র্যাব-৯ ও হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শাশুড়িকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ‘তামান্না আক্তার’ ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার
র্যাব-৯ ও হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শাশুড়িকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ‘তামান্না আক্তার’ ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক
র্যাব-৯ ও হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে
শাশুড়িকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ‘তামান্না
আক্তার’ ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই
বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ বিশেষ করে মাদক উদ্ধার, হত্যা মামলা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ,
জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা
পালন করে আসছে। এছাড়াও যে কোন ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলস
ভাবে কাজ করে যা”েছ।
টনার বিবরণে জানা যায় যে, ভিকটিম ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৬০) হবিগঞ্জ জেলার
নবীগঞ্জ থানাধীন মধ্যসমত এলাকার বাসিন্দা। ভিকটিমের এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। ছেলে
দুবাই প্রবাসী এবং দুই কন্যার বিবাহ হয়ে গেছে। ভিকটিম দুবাই প্রবাসী ছেলের বউ ০১নং
বিবাদী তামান্না আক্তারকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। ভিকটিমের দুবাই প্রবাসী ছেলের বিয়ের
সময় ০১নং বিবাদীকে ০৫ ভরি স্বর্ণলংকার দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিবাহের পর উক্ত স্বর্ণলংকার ভিকটিমের
হেফাজতে থাকার কারণে ০১নং বিবাদীর সাথে ভিকটিমের প্রায় সময় কথা কাটাকাটি ও মনোমালিন্য
হত।
টিকটক আইডির মাধ্যমে ০২নং বিবাদী শিপন মিয়ার সাথে ০১নং বিবাদীর পরিচয় হয় এবং তাদের
মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। উক্ত পরিচয়ের সুবাদে ০২নং বিবাদী অগোচরে ভিকটিমের বাড়িতে
এসে ০১নং বিবাদীর সাথে সাক্ষাৎ করত এবং ভিকটিমের ঘরে থাকা স্বর্ণলংকার ও টাকা পয়সা চুরি করার
জন্য উভয়ে পরামর্শ করত। এরই প্রেক্ষিতে ঘটনার দিন গত ১৫/০৩/২০২৬ তারিখ আনুমানিক রাত ২৩.৩০
ঘটিকার সময় ০২নং বিবাদী অজ্ঞাতনামা বিবাদীদের সাথে নিয়ে ভিকটিমের বাড়িতে আসলে ০১নং
বিবাদী ঘরের পিছনের দরজা খুলে দিলে বিবাদীরা বসত বাড়িতে প্রবেশ করে ০১নং বিবাদীর
সহযোগিতায় ভিকটিমের ঘরে ঢুকে তাকে ঘুমন্ত অব¯’ায় পেয়ে মুখ চেপে ধরার সময় ভিকটিম
ধস্তাধস্তি করতে থাকলে একপর্যায়ে তারা ভিকটিমের দুই হাত ও দুই পা কাপড় দিয়ে বেধে রাখে
এবং
চিৎকারের চেষ্টা করলে স্কচ টেপ দ্বারা মুখ আটকিয়ে গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে
ভিকটিমের ঘরে থাকা স্বর্ণলংকার ও টাকা পয়সা নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের ভাই উক্ত ঘটনার
সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের বাড়িতে এসে তার দুই হাত ও পা কাপড় দিয়ে বাধা এবং মুখ স্কচ টেপ দ্বারা
মুখ আটকানো মৃত দেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখতে পায়। অতঃপর উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদী
হয়ে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে আসামিদের
আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প,
হবিগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি যৌথ আভিযানিক দল অদ্য ১৭ মার্চ ২০২৬ খ্রি. তারিখ
আনুমানিক ভোর ০৫.১৫ ঘটিকার সময় হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানাধীন ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের
মধ্যসমত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার মামলা নং-২৩, তারিখ-
১৭/০৩/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩৮২/৩০২/৩৮০/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০; এর মূলে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শাশুড়িকে
শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ০১নং পলাতক আসামিকে ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে
সক্ষম হয়। গ্রেফতারক...ত আসামি- তামান্না আক্তার (২২), স্বামী- রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সাং-
মধ্যসমত পশ্চিম, থানা- নবীগঞ্জ, জেলা- হবিগঞ্জ।
পরবর্তী আইনি ব্যব¯’া গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারক...ত আসামিকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ
থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরি¯ি’তি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান
গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স