আদালতের বারান্দায় ৮ বছর: জমি হা'রি'য়ে হু'ম'কি'র মুখে ঈশ্বরগঞ্জের বৃদ্ধ চাঁন মিয়া
আদালতের বারান্দায় ৮ বছর: জমি হা'রি'য়ে হু'ম'কি'র মুখে ঈশ্বরগঞ্জের বৃদ্ধ চাঁন মিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
আব্দুল্লাহ আল নোমান ময়মনসিংহ,ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটু স্বস্তিতে থাকার কথা ছিল ৭০ বছর বয়সী চাঁন মিয়ার। অথচ গত আট বছর ধরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কখনো সালিশ, কখনো থানা, আবার কখনো আদালতের বারান্দায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তাঁর
অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে ২৫ শতক জমি বিক্রি করতে গিয়ে শুধু বাকি টাকা থেকেই বঞ্চিত হননি, দখল করে নিয়েছে ছেলের নামে থাকা আরও ১০ শতক জমি। সেই সাথে বিবাদীপক্ষের হুমকির অভিযোগে এখন নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। চাঁন মিয়া ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার ধামদী গ্রামের মৃত মামুদ আলীর ছেলে। তার অভিযোগ, ২০১৮ সালে আর্থিক সংকটে পড়ে একই গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে বাচ্চু মিয়ার (৪৫) কাছে ২৫ শতক জমি বিক্রি করেন তিনি। জমিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
চাঁন মিয়ার দাবি, জমি বিক্রির সময় বাচ্চু মিয়া তাকে নগদ ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। বাকি ২ লাখ টাকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পরিশোধ করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। কিন্তু দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পর বাকি টাকা না দিয়ে পরে দেওয়ার কথা জানান বাচ্চু মিয়া। এ নিয়ে চাঁন মিয়া আপত্তি জানালে, বকেয়া ২ লাখ টাকার বিপরীতে ওই জমিই তাঁর কাছে বন্ধক রাখার কথা বলা হয়। পরে বিষয়টি স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে নেওয়া হয়। তবে এর কয়েক দিন পর বাচ্চু মিয়া ওই জমি দখলে নেন বলে অভিযোগ চাঁন মিয়ার। চাঁন মিয়ার আরও অভিযোগ, তাঁর বিক্রি করা ২৫ শতক জমির সঙ্গে তাঁর ছেলের নামে থাকা আরও ১০ শতক জমিও বাচ্চু মিয়া দখল করে নিয়ে জমির একাংশে বসতবাড়ি নির্মাণ এবং অন্য অংশে পুকুর খনন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জমির শ্রেণিও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দফায় দফায় সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানান চাঁন মিয়া। পরে বিরোধটি ঝগড়া ও মারামারির ঘটনায় গড়ায়। এরপর থেকেই ন্যায়বিচারের আশায় থানা ও আদালতে ঘুরছেন তিনি।
চাঁন মিয়া বলেন, জীবনের শেষ বয়সে এসে আমি আর কারও সঙ্গে ঝামেলা করতে চাই না। আমার জমি নিয়ে যে সমস্যা হয়েছে, সেটার ন্যায়সংগত সমাধান চাই। একই সঙ্গে আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তাও চাই। তবে চাঁন মিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাচ্চু মিয়ার বাবা ফজলুল হক। তিনি বলেন, আপনি কোথাও দেখেছেন? টাকা ছাড়া কেউ জমি লিখে দেয়? তার দাবি, তারা জমি কিনেই ভোগদখল করছেন। আর যে অতিরিক্ত ১০ শতক জমির কথা বলা হচ্ছে, সেটিরও বায়না দেওয়া আছে বলে জানান তিনি। ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ
রোমন বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁন মিয়াকে আইনগত সহযোগিতা করা হচ্ছে। বিষয়টি জমিজমা সংক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স