ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাবিতে ডে'ঙ্গু'র প্র'কো'প, ১৯ দিনে আ'ক্রা'ন্ত ৪৯ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৯-০২ ১১:৪৭:৫৪
জাবিতে ডে'ঙ্গু'র প্র'কো'প, ১৯ দিনে আ'ক্রা'ন্ত ৪৯ শিক্ষার্থী জাবিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ১৯ দিনে আক্রান্ত ৪৯ শিক্ষার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। গত এক মাসে মাত্র ১৯ কর্মদিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ শিক্ষার্থীর শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করিয়েছেন ৪৮০ শিক্ষার্থী।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১৯ কর্মদিবসে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৮০ শিক্ষার্থী রক্ত পরীক্ষা করান। এর মধ্যে ৪৯ জনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। অর্থাৎ এ সময়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা শিক্ষার্থীদের প্রতি ১০ জনে একজনের বেশি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. শামসুল আলম বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর চাপ অনেক বেশি। সামনের দিনগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশা নিধনের প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার।

 

তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল মূলত মানুষের বসতবাড়ি ও এর আশপাশের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়। পানির ড্রাম, টিনের পাত্রসহ বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি এর অন্যতম উদাহরণ। উন্মুক্ত স্থানে ফগিং করে কিংবা শুধু পূর্ণবয়স্ক মশা নিধনের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

 

অধ্যাপক কবিরুল বাশার আরও বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে মশার প্রজননস্থলভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত এন্টোমোলজিক্যাল সার্ভেইল্যান্স বা মশা জরিপের মাধ্যমে কোথায় এবং কী পরিমাণে মশার প্রজনন হচ্ছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

এদিকে, ক্যাম্পাসে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম না হওয়ায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সপ্তাহে অন্তত একবার স্প্রে করা প্রয়োজন। কিন্তু সর্বশেষ গত জুনে ক্যাম্পাসে স্প্রে করা হয়েছিল।

 

তিনি বলেন, মশকনিধনের নতুন উপকরণ কেনার জন্য গত জুলাইয়ে বাজেট চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনা হবে এবং স্প্রে কার্যক্রম শুরু করা হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে মেডিকেল সেন্টারের উপদেষ্টা পরিষদ ও মশা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি সভা করা হবে।

 

তিনি বলেন, সভায় ডেঙ্গু দমনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ