ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেই ইউক্রেনে হামলা রাশিয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করলেও অন্তত ৬টি ইউক্রেনীয় জ্বালানি কেন্দ্রে রুশ বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও রুশ হামলায় ইউক্রেনে ৩৩ জন আহত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এই অহেতুক যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি দুপক্ষকে সমঝোতায় আসতে বলাতেই তারা সম্মত হয়েছিল, তবে উভয় পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘনের খবর ক্ষতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভ কোনো রুশ শোধনাগারে হামলা চালায়নি এবং তারা জ্বালানি যুদ্ধবিরতি সমর্থন করলেও মস্কো এই চুক্তি মানবে না তা স্পষ্ট। অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ কোনো ধরনের সামরিক বিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন এবং তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এর আগে ট্রাম্প রুশ ডিজেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিলে ইউরোপীয় মিত্র ও ইউক্রেন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। মার্কিন আইনপ্রণেতারাও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর রাজনৈতিক তাগিদ থেকেই ট্রাম্প এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা এই কথিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার ওপর ২০২২ সালের পর বৃহত্তম নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ অনুমোদন করে এক হাজার ৫৬৯ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জ জানিয়েছেন, চাপের মুখেই কেবল রাশিয়া আলোচনায় বসবে, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখছে।