ঢাকা , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বসতে রাজি ইরান, নাকচ তেহরানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-২৫ ১৩:৪৫:৫৩
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বসতে রাজি ইরান, নাকচ তেহরানের পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বসতে রাজি ইরান, নাকচ তেহরানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসতে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইসলামাবাদে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম। তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কোনো নতুন প্রস্তাব দেওয়ার দাবি নাকচ করেছে তেহরান। ইরানের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে দেশটির অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগেই পাঠানো সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে না।

 

শনিবার (২৫ অক্টোবর) ইসলামাবাদে এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় মোগাদ্দাম বলেন, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ড কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

ইরানের রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে তেহরানের অবস্থান জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ইরান সফরের সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। মোগাদ্দাম বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে সেই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়ার খবরকে অসত্য বলে দাবি করেছে ইরানের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে এমন প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলা হলেও সূত্রটি জানিয়েছে, তেহরান প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করে কোনো সমঝোতা মেনে নেয়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের কাছেও নতুন কোনো প্রস্তাব পাঠানো হয়নি।

 

সূত্রটি আরও জানায়, ইরানের সাত দফা শর্তসংবলিত পরিকল্পনা আগেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে তেহরান মনে করে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দর ও নৌপরিবহনে মার্কিন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়াকে দেশটির অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছে সূত্রটি।

 

ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাহীনতা তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড দায়ী। মার্কিন অবরোধ মোকাবিলায় নিজস্ব উপায় ব্যবহার অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে তেহরান। দেশটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি কেবল দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এর সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থও জড়িত।

 

গত জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বৃহত্তর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করা। তবে সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য এখনো স্পষ্ট।

 

এদিকে, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মোগাদ্দাম। চুক্তিটিকে আঞ্চলিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুক্তিটি ভালো হলে ইরান তা সমর্থন করবে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে নতুন করে হামলার পর তিন দেশের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

 

সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে, এর লক্ষ্য সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ। তুরস্ক চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে। দেশ দুটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নাকচ করেছে তুরস্ক। পাকিস্তানও জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় তাদের ভূমিকা প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ