ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৬ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-০৭ ১৫:১৪:০৯
৬ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী নিয়োগ ৬ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী নিয়োগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া সদর উপজেলার কৈচড় সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী নিয়োগে ছয় লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ লেনদেনের এ ঘটনা ফাঁস হওয়ায় নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অবৈধ নিয়োগের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মাদ্রাসার সভাপতি রেজাউল হক এবং সুপার লুৎফর রহমানের কর্মকাণ্ডে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা এ অনিয়মের শাস্তি দাবি করছেন।
 
এই নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে চাকরি না পাওয়া নাজির হোসেন নামের এক ব্যক্তি বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াজেদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর।

ভুক্তভোগী নাজির হোসেন বলেন, গত জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। আমি নিজেও একজন প্রার্থী ছিলাম। নিয়োগ পরীক্ষার তিন দিন আগে মাদ্রাসার সভাপতি রেজাউল হক ও সুপার লুৎফর রহমান আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তারা বলেন, যদি ৫ লক্ষ টাকা দাও, তাহলে তোমাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু আমি দিনমজুরের সন্তান। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত টাকা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় বলে আমি জানিয়ে দিই। তখন তারা বলেন, তাহলে পরীক্ষা দিয়েই লাভ কী যে টাকা দেবে তাকেই নিয়োগ দেওয়া হবে। পরে আমরা জানতে পারি, রাজু নামের এক ব্যক্তিকে ৬ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমার সঙ্গে হওয়া এই অন্যায়ের বিচার চাই। তদন্ত যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিন বলেন, মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপারের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে তারা অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে আসছেন। নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছেন। কোনো অনুষ্ঠান হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও অবহিত করা হয় না। বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়ে তারা লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তদন্তে এসব বিষয় বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছি।

অভিযুক্ত সভাপতি রেজাউল হক ও মাদ্রাসার সুপার লুৎফর রহমান বলেন, ছয় লক্ষ টাকা আমরা নিয়েছি। তবে নিয়োগপ্রাপ্ত রাজু নামের ছেলেটি মাদ্রাসার উন্নয়ন ফি হিসেবে এই টাকা দিয়েছে। এটি কোনো ঘুষ নয়, বরং দান। এই ছয় লক্ষ টাকার মধ্যে নিয়োগ বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধি ইসমাইল সাহেবকে প্রায় ১ লক্ষ টাকা সম্মানি দেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে প্রায় ১ লক্ষ টাকা সম্মানি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেরসহ আমরা কিছু সম্মানি নিয়েছি। বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।

তবে ডিজির প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন এবং তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের শুধু ন্যূনতম সম্মানি দেওয়া হয়েছিল। যে পরিমাণ টাকার কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মনগড়া, মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

এ বিষয়ে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, বগুড়া সদরের ফাঁপোর ইউনিয়নের কৈচড় সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ বাণিজ্য ও ঘুষ লেনদেনের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীরকে সদস্য করে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ