ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে নি'ষে'ধা'জ্ঞা'র মধ্যেও পদ্মায় মাছ ধরছেন জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-০৮ ১৯:১১:০৩
মানিকগঞ্জে নি'ষে'ধা'জ্ঞা'র মধ্যেও পদ্মায় মাছ ধরছেন জেলেরা মানিকগঞ্জে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পদ্মায় মাছ ধরছেন জেলেরা
নিজস্ব প্রতিবেদক


ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশের মতো মানিকগঞ্জেও শুরু হয়েছে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পদ্মা নদীর আন্ধারমানিক ঘাটে জেলেদের মাছ ধরতে ও বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ সময় ঘাটে মৎস্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তদারকি করতে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত হরিরামপুর উপজেলার


আন্ধারমানিক পদ্মা নদীর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন জেলে নদী থেকে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ঘাটে এনে বিক্রি করছেন। প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা না গেলেও অন্যান্য মাছ বিক্রি করছিলেন তারা। মাছের আড়তেও তখন চলছিল কেনাবেচা। এ সময় একজন ক্রেতা এক জেলের কাছে ইলিশ মাছ আছে কিনা জানতে চাইলে ওই জেলেকে বলতে শোনা যায়, ইলিশ মাছ আছে, গোপন জায়গায় রাখা হয়েছে। চাইলে এনে দিতে পারবো। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর ওই জেলে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যাওয়ায় তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ জেলায় পদ্মা, যমুনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছ ধরার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক জেলে জড়িত। জেলার বড় ১০ থেকে ১২টি ঘাটে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ জেলে পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। জেলায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি নদীপথে ইলিশের বিচরণ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই ভোরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘাটে মৎস্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না থাকায় জেলেরা নির্বিঘ্নে নদীতে মাছ শিকার করে ঘাটে এনে বিক্রি করেছেন।



মাছ বিক্রির কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে ঘাটে দেখা যায়। পরে জেলা মৎস্য কর্মকর্তাও সেখানে পরিদর্শনে আসেন। স্থানীয় জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখলে তাদের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ করা ২৫ কেজি চাল প্রকৃত জেলে পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে জেলে কার্ড বিতরণ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। স্থানীয় জেলে হারুন খন্দকার বলেন, ২৫ কেজি চালে কী হয়? একটা বাড়িতে ৫-৭ মানুষ থাকলে ২৫ কেজি চালে কী হয়। জিনিসপত্রের যে দাম, খালি কি চাল খামু, আর কিছু লাগবো না? আমি একলাই পরিবার চালাই। মাছ না ধরলে খামু কী? এইটা সরকারের বুঝা উচিত। সরকারের কাছে দাবি জেলেদের দিকে একটু যেন নিজর দেয় ও জিনিসপাতি একটু বেশি দেয়, তাইলে ভালো হয়। মোমেজ উদ্দিন নামে এক জেলে জানান, চকপাতারে যারা জাল পাতে তারা গরু পায়, চাল পায়, কার্ড পাইতাছে, সবই পায়। আমি ১৫ বছর ধইরা এই নদীতে মাছ মারি আইজ পর্যন্ত ৫শের (৫ কেজি) চালও পাইলাম না। এই কয়দিন অনেক কয়দিন অনেক কষ্ট করা লাগে। পলায় পলায় কয়ডা গুদা (গুড়া) মাছ ধইরা আনি। ৫০০ বেচলাম, কোনো রকম পোলাপান নিয়া খাইবার পারি। এইভাবেই কোনরকম বাঁচা লাগে। তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নুরুল ইকরাম বলেন, ঝিটকা আড়ৎসহ বিভিন্ন আড়ৎ দেখেছি আমরা।



চেক করেছি আমরা ইলিশ মাছ আছে কিনা? ইলিশটাই মেইন প্রায়োরিটি ( গুরুত্ব) আমাদের। যদিও আমাদের এখানে বলা আছে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এখানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ রয়েছেন এবং গরিব মানুষ পেয়েছেন তাদের। মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে আমরা ইলিশ মাছটাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। জেলে কার্ড বিতরণে অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শন করছি। নিষেধাজ্ঞার সময়ে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ।


আজকের বিষয়টি যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর থেকে এমনটি আর হবে না। আমাদের ২৪ ঘণ্টা অভিযান এবং মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) অব্যাহত থাকবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ