ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে গাড়ির যন্ত্রাংশের আ'ড়া'লে কন্টেইনারে বিলাসবহুল গাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-০৭ ১১:৩০:৪০
চট্টগ্রাম বন্দরে গাড়ির যন্ত্রাংশের আ'ড়া'লে কন্টেইনারে বিলাসবহুল গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরে গাড়ির যন্ত্রাংশের আড়ালে কন্টেইনারে বিলাসবহুল গাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা একটি কন্টেইনারে মিলেছে সম্পূর্ণ সিকেডি অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার, আরেকটি বিএমডব্লিউ সেডানের সামনের অংশ এবং পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক।

 

কাস্টমস নথিতে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে কন্টেইনারে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে গাড়ি ও গাড়ির বিভিন্ন অংশ আমদানির মাধ্যমে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।

 

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কন্টেইনারটি আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান।

 

কাস্টমস নথিতে চালানটিতে ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিংসহ বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে কন্টেইনার খুলে পরীক্ষা করার পর ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ব্যাপক পার্থক্য ধরা পড়ে।

 

কায়িক পরীক্ষায় কন্টেইনারের ভেতর থেকে সম্পূর্ণ সিকেডি বা কমপ্লিটলি নকড ডাউন অবস্থায় ২০০৯ মডেলের দুই একটি বিএমডব্লিউ এস-ড্রাইভ ২৩আই স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি।

 

গাড়িটি সাধারণ ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও পরীক্ষায় সেটি সিকেডি অবস্থায় একটি সম্পূর্ণ গাড়ির কাঠামো হিসেবে পাওয়া যায়। ফলে কাস্টমস ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।

 

একই চালানে প্রায় ৩ হাজার সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন ২০১৬ সালের একটি বিএমডব্লিউ ৭৪০আই মডেলের প্রিমিয়াম সেডানের সামনের অর্ধাংশ বা ফ্রন্ট হাফ-কাটও পাওয়া গেছে।

 

একটি বিলাসবহুল গাড়ির শুধু সামনের অংশ কীভাবে ওই চালানে এসেছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে কি না, অথবা পরবর্তী সময়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

বিএমডব্লিউ গাড়ি ও এর অংশের পাশাপাশি কন্টেইনারে পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাকও পাওয়া গেছে। ট্রাকগুলোর কেবিনের ভেতরে কৌশলে আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ রাখা হয়েছিল।

 

কাস্টমস গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, গাড়ির বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন বা কাটা অবস্থায় একাধিক চালানে আমদানি করে পরে দেশে সেগুলো

 

পুনঃসংযোজনের একটি চক্র থাকতে পারে। এভাবে গাড়ির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো বা বিভিন্ন অংশ আলাদা চালানে এনে প্রকৃত পণ্য ও মূল্য গোপন করে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া গাড়ি ও গাড়ির অংশগুলোর ইঞ্জিন নম্বর, চ্যাসিস নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

 

পণ্যগুলোর প্রকৃত শুল্কযোগ্য মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াও চলছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন ও বিদ্যমান আমদানি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএমডব্লিউ সেডানের বাকি অংশ কোথায় রয়েছে, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে গাড়ি বা গাড়ির বিভিন্ন অংশ আমদানির সম্ভাব্য চক্র শনাক্ত ও বন্ধ করতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

 

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ