নিজস্ব প্রতিবেদক
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের ১০ নং আমড়াজুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনেই দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে আছে একটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবন। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনটি ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই সঙ্গে ভবনটির কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সংকুচিত হয়ে পড়েছে খেলার মাঠ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের একেবারে সামনে পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবনটি পড়ে রয়েছে। ভবনটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিত্যক্ত ভবন ও এর আশপাশের জায়গাটি দীর্ঘদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকায় মশা-মাছি, বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ও বিষাক্ত সাপের উপদ্রব রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ সমস্যা আরও বেড়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর বিদ্যালয় এলাকা নির্জন হয়ে গেলে পরিত্যক্ত ভবনটিতে বখাটেদের আড্ডা বসে। সেখানে মাদক সেবনসহ নানা অপকর্ম চলে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এদিকে মাঠের ভেতরে অযাচিত গাছপালা ও পরিত্যক্ত ভবন থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গাও সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফরিন ও শাহরিয়া জানায়, “আমাদের মাঠ ছোট হয়ে গেছে। আমরা ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারি না। পুরাতন ভবনের ভেতর বিষাক্ত সাপ ও পোকামাকড় থাকায় আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য সাথী ইসলাম ও অভিভাবক রফিক হাওলাদার বলেন, পুরাতন ভবনটির কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সন্ধ্যার পর এটি বখাটেদের আড্ডা ও গাঁজাসহ নানা অপকর্মের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। দ্রুত ভবনটি অপসারণ করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সান্তনা চক্রবর্তী বলেন, “বিদ্যালয়ের সামনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ভবনটি সামনে থাকায় নতুন ভবনের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢুকতে পারছে না এবং মাঠও ছোট হয়ে গেছে। ভবনটি অপসারণ করা সম্ভব হলে মাঠের পরিধি বাড়বে। পাশাপাশি সেখানে ফুলের বাগান করা যাবে এবং শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে খেলাধুলার সুযোগ পাবে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত অপসারণের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এরপর ভবনটি অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।