডের জন্য অর্থ প্রদান করেছে। ঘটনাস্থলের সন্নিকটে তাকে সাদাশার্ট, জিন্সপ্যান্ট ও কেডস্/জুতা পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনা পরবর্তীতে সে তার মোবাইল ফ্লাশ করে বিক্রি করে দেয় ও সীমকার্ড ভেঙ্গে ফেলে। র‌্যাব পরবর্তীতে উক্ত মোবাইলফোন ও সীমকার্ড উদ্ধার করে। এছাড়া ঘটনার আগেরদিন সে সীমান্তবর্তী চৌদ্দগ্রাম এলাকায় একদিন অবস্থান করেছিল। সে রিজভী হাসান বাবু হত্যাকান্ডের ১ নং চার্জশীটভ‚ক্ত আসামী। তার নামে অস্ত্র আইনে পল্লবী থানায় আরও ০১ টি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত মোরশেদুল আলম @ কাইল্লা পলাশ ঘটনার দিন জাহিদুল ইসলাম টিপুকে নজরদারী ও আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সাথে সমন্বয় করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে হত্যাকান্ডটি বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে। ইতোপূর্বে সে মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনের একটি মামলায় কারাভোগ করেছে।

গ্রেফতারকৃত আবু সালেহ শিকদার @ শুটার সালেহ ঘটনার পরিকল্পনা ও অর্থ প্রদানের সাথে জড়িত। সে রিজভী হাসান বাবু হত্যাকান্ডের ২ নং চার্জশীটভুক্ত আসামী। তার নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধে ১২টি মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মোঃ খায়রুল কবীর সহকারী পুলিশ সুপার সহকারী পরিচালক (অপস্ ও ইন্ট শাখা) পক্ষে পরিচালক