নির্মাণাধীন ভবনের প্রাচীর ধসে মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকাবাসীর ক্ষোভ
নির্মাণাধীন ভবনের প্রাচীর ধসে মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকাবাসীর ক্ষোভ
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারের পাশ্ববর্তী খাট্টা সাহাপুর নির্মাণাধীন একটি ভবনের প্রাচীর ধসে কেদার নাথ রায় নামে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৬মার্চ) বিকেলে সান্তাহার-নওগাঁ সড়কের পাশে খাট্টা সাহাপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কেদার নাথ ওই এলাকার বাসিন্দা এবং একটি জুট প্রেসের সাবেক ব্যবস্থাপক ছিলেন। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস ধরে এলাকায় সাবেক মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৃত বায়েজিতের মেয়ে মোছা. রুমা একটি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার কাজ যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।
ঘটনার দিন সকালে নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলার একটি প্রাচীর হঠাৎ ধসে প্রতিবেশীর একটি টিনের ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা কেদার নাথ গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এটি প্রথম ঘটনা নয় এর আগেও একই ভবন থেকে ইট পড়ে সোনাভান নামে এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। এছাড়া এক মোটরসাইকেল আরোহী অভিযোগ করেছেন, ভবনের বেরিয়ে থাকা বিম রাস্তা দিয়ে চলাচলে আমি মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি।
এলাকাবাসী জানায়, ভবনটি যে জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে তা পূর্বে বিহারি সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন ছিল এবং বর্তমানে সরকারি গেজেটভুক্ত জমি হিসেবে রয়েছে। প্রায় এক যুগ আগে স্থানীয় মসজিদ কমিটি নিয়মবহির্ভূতভাবে জমিটি বায়েজিতের নামে বন্দোবস্ত করে দেয়। এরপর সেখানেই চারতলা ভবন নির্মাণ শুরু হয়।
এদিকে ইউনিয়ন ভূমি অফিস একেবারে কাছেই থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মৃত কেদার নাথের ছেলে রঞ্জন কুমার জানান, প্রতিবেশীর নির্মাণাধীন ভবনে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রাচীর ধসে পড়ে তার বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিকে দায়ী করেন।
এ বিষয়ে ভবনের মালিক মোছা. রুমা ও তার স্বামী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নওগাঁ সদর মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ নিয়ামুল হক বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স