আটক দিপকে, বিক্ষোভের দায়িত্বে অজিঙ্কা শিন্ডে
নিজস্ব প্রতিবেদক
অভিজিৎ দিপকে জানতেন কী হতে যাচ্ছে। দিল্লিতে অপেক্ষায় থাকা পরিস্থিতি আঁচ করেই কক্ষরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা দিপকে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন অজিঙ্কা শিন্ডের হাতে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক থাকায় অন্য নেতারা মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত সিজেপির সংগঠন-প্রধান শিন্ডেই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন বলে শনিবার একটি আগে ধারণ করা ভিডিওতে জানান দিপকে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
বিমান থেকে দিপকের আটক হওয়ার পরপরই সিজেপির এক্স হ্যান্ডলে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এতে শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে শিন্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে দেখা যায় দিপকেকে।
ভিডিওতে দিপকে বলেন, আপনারা যদি এই ভিডিও দেখে থাকেন, তার মানে আমি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা গ্রেফতার হয়েছি। আমাদের অনুপস্থিতিতে অজিঙ্ক বিক্ষোভ ও সিজেপি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন। অনুগ্রহ করে তাকে অনুসরণ করুন।
শিন্ডে বলেন, সরকার আমাদের ঐক্যকে ভয় পাচ্ছে। অনুগ্রহ করে যন্তর মন্তরে আসুন। পুলিশ আপনাদের থামালে সেই জায়গাটাকেই যন্তর মন্তর বানিয়ে ফেলুন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে মুম্বই থেকে দিল্লিতে অবতরণ করার পর দিপকে এবং সিজেপির সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমানের ভেতরে ঢুকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
মহারাষ্ট্রের অজিঙ্ক শিন্ডে বছরের পর বছর ধরে অভিজিৎ দিপকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এর আগে তিনি আম আদমি পার্টির (আপ) মহারাষ্ট্র দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সমন্বয়কারী ছিলেন। জানা যায়, ২০১৬ সালে গোয়ায় প্রথম দিপকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। করপোরেট চাকরি ছেড়ে তিনি পুরো সময়ের জন্য আপের হয়ে কাজ করেন। দলে যোগ দেওয়ার পর গোয়া নির্বাচনের জন্য এক বছর সময় দিয়েছিলেন। গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে দলটি কোনও আসন জিততে পারেনি। তবু অজিঙ্ক দলের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকেন এবং আপের মহারাষ্ট্র দলের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। খবর অনুযায়ী, তিনি মহারাষ্ট্রের প্রতিটি জেলা ঘুরেছেন। অজিঙ্ক রাজ্যের উপকূলীয় শহর আলিবাগের বাসিন্দা। দিপকে, দাস ও রাঙ্কা ছাড়াও শনিবার সকাল থেকে সিজেপির আরও বেশ কয়েকজন নেতা ও বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ সিজেপিকে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। তাদের ভাষ্য, যথেষ্ট আগে অনুমতি চাওয়া হয়নি।
শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের পরিচিত সমালোচক রাঠি এ সপ্তাহের শুরুতে জার্মানি থেকে ভারতে এসেছিলেন এবং ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দেন।
যন্তর মন্তরের আশপাশে নাটকীয় দৃশ্য দেখা গেছে। বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করা বিক্ষোভকারীদের ঘিরে ধরে পুলিশ। আটক বিক্ষোভকারীদের পুলিশের বাসে তুলে রাজধানীর ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাতভর অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৪০০ বিক্ষোভকারীকেও আটক করেছে পুলিশ।