শেহবাজ শরিফের ১ কেজি স্বর্ণ উঠছে নিলামে
নিজস্ব প্রতিবেদক
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কিরগিজস্তান থেকে উপহার পাওয়া ১ কেজি খাঁটি স্বর্ণসহ তিন ডজনেরও বেশি সরকারি উপহার তোষাখানায় জমা দিয়েছেন। এসব উপহার খোলা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ক্যাবিনেট ডিভিশনের প্রকাশ করা নথির বরাতে গালফ নিউজ এক খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিরগিজস্তান সফরের সময় শেহবাজ শরিফকে ১ হাজার গ্রাম খাঁটি স্বর্ণের একটি বাক্স উপহার দেওয়া হয়, যা তিনি ৮ সেপ্টেম্বর তোষাখানায় জমা দেন।
তোষাখানায় জমা পড়া প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য উপহারের মধ্যে রয়েছে হাতে তৈরি রেশম ও পশমের কার্পেট, অলঙ্কৃত ফুলদানি, শোভাবর্ধক প্লেট, কাফলিঙ্ক, টাই, ক্যালিগ্রাফি, চিত্রকর্ম, রৌজা-ই-রাসূল (সা.)-এর প্রতিকৃতি, টুপি, ঘড়ি, তসবিহ, গাড়ির মডেল, কম্বল, ক্রিস্টাল শিল্ড, বই, ওদ সুগন্ধি, অলিভ অয়েল, সাবান, স্কার্ফ এবং কাপ-পিরিচ।
একই সময়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি তোষাখানায় কার্পেট, তিরন্দাজির সরঞ্জাম, বাদ্যযন্ত্র, ফয়সাল মসজিদের বাঁধাই করা ছবি, দাবা সেট এবং আলংকারিক বস্তুসহ সাতটি উপহার জমা দিয়েছেন। এছাড়া উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার, অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এবং তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারও তাদের প্রাপ্ত উপহার জমা দিয়েছেন।
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জারি করা তোষাখানা (ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের প্রাপ্ত এসব উপহার খোলা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ পাকিস্তানের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে আলাদা একটি অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর থেকে ফেরার ৩০ দিনের মধ্যে প্রাপ্ত উপহার তোষাখানায় জমা দিতে হবে এবং আলাদাভাবে পাঠানো হলে তার মেয়াদ হবে ৬০ দিন।
কূটনৈতিক প্রোটোকল বা সাংস্কৃতিক কারণে উপহার প্রত্যাখ্যান করা কঠিন হলে তা তোষাখানায় জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তোষাখানা হলো পাকিস্তান সরকারের ক্যাবিনেট ডিভিশন পরিচালিত রাষ্ট্রীয় তহবিল, যেখানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের দেওয়া উপহার সংরক্ষণ ও হিসাব রাখা হয়।