ঈদে মিলনমেলা মহারাজার দিঘীতে, নজরদারির দাবি পর্যটকদের”
ঈদে মিলনমেলা মহারাজার দিঘীতে, নজরদারির দাবি পর্যটকদের”
মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুকিম রাজু
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়ন-এ অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মহারাজার দিঘী এখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে দেশের একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রে। প্রায় ৫৪ একর আয়তনের এই বিশাল দিঘী শুধু একটি জলাশয় নয়—এটি ইতিহাস, প্রকৃতি ও মানুষের মিলনমেলার এক অনন্য স্থান।
প্রকৃতির অপরূপ শান্ত সৌন্দর্য, চারপাশে সবুজ গাছপালা আর বিশাল জলরাশির নান্দনিকতা প্রতিদিনই টানছে দর্শনার্থীদের। স্থানীয়দের মতে, এই দিঘী শুধু পঞ্চগড় নয়, সারা দেশের জন্যই একটি সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠছে।
প্রতিবছর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এখানে বসে ঐতিহ্যবাহী মেলা। মেলায় গ্রামীণ সংস্কৃতির ছোঁয়া, লোকজ পণ্যের সমাহার, নাগরদোলা, শিশুদের কোলাহল—সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শুধু নববর্ষ নয়, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষেও এই দিঘী এলাকায় উপচে পড়ে মানুষের ভিড়।
এবারের ঈদুল ফিতরেও মহারাজার দিঘীতে ছিল হাজারো মানুষের ঢল। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা কাটিয়েছেন আনন্দমুখর সময়। শিশুদের হাসি, নৌকাভ্রমণ, চোরকি, অস্থায়ী দোকানপাট এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মিলিয়ে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয়েছিল এক বিশাল উৎসব প্রাঙ্গণে।
তবে আনন্দের মাঝেও উঠে এসেছে কিছু ভোগান্তির চিত্র। পঞ্চগড় সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের এই পর্যটন কেন্দ্রে আসা অনেক দর্শনার্থী অভিযোগ করেছেন, পথে বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি গ্রামের কিছু দোকানে খোলা বাজারে প্রতি লিটার তেলের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি নজরদারি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঠাকুরগাঁও থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ বলেন, “ইচ্ছা ছিল অনেকদিন ধরেই মহারাজার দিঘী দেখার। প্রথমবার এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। এত বড় দিঘী, চারপাশে গাছ—এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখিনি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মাহাবুর, যার বাড়ি অমরখানা ইউনিয়নে, তিনি বলেন, “সরকার যদি সঠিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন করে, তাহলে এই জায়গা ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম বড় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং দেশ-বিদেশে পরিচিতি পাবে।”
অমরখানা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু মায়েদ সরকার মুকুট বলেন, “মহারাজার দিঘী আমাদের এলাকার গর্ব। এখানে পর্যটকদের সুবিধার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, বিশ্রামাগার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি। প্রশাসনের সুদৃষ্টি থাকলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।”
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও মানুষের ভালোবাসায় গড়ে ওঠা মহারাজার দিঘী এখন এক সম্ভাবনার নাম। সঠিক পরিকল্পনা ও নজরদারির মাধ্যমে এটি হয়ে উঠতে পারে দেশের পর্যটন খাতের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স