ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স'ম'কা'মী সেজে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন, বাংলাদেশিদের সহায়তার অভিযোগে গ্রে'প্তা'র ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-০৮ ১১:২৫:৩০
স'ম'কা'মী সেজে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন, বাংলাদেশিদের সহায়তার অভিযোগে গ্রে'প্তা'র ৩ সমকামী সেজে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন, বাংলাদেশিদের সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাজ্যে সমকামী পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া আশ্রয় আবেদন তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে একটি সন্দেহভাজন চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি বাংলাদেশি পুরুষদের আশ্রয় আবেদনে ভুয়া ছবি, নথিপত্র ও বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ সরবরাহ করত।

 

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে লন্ডনের পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মোবাইল ফোন, অলংকার ও কয়েক হাজার পাউন্ড জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চক্রটি আশ্রয়প্রার্থীদের সমকামী হিসেবে উপস্থাপন করতে সাজানো ছবি, সমর্থনপত্র ও বিভিন্ন নথি তৈরি করে দিত। এসব সেবার বিনিময়ে তারা এক হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ নিত।অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি বাংলাদেশি পুরুষদের করা আশ্রয় আবেদনে সহায়তা করেছিল। এসব আবেদনে দাবি করা হতো, আবেদনকারীরা সমকামী এবং বাংলাদেশে ফিরে গেলে তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

 

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ফৌজদারি তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানান, পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলভিত্তিক বাংলাদেশিদের সমকামী সংগঠন ‘আপনজন’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকটি সন্দেহজনক আশ্রয় আবেদনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করা হয়।

 

তিনি বলেন, আশ্রয় আবেদনের নথিপত্র যাচাইয়ের সময় কর্মকর্তারা কয়েকটি আবেদনের মধ্যে একই ধরনের অসঙ্গতি দেখতে পান। এরপর সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। কয়েক মাস ধরে বিষয়টি তদন্ত করার পর মঙ্গলবার অভিযান চালানো হয়।

 

ফস্টারের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে ভুয়া নথিপত্র সরবরাহের বিনিময়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে এক হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হতে পারে। এসব নথির মধ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া সমর্থনপত্র, সাজানো ছবি এবং আবেদনকারীকে সমকামী হিসেবে দাবি করা চিঠি থাকতে পারে।

 

স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত শতাধিক আশ্রয় আবেদন বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব ভুয়া আবেদনের কিছু আবেদন অনুমোদনও পেয়ে থাকতে পারে।

 

এর আগে ‘আপনজন’ সংগঠনের দেওয়া কিছু প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অভিবাসন বিষয়ক বিচারকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছিল। এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে কোনো আবেদনকারী সংগঠনটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার দাবি করলেও পরে দেখা গেছে, তার জমা দেওয়া ছবিগুলো সাজানো ছিল।

 

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কিছু পুরুষ সমকামী পরিচয়ে নতুন করে আশ্রয়ের দাবি করেন। এ ক্ষেত্রে সংগঠনটি তাদের পক্ষে সাক্ষ্য বা সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করত বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি ঘটনায় একজন আবেদনকারী তার মূল আশ্রয় আবেদনের প্রায় নয় বছর পর নিজের যৌন পরিচয়ের বিষয়টি সামনে আনেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের সমকামী হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে সহায়তার অভিযোগ উঠে আসে। ওই তদন্তে কিছু পরামর্শদাতা ও আইনি সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে ভুয়া প্রমাণ তৈরির প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও প্রকাশ্যে আসে। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় মে মাসে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

 

এপ্রিল মাসে প্রকাশিত ওই অনুসন্ধানে তানিসা খান নামের এক পরামর্শদাতার বিরুদ্ধে ছদ্মবেশী সাংবাদিককে সমকামী পরিচয়ের পক্ষে ছবি ও অন্যান্য প্রমাণের একটি ‘পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ’ দেওয়ার প্রস্তাব করার অভিযোগ ওঠে। তাকে ‘উস্টার এলজিবিটি’ নামে একটি কমিউনিটি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। তবে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো বানোয়াট প্রমাণ তৈরি বা সমর্থনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে সমকামী কি না, তা নির্ধারণ করা তাদের কাজ নয় বলেও তিনি জানান। অভিযোগের বিষয়ে তানিসা খানও বানোয়াট প্রমাণ তৈরির প্রস্তাব দেওয়ার কথা অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেন।

 

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ভুয়া শারীরিক অসুস্থতার দাবি এবং মিথ্যা তথ্য প্রকাশকারী ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কিছু আশ্রয় আবেদনকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ‘উস্টার এলজিবিটি’ সংগঠনটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

 

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়ে মিথ্যা দাবি করা প্রকৃত ভুক্তভোগীদের প্রতি অন্যায়। এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে যারা লাভবান হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, যারা আশ্রয় ব্যবস্থাকে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, তাদের আবেদন বাতিল করা হবে এবং প্রয়োজন হলে তাদের যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হবে।

 

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ