ঢাকা , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ , ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে ওসি-এসআইয়ের বি'রু'দ্ধে ঘু'ষে'র অ'ভি'যো'গ, থানা ঘেরাও করে বি'ক্ষো'ভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-১২ ০১:২৪:৪১
ঠাকুরগাঁওয়ে ওসি-এসআইয়ের বি'রু'দ্ধে ঘু'ষে'র অ'ভি'যো'গ, থানা ঘেরাও করে বি'ক্ষো'ভ ঠাকুরগাঁওয়ে ওসি-এসআইয়ের বি'রু'দ্ধে ঘু'ষে'র অ'ভি'যো'গ, থানা ঘেরাও করে বি'ক্ষো'ভ
নিজস্ব প্রতিবেদক


ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিলাদুন নবী ও উপপরিদর্শক (এসআই) জবাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, হয়রানি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা নেওয়ার অভিযোগ তুলে থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে করা একটি মামলায় ২ ভাইকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তারা থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।


গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি হলেন- রুহিয়া ইউনিয়নের ঘুরানগাছ এলাকার মৃত সফিরুদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেন (৩৫) ও বদিউজ্জামান (৪০)। শনিবার গভীর রাতে নাজমীন আক্তারের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ ভাইকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকাল থেকে এলাকাবাসী থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। এ সময় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন তারা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ২ ভাইয়ের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে। যথাযথ তদন্ত ছাড়াই তাদের গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। গ্রেপ্তার দুই ভাইয়ের আরেক ভাই রশিদুল ইসলাম


সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তাদের বাড়ির পাশে একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জমিটির মালিক নাজমীন আক্তার ও আরিফ হোসেনের বাবা। তারা দুই ভাই-বোন নিজেদের অংশের জমি মামাতো ভাইদের কাছে ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। রশিদুলের ভাষ্য, পরে নাজমীনের স্বামী তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সাড়ে ১৬ শতক জমি ১৪ লাখ টাকায় কেনার বিষয়ে দরদাম হয়। এ জন্য ৮ লাখ টাকা বায়না দেওয়া হয় এবং পর্যায়ক্রমে পুরো টাকা পরিশোধ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে নাজমীন আক্তারকে কেউ ফোন করে তাদের নামে জমি রেজিস্ট্রি না করার পরামর্শ দেন। পরে নাজমীন সাব-রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে সাতদিন সময় নেন। এরপর জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি। ২-৩ বছরেও জমি নিয়ে বিরোধের সমাধান হয়নি। রশিদুলের দাবি, গত বছর তার ভাইয়েরা ওই জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। চলতি বছর মরিচ চাষের সময় প্রতিপক্ষ তাদের জমিতে চাষ করতে নিষেধ করে। প্রায় দেড় মাস আগে জমিতে ঘর নির্মাণের সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের মারধর করতে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রায় ২০ দিন আগের একটি মারধরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার গভীর রাতে তার দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে পুলিশ দুই লাখ টাকা নিয়েছে এবং জমি বিক্রির টাকা থেকে ওসি ও এসআইকে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রশিদুল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে অর্থের বিনিময়ে মামলা গ্রহণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুই ভাইকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুহিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মিলাদুন নবী।


তিনি বলেন, টাকা লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ফৌজদারি অপরাধ ও মারামারির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। পরে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওসি আরও বলেন, এলাকার কিছু উত্তেজিত লোকজন থানার গেটের সামনে এসে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও আরও ৩ জন নেতার সহযোগিতায় বিষয়টি সমাধান হয় এবং ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। আসামিদের আদালতে পাঠানোর বিষয়ে ওসি বলেন, রাতে আদালতে পাঠানোর সুযোগ না থাকায় বিধি অনুযায়ী রোববার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ