৩০০ পরীক্ষার্থীর ২৪৭ জনই ফেল, শিক্ষকদের ফুলের তোড়া দিয়ে ছাত্রদলের প্রতিবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় নীলকান্ত ডিগ্রি কলেজ থেকে ৩০০ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এতে ফেল করেছে ২৪৭ জন। ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষকদের ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জানা যায়, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে অংশগ্রহণ করা ৩০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করে ৫৩ জন, অকৃতকার্য হয় ২৪৭ জন, পাশের হার ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। ফলাফল প্রকাশের পরের দিন রোববার সকালে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের উপস্থিতিতে সব শিক্ষককে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। এতে বিব্রতকর পরিবেশ তৈরি হলেও সানন্দে এই ফুলের তোড়া গ্রহণ করেন শিক্ষকরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ মেহেদী, সহ-সভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ কলেজ ছাত্রদলের নেতারা।
উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, ঐতিহ্যবাহী একটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল এমন হতে পারে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ এর দায় কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। ফলাফল বিপর্যয়ের প্রতিবাদে উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কলেজের অধ্যক্ষ ও সম্মানিত শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফুল আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিবেচনায় ফরম ফিলআপসহ কোনো অনৈতিক তদবির নিয়ে ছাত্রদল কিংবা অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কলেজে যাবে না। মেধার ভিত্তিতেই হবে শিক্ষার্থীদের আগামীর পথচলা। শিক্ষা বিষয়ক যে কোনো কাজে উপজেলা ছাত্রদল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।
নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. নাজমা বেগম বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে খারাপ করেছে। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের অপর্যাপ্ত প্রস্তুতিকেই দায়ী করেন তিনি। পাঠদান কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অংশগ্রহণ না করায় এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে ফলাফলে। তাছাড়া সমাবেশ ডাকলে অভিভাবকদেরও সাড়া পাওয়া যায় না। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনে নজরদারিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিনের সঙ্গে ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় এ উপজেলায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের ফলাফল সন্তোষজনক নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ফলাফল পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান তিনি।