সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর নির্যাতনের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আশ্রয় পেলেন বৃদ্ধ দম্পতি
সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর নির্যাতনের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আশ্রয় পেলেন বৃদ্ধ দম্পতি
ক্রাইম রিপোর্টার মোস্তফা মিয়া রংপুর
মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”—এই মানবিক আহ্বান যেন আজও বাস্তবে অধরা। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহবুবা খানম সোমাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫নং মহদীপুর ইউনিয়নের সাতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে মাহবুবা খানম সোমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ বিষয়ে ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, পলাশবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ গঠিত হওয়ায় এবং মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।
জানা যায়, উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী মাহবুব ইসলাম দোলন ও তার স্ত্রী ৭০ বছর বয়সী হাসনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে নিজ ছেলে হাসানুর রহমান ও পুত্রবধূ সোমার নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার পর থেকেই তাদের ওপর অবহেলা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। এমনকি একাধিকবার তাদের ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি, অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য বাইরে গেলে সেই সুযোগে তাদের ব্যবহৃত লেপ-তোষক, কাঁথা- বালিশসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘর থেকে বের করে পানিতে ভিজিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ এবং পলাশবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধ দম্পতির থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।
এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ অভিযুক্ত ছেলে হাসানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষিকা সোমার বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং পারিবারিক মূল্যবোধ ও মানবিকতা রক্ষায় ইতিবাচক বার্তা দেবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স