ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ , ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘নিকাব খুলতে বলিনি’, ঢাবিতে নিকাব বিতর্কে ব্যখ্যা শিক্ষক তাসনীম সিরাজের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-১০ ১৮:২৬:৩৩
‘নিকাব খুলতে বলিনি’, ঢাবিতে নিকাব বিতর্কে ব্যখ্যা শিক্ষক তাসনীম সিরাজের ‘নিকাব খুলতে বলিনি’, ঢাবিতে নিকাব বিতর্কে ব্যখ্যা শিক্ষক তাসনীম সিরাজের

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীর নিকাব পরা নিয়ে কথা বলার ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তার দাবি, ওই শিক্ষার্থীকে নিকাব খুলতে, পোশাক পরিবর্তন করতে কিংবা শ্রেণিকক্ষ ছাড়তে বলেননি তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর নিজের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই পাঠদান থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন তিনি।

 

শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ৭ অক্টোবর মাস্টার্সের শেষ সেমিস্টারের ক্লাসে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং পরবর্তী বিভাগীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে বক্তব্য দেন তাসনীম সিরাজ মাহবুব।

 

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বসা এক শিক্ষার্থীর পুরো মুখমণ্ডল নিকাবে ঢাকা ছিল। তার চোখ দেখতে না পাওয়ায় শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা এবং চোখে চোখ রেখে যোগাযোগ করতে অসুবিধা হচ্ছিল। এতে পাঠদানের সময় অস্বস্তি বোধ করছিলেন তিনি। এ বিষয়টি নিয়েই ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন।

 

তাসনীম সিরাজের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ নিয়ে কোনো বিতর্ক হয়নি। তবে ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে কথা বলা আরেকজনের সঙ্গে পোশাকের স্বাধীনতা, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিনিময় হয়।

 

নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রসঙ্গ তুলে এই শিক্ষক বলেন, তিনি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন। প্রায় ৩৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তার ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও আচরণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা অবগত। কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বিশ্বাস বা পোশাককে অবমাননা করার প্রশ্নই আসে না বলে দাবি করেন তিনি।

 

ভিডিওতে তাসনীম সিরাজ জানান, আলোচনার সময় পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূরের ৩১ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করেন তিনি। তার নিজের বোঝাপড়া অনুযায়ী, মুখমণ্ডল দৃশ্যমান রেখেও শালীন পোশাকের মাধ্যমে পর্দা করা সম্ভব বলে শিক্ষার্থীদের জানান। নিজের হজ পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইহরাম অবস্থায় নারীদের নিকাব পরা নিয়ে হাদিসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

 

তাসনীম সিরাজের দাবি, সেদিন শ্রেণিকক্ষে হিজাব ও বোরকা পরা আরও অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাদের চোখ দৃশ্যমান থাকায় শনাক্ত করতে অসুবিধা হয়নি। তাদের কাউকে পোশাক নিয়ে কিছু বলেননি তিনি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে নিকাব খুলতে বাধ্য করা, শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া কিংবা ধর্মীয় পোশাকের কারণে শাস্তি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেনি বলে দাবি করেন এই শিক্ষক।

 

ঘটনার পর শিক্ষার্থীটি কষ্ট পেয়ে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে গেছেন বলে জানতে পেরে তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তাসনীম সিরাজ। তার ভাষ্য, সহপাঠীদের মাধ্যমে তিনবার খবর পাঠান এবং করিডরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন। তবে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা না হওয়ায় সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

 

এদিকে, ঘটনার পর বেনামি ফোন, ইমেইল, আপত্তিকর বার্তা ও হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তাসনীম সিরাজ মাহবুব। এতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

ইংরেজি বিভাগ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তাসনীম সিরাজের পাঠদানের দায়িত্ব থেকে তাকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার পড়ানো কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বিভাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাসনীম সিরাজের দাবি, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর তার বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের একজন গুরুতর অসুস্থ সদস্যের অস্ত্রোপচারের কারণে সেদিন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই শিক্ষক।


এক শিক্ষার্থীর চোখসহ পুরো মুখমণ্ডল নিকাবে ঢাকা ছিল। শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা এবং যোগাযোগ করতে অসুবিধা হচ্ছিল। এ বিষয়টি নিয়েই ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাকে নিকাব খুলতে বলা হয়নি। 

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ