ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ , ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বিআরটিএ সানাউল-সলিম ‘সিন্ডিকেটে’ জিম্মি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১১-০২ ১৮:৪৯:৩২
চট্টগ্রাম বিআরটিএ সানাউল-সলিম ‘সিন্ডিকেটে’ জিম্মি চট্টগ্রাম বিআরটিএ সানাউল-সলিম ‘সিন্ডিকেটে’ জিম্মি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামে বিআরটি এ মেট্রো -২ ও এ সার্কেল সরকারি ফি পরিশোধ করেও দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের। ফাইল আটকে থাকছে টেবিলে। অথচ দালালের মাধ্যমে বাড়তি টাকা দিলেই একই কাজ দ্রুত হয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম মেট্রো-২ সার্কেলে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. সানাউল হক ও জেলা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সলিম উল্যাহ।

একাধিক সেবাপ্রার্থীর অভিযোগ, বায়েজিদ বালুচরায় অবস্থিত কার্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি দালালনির্ভর চক্র সক্রিয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে যানবাহনের ফিটনেস, রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন ও মালিকানা পরিবর্তন বিভিন্ন সেবা ঘিরে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। আরও গুরুতর অভিযোগ, নির্ধারিত পরীক্ষা ছাড়াই ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যথাযথ যান্ত্রিক পরিদর্শন ছাড়াই যানবাহনের ফিটনেস সনদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে সেখানে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট সব নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, কার্যালয়ে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী চক্রের নেপথ্যে সানাউল হক ও সলিম উল্যাহর ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সাধারণ সেবাপ্রার্থী নিয়ম মেনে আবেদন করলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে থাকে। কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে একই সেবা তুলনা মূলক দ্রুত পাওয়া যায়। সেবাপ্রার্থীদের বক্তব্যে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বহিরাগত ব্যক্তির নাম এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী মোটরযান পরিদর্শক আব্দুল মতিন, জেলা রেজিস্ট্রেশন শাখার টিপু সুলতান, অফিস সহকারী-পিয়ন খোরশেদ আলম, নৈশপ্রহরী লিটন এবং বহিরাগত হিসেবে পরিচিত রুবেল।

তাঁদের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা। বিশেষ করে লিটনের বিরুদ্ধে অস্থায়ী কর্মী হয়েও গুরুত্বপূর্ণ শাখার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি কয়েকজন সেবাপ্রার্থীর দাবি, বিভিন্ন কাজের জন্য সেখানে ‘অলিখিত রেট’ রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা ছাড়াই ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়। আবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আবেদন করলেও দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত ৫ - ৭ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ রয়েছে।
 

যানবাহনের ফিটনেস ও রুট পারমিটের ক্ষেত্রেও কয়েক হাজার থেকে কয়েক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা। অক্সিজেন এলাকার লেগুনাচালক আকবর এবং বহদ্দারহাট এলাকার সিএনজি চালক রাশেদ, ১ নং রোড় মিনি বাস চালক কাশেম সহ কয়েকজনের অভিযোগ, বৈধ প্রক্রিয়ায় আবেদন করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিপরীতে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে দ্রুত সেবা মেলে।

 
সানাউল হকের বিরুদ্ধে এর আগে সিলেট ও ঢাকার মিরপুরে দায়িত্ব পালনকালেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে। সিলেটে তাঁকে ঘিরে পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনের কথাও জানিয়েছেন তারা। তবে অতীতের এসব অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট নথি এবং সেগুলোর প্রশাসনিক পরিণতি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

 
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপ-পরিচালক মো. সানাউল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। জেলা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সলিম উল্যাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি ব্যবস্থার অযুহাত দেখিয়ে কথা বলেন নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি শুধু আর্থিক কিংবা প্রশাসনিক অনিয়মে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সরাসরি সড়ক নিরাপত্তার প্রশ্নও সামনে আসবে। দক্ষতা যাচাই ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা যথাযথ যান্ত্রিক পরীক্ষা ছাড়া ফিটনেস সনদ দেওয়া হলে অদক্ষ চালক ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন সড়কে চলাচলের সুযোগ পেতে পারে।

সেবাপ্রার্থীরা বলছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সরকারি ফি পরিশোধের পরও কেন সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে, কোন পর্যায়ে ফাইল আটকে থাকছে এবং কথিত অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের সঙ্গে কারা জড়িত তা আবেদন সংক্রান্ত ডিজিটাল রেকর্ড, ফাইল নিষ্পত্তির সময়, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাসঙ্গিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃত দোষী কে তা বেরিয়ে আসবে।

 


নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ