কন্যা সন্তানের যত্ন ও লালন-পালন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫ হাদিস
কন্যা সন্তানের যত্ন ও লালন-পালন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫ হাদিস
নিজস্ব প্রতিবেদক
কন্যা সন্তান ঘরে রহমত ও বরকত নিয়ে আসে। আপনি যদি আপনার মেয়েকে আদর, ভালোবাসা, মানসিক সহযোগিতা ও সঠিক শিক্ষা দিয়ে বড় করে তোলেন, তবে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে জান্নাত। যে সময়ে সদ্যোজাত কন্যা সন্তানকে পরিবারের লজ্জা মনে করা হতো, এমনকি জ্যান্ত কবর দেওয়া হতো—ঠিক সেই ঘোর অন্ধকার যুগে এই মহাসত্যের শিক্ষা দিয়েছেন বিশ্বনবী। তিনি সমাজ থেকে সব ভুল ও কুসংস্কার দূর করেছেন।
কন্যা সন্তান সঠিকভাবে লালন-পালন করলে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি রয়েছে এমন পাঁচটি হাদিস তুলে ধরা হলো: ১. জান্নাতের সুসংবাদ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার কোনো কন্যা সন্তান থাকে আর সে তাকে জীবিত দাফন না করে, তাকে তুচ্ছ মনে না করে এবং নিজের ছেলে সন্তানদের তার ওপর প্রাধান্য না দেয়, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (মুসনাদে আহমাদ) ২. তিনটি জান্নাত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার তিনজন কন্যা সন্তান থাকে এবং সে তাদের আশ্রয় দেয়, তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে এবং তাদের ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। বিজ্ঞাপন তখন উপস্থিত একজন রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, যদি শুধু দুজন কন্যা সন্তান থাকে? তিনি জবাবে বললেন, দুটি হলেও সে এই একই পুরস্কার পাবে।
উপস্থিত অনেকে ধারণা করেন, যদি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মাত্র একটি কন্যা সন্তানের বিষয়েও প্রশ্ন করা হতো, তবে তিনিও একই পুরস্কারের কথা বলতেন। (আলবানি) আরও পড়ুন কন্যা সন্তানের মা-বাবার জন্য নবীজির সুসংবাদ মা-বাবার হক আদায়ে সন্তানের যা করণীয় নারীর ওপর সহিংসতা নিয়ে ইসলাম যা বলে ৩. জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাধ্যম আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক অভাবী নারী তার দুটি কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আমার কাছে এলো। সে আমার কাছে কিছু ভিক্ষা বা সাহায্য চাইল, কিন্তু সে সময় আমার কাছে মাত্র একটি খেজুর ছাড়া দেওয়ার মতো আর কিছুই ছিল না। তাই আমি তাকে সেই একটি খেজুরই দিয়ে দিলাম। নারীটি সেই খেজুরটি গ্রহণ করে তা নিজের দুই মেয়ের মধ্যে ভাগ করে দিল এবং নিজে তা থেকে কিছুই খেল না। এরপর সে উঠে চলে গেল।
পরবর্তীতে যখন আল্লাহর রাসুল (সা.) ঘরে এলেন, আমি তাকে এই ঘটনাটি জানালাম। তা শুনে তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এমন কন্যা সন্তানদের নিয়ে পরীক্ষার মুখোমুখি হয় এবং তাদের প্রতি সদয় আচরণ করে, ওই কন্যারা কেয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে ঢাল হয়ে দাঁড়াবে। (মুসলিম) ৪. কিয়ামতের দিন ঢাল উকবা ইবনে আমীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যার তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং সে তাদের ওপর ধৈর্য ধারণ করে এবং নিজের উপার্জিত ধন-সম্পদ থেকে তাদের আহার দেয়, পান করায় ও পোশাক পরিধান করায়, তবে তারা কেয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষার ঢাল হবে। (আলবানি) ৫. মহানবীর
সান্নিধ্য লাভ আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুটি কন্যা সন্তানকে তারা বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন ও লালন-পালনে সহায়তা করবে, কেয়ামতের দিন সে ও আমি এভাবে কাছাকাছি আসব—এই কথা বলে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের আঙুলগুলো পাশাপাশি মিলিয়ে সান্নিধ্য ফুটিয়ে তোলেন। (মুসলিম)
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স