ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ বছর ধরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আলী আহমেদ নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যের অ'ভি'যো'গ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-০৭ ১২:১০:১৭
১১ বছর ধরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আলী আহমেদ নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যের অ'ভি'যো'গ ১১ বছর ধরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আলী আহমেদ নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যের অ'ভি'যো'গ
জামালপুর প্রতিনিধি :

জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আলী আহমেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। একই কর্মস্থলে প্রায় ১১ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করায় তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। জানা গেছে, ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মাদারগঞ্জের চর পাকেরদহ গ্রামের মো. সামিউল ইসলাম আলী আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বদলি-পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগ এনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।


পাশাপাশি মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা, মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা, সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা,পরিচালক (প্রশাসন), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্ত, মিরপুর-২, ঢাকা-১২১৬, বিভাগীয় উপ-পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা, ময়মনসিংহ বিভাগ, ময়মনসিংহকে এর কাছেও অনুলিপি দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগে সামিউল ইসলাম দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় ২০১৪ সালে জাতীয়করণ হলেও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় শিক্ষকদের গেজেট হয়নি। ২০২৪ সালে মামলা নিষ্পত্তির পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হলেও আলী আহমেদ দীর্ঘ সময় ফাইল আটকে রাখেন এবং পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ফাইল ঢাকায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া, অপেক্ষমাণ তালিকার প্রার্থীদের ভালো বিদ্যালয়ে পদায়নের নামে টাকা নেওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আলী আহমেদ।


অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৪ সালের নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় পরিদর্শনের পর কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া শিক্ষকদের অফিসে ডেকে এনে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে আলী আহমেদ অফিসে প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাদের দাবি, বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে শিক্ষকদের তার ওপর নির্ভর করতে হয়। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতির ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, আলী আহমেদ ২০১৬ সালে নেত্রকোনার দুর্গাপুর শিক্ষা অফিস থেকে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক পদে যোগ দেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালে জামালপুরে প্রায় ৮ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে জমি ও বাড়ির অর্থের উৎস নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। শিক্ষকদের প্রশ্ন, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা আলী আহমেদের বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের বিষয়ে আলী আহমেদ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” জমি কেনার বিষয়ে তিনি জানান, বাড়ির জায়গা-জমি বিক্রি করে জামালপুর শহরে জমি কিনেছেন। তবে একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।


জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আহসান বলেন, “তিনি প্রায় ১১ বছর ধরে এই অফিসে আছেন, এটা সত্য। তবে আমার কাছে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দেয়নি। কেউ কারও নাম ব্যবহার করে টাকা নিলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির।” অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার আগে অভিযোগগুলো যাচাই করার কথাও জানান তিনি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ