ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেটে গজ রেখে সেলাই, অবশেষে মৃ'ত্যু'র কাছে হার মানলেন বিথী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-০৮ ১৬:৩৪:৫৮
পেটে গজ রেখে সেলাই, অবশেষে মৃ'ত্যু'র কাছে হার মানলেন বিথী পেটে গজ রেখে সেলাই, অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন বিথী
নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার (২৫) মারা গেছেন। প্রায় পাঁচ মাস ধরে নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিথী আক্তারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম। বিথী আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধাপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি পেশায় একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স ছিলেন।


পরিবার সূত্রে জানা যায়, এ বছরের ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ডা. তামান্না কবির মিল্কি ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন বিথী ও তার পরিবার। অপারেশনের পর থেকেই বিথী আক্তার শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে তার পেটের ভেতরে থাকা গজের বিষয়টি ধরা পড়ে এবং জটিলতা নিরসনে তাকে পুনরায় অস্ত্রোপচার করাতে হয়। বিথীর নিজের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম সিজারিয়ান অপারেশনের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ওই সময় তাকে আইসিইউতেও চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। তার ভাষ্য ছিল, পেটের নাড়ি পচে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে বাইপাস সার্জারিও করতে হয়। পরবর্তীতে শারীরিক জটিলতা আরও বাড়লে তাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেননি বিথী। নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা বুকের দুধ খাওয়াতেও তিনি সক্ষম ছিলেন না বলে আগের এক বক্তব্যে জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, অসুস্থতার কারণে তার ওজন ৬১ কেজি থেকে কমে ৩৯ কেজিতে নেমে এসেছে। পাশাপাশি হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। তখন তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসা ও শারীরিক জটিলতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বিথীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।


তার পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বিথীর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।


এদিকে, বিথী আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. তামান্না কবির মিল্কির মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি, তার মুঠোফোনটি বন্ধ দেখাচ্ছিল।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ