ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ , ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিগগিরই সাশ্রয়ী মূল্যে ফিচার ফোন উৎপাদন কর‌বে বাংলা‌দেশ


আপডেট সময় : ২০২৬-১০-০৯ ০৩:০৬:০৫
শিগগিরই সাশ্রয়ী মূল্যে ফিচার ফোন উৎপাদন কর‌বে বাংলা‌দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শাকলা বিলে এক লাখ রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘এআই অ্যান্ড ই‌নো‌ভেশান ডায়ালগ’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজ্ঞাপন্শশ্্্্ঃ বৃহস্পতিবার (৮ অ‌ক্টোবর) এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত ‘ট্রেড, গ্রোউথ অ্যান্ড ই‌কো‌নো‌মিক ডি‌প্লো‌মে‌সি’ সম্মেলনের তৃতীয় বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন থেকে সূচিত ধারাবাহিক সংলাপের এটি তৃতীয় আয়োজন। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের প্রযুক্তি-কূটনীতি ও সরকারি সেবা প্রদানের কেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে স্থান দেওয়ার জাতীয় অগ্রাধিকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের প্রধান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বিজ্ঞাপন প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসমাইল জবিউল্লাহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল কাজে লাগাতে সমগ্র সরকারব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।



তিনি দেশের প্রথম তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি নীতি প্রণয়নে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করেন। আলোচনার বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব আরোপের দিকনির্দেশনা দেন। বিশেষ করে সরকারি সেবার সব ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন আন্তঃকার্যক্ষমতা কার্যকর করার ওপর জোর দেন। বিশেষ অতিথি রেহান আসিফ আসাদ জনগণের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের বর্ধিত গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উন্নত ডিজিটাল যন্ত্র ও কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ সর্বস্তরের মানুষের কাছে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তার মতে, বিএনপি সরকারের বাস্তবমুখী নীতির ফলে দেশ শিগগিরই অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ফিচার ফোন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা এবং ইতোমধ্যে অর্জিত অগ্রগতি তিনি তুলে ধরেন। তিনি জানান, উচ্চগতির ও নিরাপদ সংযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। আগামী ১২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব সার্বভৌম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা থাকবে।



এ জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং চিপ ও মেমোরি ব্লক ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, সেই তৈরি পোশাক খাত ও প্রবাসী আয় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির ডিএনএর ‘ডাবল হেলিক্স’ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্ধারিত ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন ‘তৃতীয় একটি সূত্র—জ্ঞানভিত্তিক কর্মী’। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মানে বাংলাদেশ একা নয়, এর অর্থ বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। হুমায়ুন কবির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কার্যপ্রবাহ আরও সুশৃঙ্খল করা ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দ্রুত প্রযুক্তি গ্রহণের সুফল কাজে লাগাতে সক্ষম একটি দেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তির কেন্দ্রীয় উপাদান হয়ে উঠবে। প্রযুক্তিতে দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখ করে তিনি, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং জনগণ ও দেশের অর্থনৈতিক পরিসরকে রূপদানকারী উদীয়মান খাতগুলোর ওপর নতুন করে গুরুত্ব দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আনা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কথা জানান। প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপে সরকারি সহায়তা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন। সাম্প্রতিক সিলিকন ভ্যালি সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে ঢাকা ও সিলিকন ভ্যালির ব্যবধান কমানোর আহ্বান জানান। সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি কার্যকর করার অর্থ হলো বাংলাদেশ কেবল প্রযুক্তির ক্রেতা নয়, বরং প্রযুক্তির নিট সরবরাহকারী হয়ে উঠবে। কোডার হিসেবে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতায় প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতির আওতায় নিজস্ব সার্বভৌম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি সরকারি সেবাকে শাসনব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক কার্যপ্রবাহের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে সমন্বিত করতে হবে। কৃষক থেকে নারী উদ্যোক্তা পর্যন্ত সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে প্রযুক্তির সুফলের আওতায় আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমরা চাই না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি মানুষের স্থান দখল করুক, বরং প্রযুক্তি যেন আমাদের সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বাড়ায়। উদ্বোধনী বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ের মৌলিক প্রশ্ন হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং এর সুফল কারা পাবে? বাংলাদেশ কেবল এ প্রযুক্তির ভোক্তা হিসেবে নয়, বরং এর সুফলের ন্যায়সংগত অংশীদার হতে চায়। বৈশ্বিক বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বাংলাদেশ সেতুবন্ধনকারী হিসেবে ভূমিকা রাখবে। সংলাপে ২৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিদেশে বাংলাদেশের ৮৫টি কূটনৈতিক মিশন অনলাইনে যুক্ত হয়।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ