ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ , ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​১৪০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৩ জনেই ভারপ্রাপ্ত, ব্যাহত পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-১৮ ১৬:৪৬:৫৫
​১৪০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৩ জনেই ভারপ্রাপ্ত, ব্যাহত পাঠদান ​১৪০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৩ জনেই ভারপ্রাপ্ত, ব্যাহত পাঠদান

আব্দুল্লাহ আল নোমান 

ময়মনসিংহ ( ঈশ্বরগঞ্জ) প্রতিনিধি 


 ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১১ টি ইউনিয়ন  এবং একটি পৌরসভায় মোট  ১৪০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৩ টি স্কুল চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে ।এতে করে একদিকে যেমন স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের   পাঠদান কার্যক্রম অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কে পাঠদানের পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকগণ।

সরকারি  বিধিমালা অনুযায়ী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নূন্যতম ০৬ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও  ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাধীন বড়হিত ইউনিয়নের ১০ নং ভোলসোমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহ তিন  শিক্ষক দিয়ে।

  উপজেলার  কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে  কথা বলে ও সরজমিনে স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, ১০ নং  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে,  সাম্প্রতিক ডেপুটেশনে যোগদানকারি একজন সহকারী সহ কাগজে চারজন শিক্ষক  রয়েছেন । হারুন অর রশিদ নামের একজন আছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে। যিনি তার দাপ্তরিক কাজে প্রায়ই যেতে হয় উপজেলা পরিষদে। এরিমধ্যে শরিফুন্নাহার  নাহার নামের এক সহকারী শিক্ষিকা ১৩বছর ৭ মাস চাকরিজীবনের ৬ মাস মাতৃত্ব , চিকিৎসা ১৩ মাস ও ডেপুটেশন ৬ বছর মিলিয়ে মোট ৮বছর  ৭ মাস বিদ্যালয়ে না থাকায় কার্যত তিন'জন  শিক্ষক দিয়ে চলছে   ২৩৩ শিক্ষার্থীর  পাঠদান কার্যক্রম।গত ১৩ এপ্রিলে   মাহফুজা  খাতুন ,সরকারি পরিচালক ( পিলিসি ও অপারেশন ) স্বাক্ষরিত ফের   অনির্ধারিত সময়ের জন্য  বর্ধিত ডেপুটেশনের একটি অনুমোদিত অফিস আদেশ গত ১৫মে   উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে  সংগ্রহ করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ। 

হারুন অর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ে ৭ জন শিক্ষক থাকলেও তিনজন দিয়ে  চলছে ২৩৩ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম এরিমধ্যে দাপ্তরিক কাজে প্রায়ই তার উপজেলায় যেতে হয় , এসময় একজন  শিক্ষকের একসাথে দুইটি ক্লাস নিতে হয় এতে করে একদিকে একজন শিক্ষকের যেমন তার শৃঙ্খলা পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ নিতে হিমশিম খায় অন্যদিকে   এ অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য শিক্ষার্থীগন তাঁরা তাঁদের মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।

কেবল এ বিদ্যালয়েই নয় , এ উপজেলা ০৩ জন শিক্ষকের তিব্র সংকট নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন এমন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ০৫ টি ।  
রাউলেরচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (ভারপ্রাপ্ত )  প্রধান শিক্ষক জিয়া উদ্দিন বলেন, তার বিদ্যালয়ের ১৫২জন শিক্ষার্থীর এরমধ্যে শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র তিন জন।
দাপ্তরিক প্রয়োজনে প্রায়ই উপজেলায় যেতে হয়। এসময় একজন শিক্ষকের একইসময়ে একাধিক ক্লাস / পরীক্ষা সামালের পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষে শৃঙ্খলা ফেরাতে হিমশিম খেতে হয়। 

উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়,১৪০ টি প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ থাকলেও ৪৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে।
চলতি দায়িত্ব দায়িত্ব রয়েছে ৪১ , প্রধান শিক্ষক ৫৩ 
এবং সহকারী শূন্য পদ রয়েছে ০৫ জন ।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ বলেন, অত্র উপজেলায় চলতি দায়িত্বে  ৪১ এবং  ভারপ্রাপ্ত ৪৬ জন শিক্ষক সহ মোট ৮৭ জন শিক্ষকের পদ্দোনতি হলে এসব পদগুলো  কে  শূন্যপদ হিসাবে দেখিয়ে  উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট  প্রেরণ করা হবে। নিয়োগ হলে শিক্ষক সংকট থাকবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ