হবিগঞ্জে সারের সরবরাহ থাকলেও পাচ্ছেন না কৃষকেরা বাড়তি দামে বিক্রির অ'ভিযোগ
হবিগঞ্জে সারের সরবরাহ থাকলেও পাচ্ছেন না কৃষকেরা বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ
লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ জেলায় আমন মৌসুমে সারের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও কৃষকেরা নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দিলে ডিলারদের কাছ থেকে সার পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমন আবাদে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন কৃষকেরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৯২ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদে সারের চাহিদা ১৯ হাজার ৯৪০ টন। এর মধ্যে সরকার ১৮ হাজার ৩৬১ টন সার সরবরাহ করেছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, বাকি প্রায় ১ হাজার ৫৭৯ টন ঘাটতি থাকলেও এটিকে সার সংকট বলার সুযোগ নেই। কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার (২য় পাতায় দেখুন) ৩৫০, ডিএপি ১ হাজার ৫০, এমওপি ১ হাজার এবং টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কিন্তু অনেক ডিলার ইউরিয়া ১ হাজার ৫০০, ডিএপি ও টিএসপি ১ হাজার ৪৫০ এবং এমওপি ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন।
বানিয়াচংয়ের খাগাউড়া ইউনিয়নের কৃষক আওলাদ আলী জানান, ২৫ বিঘা জমিতে আমনের চারা রোপণ করেছেন। প্রয়োজনীয় ৮ বস্তা ইউরিয়া সার পেতে দুই দিন বিভিন্ন ডিলারের কাছে ঘুরেছেন। পরে এক ডিলারের কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনেছেন। জেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসির ইউনিয়নভিত্তিক সার ডিলার রয়েছেন ১৫৭ জন এবং খুচরা বিক্রেতা ৭৬৫ জন। কৃষি বিভাগের হিসাবে, ৮ হাজার ২০০ টন ইউরিয়ার চাহিদার বিপরীতে মজুত রয়েছে ৭ হাজার ৬৪২ টন। এছাড়া টিএসপি ২ হাজার ৬২৯, ডিএপি ৫ হাজার ৪১ ও এমওপি ৩ হাজার ৩০০ টন মজুত রয়েছে। ডিলারদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামে সার
বিক্রি করে যে লাভ থাকে, তা পরিবহন, শ্রমিক, দোকানভাড়া ও কর্মচারীদের খরচে চলে যায়। এ কারণে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দ্বীপ কুমার পাল বলেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। নির্ধারিত এলাকায় ডিলাররা ঠিকমতো সার বিক্রি করছেন কি না, তা তদারকি করা হবে। বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স