ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ , ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি-আমিরাত বিরোধের নেপথ্য কথা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-১৩ ১১:১৭:১০
সৌদি-আমিরাত বিরোধের নেপথ্য কথা সৌদি-আমিরাত বিরোধের নেপথ্য কথা
নিজস্ব প্রতিবেদক
সৌদি আরব একবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-নাহিয়ান পরিবারের এক রাজপুত্রকে ঘুস দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল, মরুভূমির একটি মরূদ্যানের দখল নেওয়া। ধারণা করা হচ্ছিল, সেখানে বিপুল তেলের মজুত আছে। কিন্তু সেই শেখ নিজের পরিবারের সঙ্গে বেইমানি করতে রাজি হননি, প্রত্যাখ্যান করেছিলেন সৌদির প্রস্তাব। এরপর সৌদি আরব সেই এলাকা দখল করতে আক্রমণ চালিয়েও ব্যর্থ হয়।

প্রয়াত সাংবাদিক ডেভিড হোল্ডেন তার ১৯৬৬ সালের বিখ্যাত বই ‘ফেয়ারওয়েল টু অ্যারাবিয়া’তে গত শতকের পঞ্চাশের দশকের সেই কিংবদন্তি ‘বুরাইমি বিরোধ’-এর কথা এভাবেই তুলে ধরেছিলেন। ওই লড়াই ছিল সৌদি রাজপরিবার, ওমান ও তৎকালীন ট্রুসিয়াল স্টেটসের মধ্যে। এই ট্রুসিয়াল স্টেটসই পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়।

হোল্ডেনের বর্ণনা অনুযায়ী, সৌদিরা যাকে ঘুস দিতে চেয়েছিল, তিনি ছিলেন জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান। তখন তাকে ‘বুরাইমির অধিপতি’ বলা হতো, তবে ইতিহাসে তিনি পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। আজ তার ছেলে, প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) সৌদি রাজপরিবারের আরেক সদস্য ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে এক তিক্ত লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছেন।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিক থেরোস বলেন, ‘আপনি যদি আদর্শ, পরিবার আর ইতিহাসকে এক সুতায় গাঁথেন, তবেই সৌদি-আমিরাত বিরোধের আসল কারণটা বুঝতে পারবেন।’ এই থেরোস যখন প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে পা রাখেন, তখন বুরাইমি বিরোধের উত্তাপ একেবারে টাটকা ছিল।

বর্তমানে লিবিয়ার মরুভূমি থেকে শুরু করে বিশ্ব জ্বালানি বাজার—সব জায়গাতেই সৌদি আরব আর সংযুক্ত আরব আমিরাত একে অপরের মুখোমুখি। কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই দেশের রেষারেষিই মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যখন ওই অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন এই বিভেদ আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি তেলের দামের মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ বা আমেরিকার সাধারণ মানুষের পকেটেও এর প্রভাব পড়বে।

চলতি মাসেই সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’ ছেড়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আবুধাবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এখন থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল বাড়তি তেল তুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের এক ভয়াবহ বাজার দখলের লড়াই বা ‘প্রাইস ওয়ার’ শুরু হতে পারে। ওপেক থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়াটা আসলে এই দুই দেশের গভীর ফাটলেরই একটা বড় প্রতীক।

 
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : nafizhasan889900@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ