ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ , ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪ বছর ধরে অনুপস্থিত চিকিৎসক, ধরছেন না ফোনও

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-১০ ১৮:৫৬:২৬
সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪ বছর ধরে অনুপস্থিত চিকিৎসক, ধরছেন না ফোনও সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪ বছর ধরে অনুপস্থিত চিকিৎসক, ধরছেন না ফোনও

নিজস্ব প্রতিবেদক

পদ আছে, কাগজে কলমে সেই পদে দায়িত্বে রয়েছেন একজন চিকিৎসক। তবে দীর্ঘ চার বছর ধরে কর্মস্থলে পা পড়ে না তার। এমনকি চার বছর ধরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও জবাব দেননি তিনি।

 

শুধু তাই নয়; চার বছর ধরে এক চিকিৎসকের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিক চিঠি পাঠালেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ঘটনা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের। কেন্দ্রটির মেডিকেল অফিসার হিসেবে পদে রয়েছেন ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়ন।

 

কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সাল থেকেই কোনো ছুটি নেওয়া ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়ন। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মুঠোফোন নম্বরে তাকে পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাতগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আশায় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে চিকিৎসক না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও কেন্দ্রটিতে বিকল্প চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। একজন চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে কেউ যাতে চিকিৎসা বঞ্চিত না হয় সেজন্য এখানে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানান ইউনিয়নবাসী।

 

চার বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়নের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এতে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফ ভূঁইয়া বলেন, ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়নের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে একাধিকবার চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো চিঠির জবাব পাওয়া যায়নি। কর্মস্থলে অনুপস্থিত হওয়ার পর থেকেই ওই চিকিৎসক বেতনও নিচ্ছেন না।

 

তিনি আরও বলেন, ডা. রাইয়ানার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু অধিদপ্তর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় কাগজে কলমে এখনও তিনি সাতগ্রাম ইউনিয়নের মেডিকেল অফিসার পদে রয়েছেন। ফলে ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ