ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর ৫০ শিশুর ই'ন'ফে'ক'শ'ন ও র'ক্ত'ক্ষ'র'ণে'র অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-০৭ ১২:৫২:৫১
সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর ৫০ শিশুর ই'ন'ফে'ক'শ'ন ও র'ক্ত'ক্ষ'র'ণে'র অভিযোগ সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর ৫০ শিশুর ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা করানোর দুই দিনের মধ্যে অর্ধশতাধিক শিশুর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর)সকাল থেকে এসব শিশুকে নিয়ে স্বজনেরা সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ছুটে যান। তাদের মধ্যে দু'জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় টেকনাফে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন দ্বীপে অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ওই কর্মসূচিতে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করে। পরে শিশুদের বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়। এর আগে মেডিকেল টিমটি টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অনুমতি নিয়ে সেন্টমার্টিনে পৌঁছেন। খতনা করানোর দুই দিনের মধ্যে অর্ধশতাধিক শিশুর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরমধ্যে মধ্যে মো. ফয়সাল ও আইনুল ইসলাম এ দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফে রেফার করা হয়েছে।

 

অভিযোগ উঠেছে, ফ্রি চিকিৎসার নামে প্রথমে জনপ্রতি ১০০ টাকা নেন,আবার ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের চিকিৎসা, অপরিকল্পিত সেলাই, সঠিকভাবে ওষুধ না দেওয়াতে এ ঘটনা ঘটেছে। খতনা করানোর পর থেকেই কোনো কোনো শিশুর ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া ও পুঁজ দেখা দেয়। খতনার পরে মেডিকেল টিমটি দ্রুত সেন্টমার্টিন দ্বীপ ত্যাগ করেন।

 

সেন্টমার্টিন হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম জানান, খতনা করানো প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এতে দেখা যায় অনেকের ইনফেকশন হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে দু'জন শিশুর অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় তাদের টেকনাফে রেফার করা হয়েছে।

 

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, গত ৪ অক্টোবর আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে ২১০ শিশুর খতনা করেছে। দুইদিন পর কিছু শিশুর রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছে।

 

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক জানান, সেন্টমার্টিনে একটি মেডিকেল টিম দুই শতাধিক শিশুর খতনা করেছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক শিশু ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে ওই মেডিকেল টিমের দ্বীপে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প পরিচালনার বিষয়ে তাদের কেউ অবগত করেননি।

 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান , খতনা করানোর পর বেশ কিছু শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল টিমের গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানায়।

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ