আলোর উৎসব 'দীপাবলি' ঘিরে কুমারপল্লিতে ব্যস্ততা
আলোর উৎসব 'দীপাবলি' ঘিরে কুমারপল্লিতে ব্যস্ততা
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কয়েক দিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা (কালীপূজা) ও আলোর উৎসব দীপাবলি। এ উৎসবকে ঘিরে মাটির প্রদীপ (দিয়ারি) তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার মাঝিপাড়া কুমারপল্লির মৃৎশিল্পীরা। মাটির তৈরি প্রদীপের চাহিদা জোগানে দিনরাত কাজ করছেন তারা। পরিবারের নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোররাও এ কাজে সহযোগিতা করছে। কারও যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। জানা গেছে, মাঝিপাড়া কুমারপল্লির মৃৎশিল্পীরা পূর্বপুরুষের পেশা ও ঐতিহ্য ধরে রেখে মাটির বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করে সংসার চালিয়ে আসছেন। তারা হাঁড়িপাতিল, পুতুলসহ দৈনন্দিন ও মেলার চাহিদা অনুযায়ী নানা পণ্য তৈরি করে থাকেন।
সামনে কালীপূজা ও দীপাবলিকে কেন্দ্র করে মৃৎশিল্পীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের তৈরি করা মাটির প্রদীপ স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর আশপাশের বিভিন্ন জেলাতেও বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছে। মৃৎশিল্পী বিষ্ণু চন্দ্র পাল ও তাঁর স্ত্রী টুম্পা রানী পাল জানান, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কালীপূজা ও দীপাবলির আগে মাটির প্রদীপের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। এ সময় প্রদীপ বিক্রি করে কিছুটা বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। তাই আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়ে কাজে নেমেছেন তারা। ২০ হাজার মাটির প্রদীপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এক-দুই দিনের মধ্যে সব প্রদীপ তৈরির কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তারা। আনন্দ কুমার পাল ও বেরেন চন্দ্র পাল জানান, স্থানীয় বাজারে প্রতি ১০০টি প্রদীপ ৫০ টাকা দরে ১০ হাজার প্রদীপ বিক্রি করা হবে। তারা বলেন, আগের তুলনায় মাটির দাম বেড়েছে, বেড়েছে জ্বালানি ও অন্যান্য উপকরণের খরচও। সে তুলনায় বাড়েনি প্রদীপের দাম। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী
উপজেলা শাখার সভাপতি কার্তিক চন্দ্র সরকার ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি সুনীল চন্দ্র রায় জানান, আগামী ৮ নভেম্বর (রোববার) অমাবস্যা তিথিতে মহাশক্তিরূপিণী, দুর্গতিনাশিনী শ্রীশ্রী শ্যামা মায়ের পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছরের মতো এবারও শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে কুমারপল্লিগুলোতে মাটির প্রদীপের চাহিদা বেড়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজামণ্ডপের পাশাপাশি নিজেদের বাড়িঘরও ঐতিহ্যবাহী মাটির প্রদীপের আলোয় আলোকিত করবেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স