মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর সুজাপুর গ্রামের মোঃ শাখাওয়াত মিস্ত্রির গরুর খামারের আবর্জনা ময়লার দুর্গন্ধ ও খড় কাটা মেশিন এর শব্দে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। প্রতিপক্ষ মোঃ অলি উল্লাহ্ গত রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় বাঁধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষের মারপিটে আহত হন। ফুলবাড়ী উপজেলার পৌরসভা এলাকার উত্তর সুজাপুর গ্রামে বসতি এলাকায় খামার করে গরু পালন করছে শহীদ মিস্ত্রি। সেই খামারের ময়লা, আবর্জনা জমা করেন বাড়ির পার্শ্বেই দূর্গন্ধে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি খড় কাটা মেশিন এর শব্দে ঘুমাতে পারছে না এলাকাবাসী। দুর্গন্ধ ও শব্দ দূষণ নিরশনের জন্য পৌরসভায় একটি অভিযোগ দেন অলি উল্লাহ। উল্লেখ্য যে, গত রবিবার পৌরসভায় অভিযোগ করলে তা তদন্ত করার নির্দেশ দেন পৌর মেয়র।
সেই প্রেক্ষিতে ফুলবাড়ী পৌরসভার স্বাস্থ্য ইন্সপেক্টর মোঃ মুরাদ জানান, তদন্ত করে দেখেন সেখানে এ ধরনের গরুর ছানি কাটা মেশিন বসিয়ে শব্দ দূষণ করছেন এবং পরিবেশ নষ্ট করছেন। পৌরসভা থেকে কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানান। সেই ঘটনা তদন্ত করতে গেলে শহীদ মিস্ত্রি ক্ষিপ্ত হয়ে মোঃ অলি উল্লাহ্ ও তার স্ত্রীকে মারধর করেন। বর্তমানে তারা ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী মোঃ অলি উল্লাহ।
দিনাজপুরের বন বিভাগের উন্মাদনা টেন্ডারে লট না পাওয়া সত্বেও ভুয়া বিডি তৈরি করে কাঠ ব্যবসায়ী সাইমুলের বিরুদ্ধে হয়রানি মুলক সার্টিফিকেট সহ ১৪ টি বন মামলা।
মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুর বন বিভাগের চরকাই রেঞ্জের বন কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বিশিষ্ট কাঠ ব্যবসায়ী সাইমুল হক কে একের পর এক ১৪ টি বন মামলা এবং পরিশেষে টেন্ডারের মাধ্যমে লট না পাওয়া সত্বেও ভুয়া বিডি তৈরি করে সার্টিফিকেট মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার খনিজ শিল্পাঞ্চল মধ্যপাড়াএলাকার মরহুম আব্দুর রফিক মন্ডল ( সাবেক ইউপি সদস্য) এর ছেলে বিশিষ্ট কাঠ ব্যবসায়ী ও সুরাইয়া ফার্নিচার মার্ট এর প্রোপাইটার মোঃ সাইমুল হক ২০/৮/২০১৯ তারিখে দাখিল কৃত দরপত্র মুলে মেসার্স সুরাইয়া ফার্নিচার মার্ট এর অনুকূলে ৪১৫১ পত্র নং এ তিনটি লট ক্রমিক নং১ যাহার লট নং ০৩/ সদর/০৩/ সদর বিট(খাড়া) অব১৯-২০ নং ক্রঃনঃ ২ লট নং ০৭/ সদর /০৭/ সদর বিট ( খাড়া) অব১৯-২০ ক্রঃনং ৩ লট নং ১০/ সদর/১০/ সদর বিট( খাড়া)অব ১৯-২০ মোট ৩৫৪৪৫০ টাকায় প্রাপ্ত হয়। একই তারিখের দরপত্রের আলোকে ৩৯৬১ পত্র নং এ ০৪ টি লট যথাক্রমে ক্রঃনং ১ লটনং ০১/ সদর /০১/ সদর বিট (খাড়া) ১৯-২০ ক্রঃনং ২ লট নং০৬ সদর বিট /০৬/ সদর বিট ( খাড়া) অব ১৯-২০ ক্রঃনং ৩ লট নং /০৮/ সদর বিট (খাড়) অব ১৯-২০এবং ক্রঃনং ৪ লট নং ১১/ সদর /১১/ সদর বিট (খাড়া)অব ১৯-২০ মোট ৩২০২৩২টাকা। ০৭ টি লট মোট ৬৭৪৬৮২ টাকায় বনজ দ্রব্য দরপত্র গ্রহন নির্দেশনা মোতাবেক কর্তন করা হয়। দরপত্রের মোট ০৭ টি লট বিধি মোতাবেক আয়কর ভ্যাট পরিশোধ সাপেক্ষে কর্তনের ১১ মাস পরে লট নং ১৮৬ চর/৩১/খাড়া ২০১৮-১৯ কর্তনের জন্য অফিস আদেশ নং১২৮ তারিখ ২০/০৯/২০২০ প্রদত্ত ১৩৬০০০/ টাকার দর সর্বোচ্চ হওয়ায় গৃহীত হয় এবং লটের বিপরীতে অগ্রনী ব্যাংক লিমিটেড নবাব গনজ শাখার চ.ঙ.অ নং ২০৫০৫০৯ তারিখ ২৮/০৪/২০১৯ এর ১৫০০০/ টাকা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হলো মর্মে দিনাজপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়। ব্যবসায়ী সাইমুল হকের অভিযোগ বাগানের লট কর্তনের ১৩ মাস পরে মনগড়া তথ্য দিয়ে চিঠি ইস্যু ব্যবসায়িক হয়রানি ছাড়া কিছুই নয়। লট নং ১৮৬ চর /৩১/ঘোড়া (খাড়া)২০১৮-১৯ লটটি ২য় টেন্ডারের মাধ্যমে মধ্যপাড়ার এজাব উদ্দিনের ছেলে মোস্তাফিজার রহমান পায় এবং কর্তন করেন। আমার দাখিল কৃত বিডি সোনালী ব্যাংক লিমিটেড মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প শাখা টাকার পরিমাণ ২১৩০০/ । যে লট আমি পাইনি এবং লট না পাওয়ার কারেন আমার বিডি ফেরৎ প্রদান করায় বিধি মোতাবেক আমি বিডির অনুকূলে জমা কৃত টাকা উত্তোলন করেছি সেখানে নবাবগঞ্জের অগ্রনী ব্যাংকের বিডি তৈরি করে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ও হয়রানি মুলক। শুধু তাই নয় সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হলেও কোন লট না কর্তন করার কারণে মামলা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। গেছে বিতর্কিত লট টির উপকার ভোগীরা সরকারি বিধি মোতাবেক লভ্যাংশ প্রাপ্ত হওয়া সত্বেও সার্টিফিকেট মামলা নং ১০৩/২৩-২৪ নিয়ে আদালতের বারান্দায় দৌড় ঝাপ করতে হচ্ছে সাইমুল হক কে। শুধু তাই নয় ২০১১ সাল থেকে দাখিলকৃত বন বিভাগের হয়রানি মুলক মোট ১৪ টি বন মামলার মোকাবিলা করতে হয়েছে এই কাঠ ব্যবসায়ী কে।
ইতিমধ্যে ১৩ টি মিথ্যা বন মামলা হতে নির্দোষ প্রমানিত হওয়ায় তিনি অব্যাহতি লাভ করেছেন। নতুন করে আবারো দুটি মামলা কে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তার উন্মদনা হিসাবে দেখছেন সচেতন মহল অধিকাংশ বন মামলা সমুহের বাদী বিট/ রেন্জ অফিসার নিশিকান্ত মালাকার।
তিনি মধ্যপাড়ায় বিট অফিসার থাকাকালীন সময়ে মধ্যপাড়া বাজারের সিনেমা হলের ব্যাক্তিমালিকানা জমিতে দোকান ঘর নির্মান কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিলে বিট অফিসার নিশিকান্ত মালাকার এবং ব্যবসায়ী সাইমুল হকের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল তারই ধারাবাহিকতায় নিশিকান্ত মালাকার বদলীপূর্ব বর্তী এবং বদলি পরবর্তী সময়ে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিজে এবং ক্ষেত্র বিশেষ অন্যকে বাদী বানিয়ে সাইমুল হকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা মুলক ভাবে মামলা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।
সাইমুল হকের বাসা পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়ায় হওয়া সত্বেও ভোর ০৭ ঘটিকায় চরকাই রেঞ্জের ঘোড়াঘাট এসএফপিসি সৃজিত গাছ কর্তনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সামাজিক বনায়ন নার্সারী কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ বাহারুল ইসলাম কে বাদী করিয়েছেন যার মামলা নং ১২/সি। এভাবে মামলা দিয়েই তিনি শান্ত হননি এখন সার্টিফিকেট দিয়ে নতুন করে হয়রানির চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে রেন্জ অফিসার নিশিকান্ত মালাকারের ০১৭৪০৮২৩৭৪৪ নং এ কথা বলা হলে তিনি মতামত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।