ঢাকা , শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলেমকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা করলেন আপন ভাতিজা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-২০ ১৬:৩৫:২০
আলেমকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা করলেন আপন ভাতিজা। আলেমকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা করলেন আপন ভাতিজা।
রানা ইসলাম বদরগঞ্জ রংপুর

রংপুরে বদরগঞ্জে দামোদরপুর ইউনিয়ন পূর্ব ঝাড়পাড়া গ্রামে সামসুল হক তার পরিবারকে ফাঁসাতে মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা করলেন আপন ভাতিজা শাহাদাত হোসেন এমন অভিযোগ করেন মাওলানা সামসুল হক। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শামসুল হক ও তার পরিবার। এছাড়াও এ মামলায় উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে মিজানুর নামে এক ইমামকে জড়ানো হয়েছে।

এবিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন ঘটনার দিন ১৫ জুন আমি বদরগঞ্জ শহরে অবস্থান করছিলাম।সেখানে দামোদরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জোবায়ের রাজা সঙ্গে একটি বিষয়ে কথা বলছিলাম। জানতে চাইলে বিএনপি নেতা রাজা বলেন,মিজানুর সত্য কথা বলছেন।।১৫ জুন রাতে ১২টা পর্যন্ত আমার সঙ্গে ছিল।এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা সাজানো মামলা। মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে গত ১৫ জন রাত ১১ টার দিকে শাহাদাত বাবা আবদুল মজিদ টয়লেটে যাওয়ার সময় মাওলানা সামসুল হক ধারালো অস্ত্র দিয়ে মজিদ কে মাথায় চোট মারে।

এছাড়াও তার ছেলে শহিদার রহমান মজিদ কে হত্যার উদ্দেশ্য গলায় পা তুলিয়া শ্বাস রোধ চেষ্টা করে।এছাড়াও মিজানুর রহমান মজিদ কে লাঠি ও হাত দিয়ে মারধর করে।তিনজন মিলে এক ব্যাক্তিকে এত নির্যাতন ও মারধর করার পরও আব্দুল মজিদ কে পরিপূর্ণ সুস্থ রয়েছেন বলে জানান মামলায় অভিযুক্তরা। এবিষয়ে সামসুল হক ও তার ছেলে বলেন,আমাদের পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

আমাদের পৈতৃক সূত্র পাওয়া জমি দখলের জন্য একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন থেকে উঠে পড়ে লেগেছে। এজন্যই মিথ্যা মামলা করেছেন। সরকারের কাছে ন্যায় বিচার দাবি জানাই। তারা বলেন,ঐ জমির অংশ আমাদের পৈতৃক সূত্র পাওয়া। তারপর তাদের হয়রানীর জন্য আমরা আদালতে ১৪৪ ধারা একটি আবেদন করি।যাহা বর্তমান আদালতে চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য ৩৫ বছর থেকে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে বসতবাড়িতে বসনাস করে আসছেন স্হানীয় এক মসজিদে ইমাম মাওলানা সামসুল হক ও তার পরিবার।মাওলানা সামসুল হক একজন বিনয়ী ও শান্ত স্বভাব সুলভ মানুষ।স্হানীয় গ্রামবাসী তাকে সবসময় শ্রদ্ধা সম্মান দিয়ে চলাফেরা করতেন।

মাওলানা সামসুল হক কারো সঙ্গে বিরোধে জড়াতেননা। সাদামাটা ভাবে পরিবার সন্তান নিয়ে পূর্ব ঝাড়পাড়া গ্রামে বসবাস করছেন। তিনি পৈতৃক পাওয়া সাড়ে ১৩ শতক শতাংশ জমির উপরে একটি ঘর গড়ে তোলেন । সেখানে তার জমির চাষাবাদের সব ধরনের ফসল রাখেন।গত এক বছর থেকে তার ভাতিজা শাহাদাত ঐ বসত ঘরের জায়গা নিজেদের অংশ দাবি করে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি ও হেনস্হা করছেন মাওলানা সামসুল হক ও তার পরিবারকে।বিষয়টি তিনি থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের পর কোন প্রতিকার পায়নি।

পরে তিনি আদালতে ১৪৪ ধারার একটি আবেদন করেন।বর্তমানে তা চলমান রয়েছে। কিন্তু শাহাদাত ও তার বাবা আবদুল মজিদ আদালত বিষয়টি চলমান থাকার পরও গত ১৪ জুন সামসুল হকের বসত ঘর ঘেঁষে গভীর গর্ত করেন আব্দুল মজিদ ও তার ছেলে শাহাদাত। যে কোন সময় তার বসতঘরটি ধসে যাওয়ার আশংকা করছেন পরিবারটি। ১৫ জুন সরজমিনে ঘটনাস্থলে যেয়ে দেখা যায়, বিশাল গর্ত করে বসত ঘরের নিচের ভিত্তি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।ঝুকিপূর্ণ মধ্যে পড়ে আছে ঘরটি। বৃষ্টি হলে বসত ঘরটি সম্পূর্ণ ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এবিষয়ে মাওলানা সামসুল হক বলেন,আমার ভাই ভাতিজা প্রতিহিংসা মূলক ভাবে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে আমার পরিবারকে ও বাড়িঘর নিয়ে।

তারা গভীর গর্ত করেছে ঘর ঘেঁষে যেকোনো সময় আমার ঘরটি ভেঙ্গে যেতে পারে। আমার ঘরে জমির ফসলসহ বিভিন্ন সংসারের জিনিসপত্র রয়েছে । আমি প্রশাসন কাছে এর বিচার দাবি করছি। সামসুল হক ছেলে সাইদুল ইসলাম বলেন, তারা পৈতৃক সূত্রে জমি পাবে সাড়ে ৪ শতক। কিন্তু তারা জোরপূর্বক দাবি করছেন ১৮ শতক।এজন্য তারা আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছেন।

স্হানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এটা অমানবিক কাজ। একজন আলেম মানুষকে এভাবে মিথ্যা মামলায় ফাসানো ঠিক হয়নি। তারা একের পর এক বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা ও হয়রানি করছে এই আলেম পরিবারকে। তাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি জানাই। অভিযোগের বিষয়ে শাহাদাত আলী বলেন,গত ১৫ জুন রাতে বাবা টয়লেটে যাওয়ার সময় তারা হামলা চালায় আমার বাবাকে আহত করে। সামসুল হক ও তার ছেলে আমার বাবার জমির প্রাপ্য অংশ দিচ্ছি না।এজন্য থানা পুলিশ দুই পক্ষকে ডেকে এর সঠিক সমাধান করে দিয়েছিল।কিন্তু সামসুল হক ও তার ছেলে সহিদার মানছেন না।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই তানভীর বলেন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের নামে থানায় মামলা করা হয়েছে। এখানে আমার কোন হাত নেই বা কোন উদ্দেশ্য নেই। তিনি আরো বলেন যদি তদন্তে তারা নির্দোষ প্রমাণিত হয় তাদেরকে চূড়ান্ত চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ