বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম
বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন জ্যাকসন হোল সম্মেলনে তার বক্তব্যের দিকে। তার বক্তব্যে কঠোর মুদ্রানীতির পক্ষে অবস্থানের ইঙ্গিত মিলতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৮০ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৬৯৬ দশমিক ১৮ ডলারে উঠেছিল। এতে তিন মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় মূল্যবান ধাতুটির দাম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৩২ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে। স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন মনে করেন, কেভিন ওয়ারশের
বক্তব্যে কঠোর মুদ্রানীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এমন হলে স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আরও কমতে পারে। তবে দাম কমে গেলে সেটি স্বর্ণের বাজারের ক্রেতাদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও মনে করেন সিম্পসন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির প্রথম ধাপে যারা বাজারে প্রবেশ করতে পারেননি, তারা তখন নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে পারেন। এতে স্বর্ণের দাম আবারও ৫ হাজার ডলারের দিকে যেতে পারে। নজর এখন ফেড চেয়ারম্যানের বক্তব্যে বৃহস্পতিবার জ্যাকসন হোল সম্মেলনে ফেডের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর এক দিন আগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেডের প্রধান মূল্যস্ফীতি সূচক ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় মূল্যসূচক (পিসিই) জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। বাজারে এখন মূল নজর ফেড
চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের ভাষণের দিকে। বাজার বিশ্লেষকদের হিসাবে, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদ বা মুনাফা পাওয়া সম্পদ তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে স্বর্ণের দামে এখনো কয়েকটি বিষয় সমর্থন দিচ্ছে। বিনিময়-বাণিজ্যভিত্তিক তহবিল ও ফিউচার বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ কিনছে। এসব কারণে মূল্যবান ধাতুটির দাম এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ওসিবিসির মূল্যবান ধাতু কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, স্বর্ণের দামে কিছুটা স্থিতি আসা বা সংশোধনের ঝুঁকি রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে মূল্যবান ধাতুর বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা রয়েছে।
কমেছে রুপা, প্যালাডিয়াম ও প্লাটিনামের দাম শুক্রবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৮৫ ডলারে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৪৯ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দামও ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমেছে। চলতি সপ্তাহে প্লাটিনামের দাম কমার পথেই রয়েছে। এএম
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স