ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংস্কার ইস্যুতে আইএমএফ-এর সঙ্গে সমঝোতা হয়নি সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-১০-০৭ ১১:২৫:৫২
সংস্কার ইস্যুতে আইএমএফ-এর সঙ্গে সমঝোতা হয়নি সরকারের সংস্কার ইস্যুতে আইএমএফ-এর সঙ্গে সমঝোতা হয়নি সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংস্কার ইস্যুতে কঠোর শর্ত এবং রাজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে ঐকমত্যে না পৌঁছানোয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সরকারের সমঝোতা হয়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আগের ঋণ কর্মসূচি বাতিল করে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন ঋণ প্যাকেজ নিয়ে বর্তমানে কথা চলছে।

 

রোববার (৪ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কঠিন শর্ত মেনে কোনো সাহায্য নেওয়া হবে না। তিনি জানান, আইএমএফের আগের প্রোগ্রামটি বাতিল করা হয়েছে, কারণ তাদের শর্তাবলী গ্রহণযোগ্য নয়।

 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তৎকালীন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আমলে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছিল, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাড়িয়ে সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার করা হয়। এই ঋণের ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হলেও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংস্কারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকায় অবশিষ্ট কিস্তি স্থগিত করে আইএমএফ।

 

নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের বিকল্প ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনজুরুল হক জানান, শর্তাবলির আলোকেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। 

 

আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন ওয়াশিংটনে জানান, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা এই সরকারের উচিত রাজস্ব আদায় বাড়ানো, অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট চালু, করছাড় বাতিল এবং ব্যাংক খাতের সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। বিপরীতে সরকার স্পষ্ট করেছে, গণপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার হিসেবে জনস্বার্থ ও নির্বাচনি ইশতেহারবিরোধী চাপিয়ে দেওয়া শর্ত মানা সম্ভব নয়।

 

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন জানান, আইএমএফের মূল শর্ত ছিল কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো ও রাজস্ব সংস্কার, কিন্তু বাস্তবে অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা পুনর্বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, জনগণের ম্যান্ডেট অক্ষুণ্ন রেখে বহুপক্ষীয় সংস্থার সঙ্গে নিজেদের স্বার্থরক্ষা করে আলোচনা চলছে। ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ গোপন করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, জোরপূর্বক নয়, নিজেদের উদ্যোগে ব্যাংক খাতের পুনঃমূলধন ও রাজস্ব বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

 

 

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ