ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ , ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামের তিস্তার চরে ভুট্টার হাসি, আলুর ক্ষতি পোষানোর দাবি কৃষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-৩১ ০০:১২:৪২
কুড়িগ্রামের তিস্তার চরে ভুট্টার হাসি, আলুর ক্ষতি পোষানোর দাবি কৃষকের কুড়িগ্রামের তিস্তার চরে ভুট্টার হাসি, আলুর ক্ষতি পোষানোর দাবি কৃষকের
 
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
গেলবার আলুর আবাদ কইরা দাম না পায়া হামরা সর্বস্বান্ত হইছি। এবার লাভের আশায় তিন একর জমিতে ভুট্টার আবাদ করছি। অহন তরি আবাদ ভালা হইছে, আল্লাহ দিলে গেলবারের ক্ষতি পোষাইব।’ কথাগুলো বলছিলেন রংপুরের উলিপুরের জোয়ান সেতরা চরের কৃষক মোঃ ওসমান গনি। শুধু ওসমান গনি নন, তিস্তার বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলের শত শত কৃষক এখন আলুর পরিবর্তে ভুট্টার সবুজ ক্ষেতে নতুন দিনের সম্ভাবনা দেখছেন।
 
জোয়ান সেতরা, ইন্দুর মারা, রামনিয়াশা, গোড়াই পিয়ার, পানিয়াল, হাকডাঙ্গা ও দড়ি কিশোরপুর চরে গিয়ে দেখা যায় দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ। যে চরগুলো একসময় আলু চাষের জন্য বিখ্যাত ছিল, সেখানে এখন ভুট্টার আধিক্য। কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে আলু চাষ করে পানির দরে বিক্রি করতে গিয়ে তারা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েছেন। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতেই এবার চরের তিন শতাধিক হেক্টর জমিতে আগাম ভুট্টার আবাদ হয়েছে।
 
ইন্দুর মারা চরের কৃষক মোঃ বাদশা মিয়া জানান, ভুট্টা চাষে খরচ কম, কিন্তু লাভ বেশি। এর চাহিদাও বাজারে প্রচুর। এ ছাড়া ভুট্টার গাছ ও অবশিষ্টাংশ সারাবছর জ্বালানি এবং গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আগাম ভুট্টা ঘরে তুলে ওই জমিতেই আবার ধান চাষ করা যায়।
 
৩০ একর জমিতে ভুট্টার চাষ করেছেন মোঃ নূর ইসলাম। তিনি জানান, জমি ভাড়া ও চাষাবাদ মিলিয়ে তাঁর খরচ হবে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা। ফলন ভালো হলে ৫৪ লাখ টাকার ভুট্টা বিক্রির আশা করছেন। বাজারদর ভালো থাকে এবং মজুত করে বিক্রি করা যায়, তবে লাভের অঙ্ক আরও বাড়বে।
 
মোছাঃ মমিনা বেগম ও মোঃ রাশেদুল ইসলামের মতো ক্ষুদ্র চাষিরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার ফলন নিশ্চিত। তবে বীজ, সার ও বালাইনাশকের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সরকারিভাবে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করলে চরাঞ্চলের মানুষ ভুট্টা চাষে আরও বেশি আগ্রহী হতো।
 
উলিপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উলিপুরে ৯১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৯০০ হেক্টর। এখান থেকে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ টন ভুট্টা উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
 
উলিপুর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘চরের কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। আমরা তাদের অর্থকরী ফসল উৎপাদনে সবসময় উৎসাহিত করছি।’
 
উলিপুর কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘উলিপুর উপজেলার সিংহভাগ ভুট্টার আবাদ হয়েছে তিস্তার চরাঞ্চলে। কৃষকদের সঠিক সময়ে কৃষি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ায় গতবারের তুলনায় এবার ভুট্টার চাষ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ