ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ , ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে নিজ কলার দোকানে জামাতার কুড়ালের কোপে শ্বশুর নি'হত

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-২৯ ১২:১৬:৪৯
কালীগঞ্জে নিজ কলার দোকানে জামাতার কুড়ালের কোপে শ্বশুর নি'হত কালীগঞ্জে নিজ কলার দোকানে জামাতার কুড়ালের কোপে শ্বশুর নিহত
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ


বিকেলের ব্যস্ততা তখনো পুরোপুরি কাটেনি। জামালপুর কলাপট্টির নিজের কলার দোকানে বসে ছিলেন মজিদ মোড়ল (৬৫)। হঠাৎ একটি ট্রলি ব্যাগ হাতে সেখানে হাজির হন তার জামাতা মোজাম্মেল হোসেন ওরফে মুজা সরকার (৩৫)। ব্যাগের ভেতরে কী ছিল, তা বুঝে ওঠার আগেই বেরিয়ে আসে কুড়াল। মুহূর্তেই এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন মজিদকে।


রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলে ট্রলি ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যান মোজাম্মেল। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর কলাপট্টিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মজিদ মোড়ল জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আলতু মোড়লের ছেলে। তিনি কলা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন উত্তর জামালপুর সরকারপাড়া এলাকার মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে এবং মজিদ মোড়লের জামাতা।


পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মজিদের মেয়ে শাহানাজ বেগমের সঙ্গে মোজাম্মেলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, মোজাম্মেল নিয়মিত মাদক সেবন করে স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতন করতেন। এ কারণে একাধিকবার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন শাহানাজ। সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন মোড়ল বলেন, স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে আসার পরও মোজাম্মেল সেখানে গিয়ে এবং পথেঘাটে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। এ বিষয় নিয়ে তার বাবা মজিদ মোড়লের সঙ্গে মোজাম্মেলের বিরোধ আরও তীব্র হয়। নিহতের মেয়ে ও মোজাম্মেলের স্ত্রী শাহানাজ


বেগম বলেন, শুক্রবার বিকেলে তার বাবা দোকানে বসেছিলেন। এ সময় একটি ট্রলি ব্যাগ নিয়ে সেখানে আসেন মোজাম্মেল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যাগ থেকে কুড়াল বের করে বাবাকে কোপাতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে বাবা মাটিতে পড়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে ট্রলি ব্যাগ রেখেই মোজাম্মেল পালিয়ে যান। ঘটনার পর স্থানীয়রা মজিদ মোড়লকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। নিহতের ছোট ছেলে লিটন মোড়ল বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো.


জিয়াউর রহমান বলেন, মজিদ মোড়লকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ