মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়াই নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার এবং চেম্বার খুলে প্র্তারণার দায়ে দুই ভুয়া চিকিৎসককে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পৌর শহরের মডেল মসজিদ সংলগ্ন এলাকা ও মিরুখালী রোডে পৃথক এই অভিযান চালানো হয়। আদালত পরিচালনা করেন মঠবাড়িয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের মডেল মসজিদের পাশে ইসমাইল মার্কেটে চেম্বার খুলে নিজেকে নিঃসন্তান দম্পতির চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আসছিলেন সুমাইয়া আক্তার। প্রকৃতপক্ষে তার কোনো মেডিকেল ডিগ্রি নেই। শুক্রবার রাত ৯টায় ওই চেম্বারে অভিযান চালানো হলে সুমাইয়া আক্তার তার দোষ স্বীকার করেন। এসময় ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে আগামীকালের মধ্যে ডাক্তার পরিচয় সংবলিত সব বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড অপসারণের লিখিত হলফনামা দেন তিনি।
এরপর রাত ১১টায় পৌর শহরের মিরুখালী রোডের ওরো ম্যাক্স ডেন্টাল কেয়ারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে মো: শাহাদাত হোসেন নামে এক ব্যক্তি বিডিএস ডিগ্রি ছাড়াই নামের আগে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে দন্ত চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহাদাত মানবিক বিভাগ থেকে দাখিল ও আলিম সম্পন্ন করেছেন। ভুয়া পদবি ব্যবহার করে জনসাধারণের সাথে প্রতারণার দায়ে তাকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্ব পালন করেন মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সৌমিত্র সিনহা।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন অনুযায়ী এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। সাধারণ মানুষকে চিকিৎসায় প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।