ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়কে আইন ভা'ঙ'লে'ই ছবি পাঠানো যাবে, যাচাই শেষে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-০৮ ১৪:১১:০১
সড়কে আইন ভা'ঙ'লে'ই ছবি পাঠানো যাবে, যাচাই শেষে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ সড়কে আইন ভাঙলেই ছবি পাঠানো যাবে, যাচাই শেষে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার সড়কে সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ফুটপাত দখল করে পার্কিং এবং নির্ধারিত লেন না মানার মতো ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। এসব অনিয়মের অনেক ঘটনা নাগরিকদের চোখের সামনে ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে না। এবার এসব অনিয়মের তথ্য সরাসরি পুলিশকে জানাতে নগরবাসীকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

 

সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের তথ্য জানাতে ‘হ্যালো ডিএমপি’ মোবাইল অ্যাপে বিশেষ একটি ফিচার যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো নাগরিক সড়কে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দেখতে পেলে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে অ্যাপের মাধ্যমে পুলিশের কাছে পাঠাতে পারবেন। তথ্য প্রদানকারীর নাম-পরিচয় গোপন রাখার ব্যবস্থা থাকবে।

 

তবে নাগরিকের পাঠানো ছবি বা ভিডিও পেলেই সরাসরি মামলা করা হবে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। ছবি বা ভিডিওর সত্যতা, ঘটনার স্থান ও সময় এবং সেখানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গাড়ির বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা হতে পারে। নতুন ব্যবস্থায় কোনো নাগরিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দেখতে পেলে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে ‘হ্যালো ডিএমপি’ অ্যাপের নির্দিষ্ট অপশনে পাঠাতে পারবেন। অভিযোগের সঙ্গে ঘটনার প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার সুযোগও থাকবে। ডিএমপির সংশ্লিষ্ট ইউনিট নাগরিকের পাঠানো ছবি বা ভিডিও যাচাই করবে। এতে গাড়ির নম্বর, আইন লঙ্ঘনের ধরন, স্থান ও সময়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলো মিলিয়ে দেখা হবে। যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গাড়ি বা চালকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরে বিপুলসংখ্যক সড়ক ও যানবাহনের ওপর পুলিশের একক নজরদারি সব সময় সম্ভব হয় না। ট্রাফিক পুলিশ নির্দিষ্ট পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করলেও শহরের প্রতিটি সড়ক, অলিগলি বা মোড়ে একই সময়ে নজর রাখা কঠিন। এ কারণে নাগরিকদের হাতে থাকা স্মার্টফোনকে সম্ভাব্য তথ্যসূত্র হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে ডিএমপি।

 

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, শিগগির ‘হ্যালো ডিএমপি’ অ্যাপে একটি ফিচার যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে যে কেউ সড়ক থেকে আইন ভাঙার তথ্য ডিএমপি সদর দপ্তরে পাঠাতে পারবেন। তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাফিক বিভাগ আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। একজন নাগরিক চলন্ত অবস্থায় কোনো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দেখতে পেলে এবং সেটির ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারলে তা পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রচলিত নজরদারির বাইরে থাকা কিছু ঘটনাও পরবর্তী যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।

 

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নাগরিকদের পাঠানো ছবি ও ভিডিও একটি সম্ভাব্য প্রমাণের উৎস হিসেবে যুক্ত হবে। এতদিন অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি বা এআই ক্যামেরার ফুটেজের ওপর নির্ভর করতে হতো। নাগরিকদের পাঠানো কনটেন্ট যুক্ত হলে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত ও যাচাইয়ের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। নতুন ব্যবস্থায় তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে গিয়ে কেউ যাতে ব্যক্তিগত বা সামাজিক ঝুঁকিতে না পড়েন, সে জন্য নাম, পরিচয় ও মোবাইল নম্বর গোপন রাখার ব্যবস্থা থাকবে।

 

তবে নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি এ ব্যবস্থার অপব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, ব্যবসায়িক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর ছবি বা ভিডিও পাঠাতে পারেন। এ কারণে শুধু অভিযোগ পাওয়ার ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিয়ে প্রতিটি তথ্য যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ডিএমপি। কোনো ছবি বা ভিডিও সম্পাদিত কি না, সেটি পুরোনো কোনো ঘটনার কি না এবং ঘটনার স্থান ও সময়ের সঙ্গে পাঠানো তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না-এসব বিষয়ও যাচাই করা হবে। এরপর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শুধু আইন প্রয়োগ করলেই দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা কঠিন। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে যুক্ত করা প্রয়োজন। ‘হ্যালো ডিএমপি’র নতুন ফিচার চালু হলে সড়কের অনিয়ম শনাক্তে নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।

 

একই সঙ্গে সড়কে আইন ভাঙার ঘটনা মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ হয়ে পুলিশের কাছে পৌঁছাতে পারে-এমন ধারণা চালকদেরও ট্রাফিক আইন মানতে আরও সতর্ক করতে পারে। ফলে প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ ও নাগরিকের সহযোগিতার একটি নতুন ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে।

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ