সারের লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের শুদ্ধি অভিযান চান এমপি বাবু
সারের লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের শুদ্ধি অভিযান চান এমপি বাবু
আব্দুল্লাহ আল নোমান ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সারের ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, সারের লাইসেন্স নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি টাকা দিতে চাইলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ঈশ্বরগঞ্জে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেন না এবং ভবিষ্যতেও নেবেন না বলে দাবি করেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন সংসদ সদস্য। পোস্টে তিনি সরিষা ইউনিয়নে সারের ডিলার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাইরে গিয়ে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লাইসেন্স পাওয়ার ঘটনায় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। পোস্টে সংসদ সদস্য লেখেন, ‘আমার কাছে তার পক্ষে ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলার কারণ খুঁজে পাই। আমি সব জানি, এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাই নাই। কে কোথা থেকে কত পার্সেন্ট টাকা নেয়, তা আমি জানি।’
তিনি আরও বলেন, সারের ডিলার লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত ঈশ্বরগঞ্জে কাউকে মনোনীত করে সারের লাইসেন্স দেওয়া হবে না। সংসদ সদস্য তাঁর পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের নেতাকর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হবেন, আর অর্থের বিনিময়ে অন্যরা সারের লাইসেন্স পাবেন—এটি মেনে নেওয়া হবে না। এ সময় তিনি থানায় গাড়ি কেনার জন্য নিজেদের অর্থ ব্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধ করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানো দরকার।’ সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যে ঈশ্বরগঞ্জে সারের ডিলার লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া, নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, সংসদ সদস্য যেভাবে নাম দিয়েছেন, তাঁরা সেভাবেই নাম পাঠিয়েছেন। কেন সংসদ সদস্য এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন, তা তিনি জানেন না। তাঁর ভাষ্য, সংসদ সদস্যের দেওয়া নাম অনুযায়ীই তাঁরা প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত অন্য একজন লাইসেন্স পেয়েছেন।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স