ঢাকা , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টঙ্গীতে মাদ্রাসায় যৌ'ন নি'পীড়'ন: ঘটনার পরদিন মিষ্টি নিয়ে শিশুটির বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-২৬ ২০:৩২:০৬
টঙ্গীতে মাদ্রাসায় যৌ'ন নি'পীড়'ন: ঘটনার পরদিন মিষ্টি নিয়ে শিশুটির বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক টঙ্গীতে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন: ঘটনার পরদিন মিষ্টি নিয়ে শিশুটির বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পরদিন শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে মিষ্টি নিয়ে তাদের বাসায় গিয়েছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০)। তবে পরিবারের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি সেখান থেকে ফিরে যান। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটির পরিবারের বসবাস করা ভবনের ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে লাল রঙের একটি ব্যাগ হাতে ভবনে প্রবেশ করেন মোসলেম আহম্মদ। নিচতলায় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি লিফটের দিকে যান। এক মিনিট পর তাকে লিফটে উঠতে দেখা যায়। পরে তিনি আবার নিচে নেমে ভবন থেকে বেরিয়ে যান। পুরো সময় তার হাতে ব্যাগটি ছিল। অন্য একটি ফুটেজে ব্যাগের ভেতরে মিষ্টির প্যাকেট দেখা যায়।

 

শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে ওই দিন দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে শিশুটির মায়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠান অভিযুক্ত শিক্ষক। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আপু, আপনার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে আসছি (এসেছি)।’

 

ওই সময় বাসায় ছিলেন না শিশুটির বাবা। শেষ পর্যন্ত পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা না করেই মাদ্রাসায় ফিরে যান মোসলেম আহম্মদ। ঘটনার পরদিন কেন তিনি মিষ্টি নিয়ে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ, বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

 

‘অভিযোগ তুলে নিতে বলছে, আতঙ্কের মধ্যে আছি’

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তারা বিভিন্নভাবে হুমকি পাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন নম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মামলা তুলে নিতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ভিডিও সরিয়ে ফেলতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা।

সোমবার বিকেলে শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমার এবং আমার পরিবারের মোবাইল নম্বরগুলো সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই সুযোগে আমাদের ফোনে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলছে, অভিযোগ যেন তুলে নিই। যেসব ভিডিও আপলোড করা হয়েছে, সেগুলো যেন ফেলে দিই। সারাক্ষণ একটা আতঙ্কের মধ্যে কাটছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার এই প্রতিবাদ আলেম সমাজের বিরুদ্ধে নয়। আমার এই প্রতিবাদ লেবাসধারীদের বিরুদ্ধে।’

শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। গত শনিবার টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। এতে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা (শিশুকে নিপীড়ন করা হয়েছে) পাওয়া গেছে। এখনো তদন্তের কাজ চলমান।’

 

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিশুটির বাবা ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গেছেন। কিন্তু বিচার চাওয়ার কারণে এখন উল্টো তাকে ও তার পরিবারকে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

 

এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ ২১ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। রোববার তার জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

 

শিশুটির পরিবারের হুমকি পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে হুমকির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ