ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হিজবুল্লাহর ফাইবার-অপটিক ড্রোন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-৩০ ১২:১২:২৪
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হিজবুল্লাহর ফাইবার-অপটিক ড্রোন ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হিজবুল্লাহর ফাইবার-অপটিক ড্রোন
নিজস্ব প্রতিবেদক
দক্ষিণ লেবাননের তায়েবেহ এলাকায় সংঘর্ষে নতুন এক ধরনের ড্রোন প্রযুক্তি ইসরাইলের বহু বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইসরাইলি দৈনিক ইয়েদিয়োথ আহরোনোথ (ইয়নেট)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, হিজবুল্লাহর ফাইবার-অপটিক ড্রোন ইসরাইলের উন্নত রাডার ও ইলেকট্রনিক জ্যামিং সিস্টেমকে অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর করে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আহত সেনাদের উদ্ধার করতে আসা একটি ইসরাইলি মেডিকেল ইভাকুয়েশন হেলিকপ্টারের দিকে আরেকটি ড্রোন দ্রুত এগিয়ে আসে। ইলেকট্রনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ায় স্থল সেনাদের অস্ত্র দিয়ে ড্রোনটি থামানোর চেষ্টা করতে হয়, যা মাত্র কয়েক মিটার দূরে বিস্ফোরিত হয়।

এই নতুন ধরনের ফার্স্ট-পারসন ভিউ (এফপিভি) ড্রোন সরাসরি ফাইবার-অপটিক কেবল দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়, যেখানে সাধারণ ড্রোনের মতো রেডিও বা স্যাটেলাইট সিগন্যাল ব্যবহার করা হয় না। এই কেবল ১০ থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো এটি জ্যাম করা যায় না, কারণ এতে কোনো ওয়্যারলেস সিগন্যাল নেই। হালকা ফাইবারগ্লাস নির্মাণের কারণে এগুলো রাডারে প্রায় অদৃশ্য থাকে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ড্রোনগুলো ইসরাইলের “ট্রফি” সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও পাশ কাটিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে, যা মূলত ট্যাংকের ওপর আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও শেল প্রতিহত করার জন্য তৈরি।

ইসরাইলি সামরিক সাংবাদিকদের বরাতে জানা যায়, কিছু সেনা ইউনিট এখন অস্থায়ীভাবে জাল বা নেট ব্যবহার করছে যাতে ড্রোন আটকে যায়, যদিও এটি কার্যকর সমাধান নয়।

একজন সামরিক কমান্ডারের ভাষায়, মাঠপর্যায়ে সেনাদের নির্দেশনা এখন সীমিতভাবে “ড্রোন দেখলে গুলি করো”—কারণ কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনো পূর্ণভাবে গড়ে ওঠেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ইউক্রেন যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে, যেখানে ফাইবার-অপটিক ড্রোন ব্যবহার বাড়ছে জ্যামিং এড়াতে।

তবে এই ড্রোনগুলোরও দুর্বলতা আছে—ঝড়, ভারী বৃষ্টি বা বাধার কারণে ফাইবার কেবল ছিঁড়ে গেলে ড্রোন অকেজো হয়ে যায়।

সব মিলিয়ে, কম খরচের এই প্রযুক্তি আধুনিক উচ্চ প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যেখানে শক্তিশালী রাডার থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধক্ষেত্রে আগাম শনাক্তকরণ ও প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : nafizhasan889900@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ