ঢাকা , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ , ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেবীর আগমনে উচ্চাসিত বোয়ালখালীর মেধস মুনির আশ্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-১০ ২১:২৩:৫০
দেবীর আগমনে উচ্চাসিত বোয়ালখালীর মেধস মুনির  আশ্রম দেবীর আগমনে উচ্চাসিত বোয়ালখালীর মেধস মুনির আশ্রম
এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রামের


বোয়ালখালীর ঐতিহাসিক মেধস মুনির আশ্রমে উদযাপিত হয়েছে মহালয়া। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর চণ্ডীপাঠে দেবী দুর্গাকে আবাহনের মধ্য দিয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে করলডেঙ্গা সন্ন্যাসী পাহাড়ের এ আশ্রমে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় দেবীপক্ষের। সকালে আশ্রমের অধ্যক্ষ ও সেবায়েত শ্রীমৎ দীপানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন করেন। পরে শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, চণ্ডীপূজা ও যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। দেবীর আগমনী বার্তা শুনতে সকাল থেকেই আশ্রমে ভিড় করেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। দুপুরে তাঁদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মহালয়া উপলক্ষে আশ্রমে আসা


দর্শনার্থী নন্দিত দাশ বলেন, ‘মহালয়া আমাদের কাছে ভক্তি ও বিশ্বাসের বিশেষ দিন। এদিন মেধস আশ্রমে এসে চণ্ডীপাঠ শোনা এবং দেবী দুর্গাকে স্মরণ করা অন্য রকম অনুভূতি। দেবীপক্ষের সূচনা আমাদের মনে আনন্দ ও আশার সঞ্চার করে। মেধস মুনির আশ্রমের সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মহালয়ায় ভক্তদের উপস্থিতি ও পূজার আয়োজন ভালো লেগেছে। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে সাহায্য করে। সনাতন ধর্মীয় আখ্যান অনুযায়ী, রাজ্য হারিয়ে রাজা সুরথ এবং স্বজনদের দ্বারা বিতাড়িত সমাধি বৈশ্য আশ্রয় নিয়েছিলেন মেধস মুনির আশ্রমে। তাঁদের দুর্দশা দেখে মেধস মুনি দুর্গাপূজার পরামর্শ দেন। পরে তাঁর নির্দেশনা অনুসারে মৃন্ময়ী প্রতিমা তৈরি করে দুর্গাপূজা করেন রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য। তাঁদের পূজার কাহিনি দুর্গাপূজার প্রচলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। গবেষক সচ্চিদানন্দ রায় চৌধুরীর তথ্যমতে, প্রায় ১৪৩ বছর আগে বেদানন্দ স্বামী বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন ও দৈবক্ষমতার মাধ্যমে এ স্থানকে মেধস মুনির আশ্রম হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর থেকে বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা পাহাড়ের এ আশ্রমে মহালয়া উদযাপিত হয়ে আসছে।


ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে মেধস আশ্রম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ায় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ